আরজি করকাণ্ডে এবার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ তিলোত্তমার বাবা। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবি জানাল পরিবার। নির্মল ছাড়াও তৃণমূল পরিচালিত পানিহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে জেরা ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানালেন তিলোত্তমার বাবা। আদালতে নিজের আবেদনে তিলোত্তমার বাবা বলেন, এই তিনজন মৃতদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত আটকাতে দ্রুত দেহ দাহ করার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শুনানির পর তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেফতারের নির্দেশ যাতে সিবিআইকে দেয় আদালত, এদিন সেই আর্জি জানানো হয়েছে তিলোত্তমার পরিবারের তরফে।
তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী বলেন, “আমরা ৩ জনকে হেফাজতে নিয়ে জেরার আবেদন করেছি। ঘটনার পর পরিবারের তরফে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করানোর চেষ্টা হয়েছিল। তখন এই তিন জন তিলোত্তমার দেহ হাইজ্যাক করেন। এই তিনজন পরিবারকে দিয়ে লিখিয়ে নেন যে সরকারের উপর পরিবারের ভরসা আছে। আমরা জানতাম সিবিআই দেশের সেরা তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু এই কেসের পর ভাবনা বদলায়।” সিবিআই আইনজীবী আদালতে বলেন, তিলোত্তমার পরিবারের তরফে নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও সোমনাথ দে’কে জেরা করে গ্রেফতার করার আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদন আদালত গ্রহণ করতে পারে বলে মনে হয় না। শুনানির জন্য আমাদের সময় দেওয়া হোক। দুই পক্ষের আবেদন শুনে আদালত জানায়, আগামী ৫ জুন পরবর্তী শুনানি হবে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট সকালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পড়ুয়া তিলোত্তমার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে। তিলোত্তমাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠে। আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছে যান সিপিএম এবং বিজেপির নেতা-নেত্রীরা। ময়নাতদন্তের পর ওইদিন সন্ধেতেই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশানে তিলোত্তমার দেহ দাহ করা হয়। নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করতে পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। শ্মশান দাহ সংক্রান্ত শংসাপত্রে সই ছিল সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। পানিহাটি পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন সোমনাথ দে। ওই ঘটনার কয়েকমাস পর ২০২৫ সালের মার্চে পানিহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান করা হয় তাঁকে। সেইসময় বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, প্রমাণ লোপাট করার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সোমনাথকে। তিলোত্তমাকাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে গেলেন তিলোত্তমার বাবা।





