RK NEWZ নতুন আলোর ছটা দেখা গেল নবান্ন। তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদা আলোয় সাজানো থাকত নবান্ন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন রূপ। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়ার কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী নবান্নে গিয়েছিলেন। দুই সিপি-র নেতৃত্বে নবান্ন চত্বর খতিয়ে দেখে পুলিশ। কোথায় কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নিরাপত্তা কী রকম থাকবে, যেখানে তিনি বৈঠক করবেন সেই সভাঘরের নিরাপত্তা কেমন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পুলিশ। তার পরে নবান্ন সভাঘরে অজয় এবং অখিলেশ নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকও সারেন। তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদা আলোয় সাজত নবান্ন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর রবিবার নতুন আলোর ছটা দেখা গেল। ইতিমধ্যে মহাকরণ গেরুয়া আলোয় সজ্জিত হয়েছে। কারণ, বিজেপি আগেই জানিয়েছে, তারা রাজ্য পরিচালনা করবে মহাকরণ থেকেই। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণের সংস্কারের জন্য হাওড়া শিবপুর এলাকায় নবান্নে রাজ্য সরকারের সদর দফতর তুলে গিয়েছিলেন। অনেকেই একে দেখেছেন পরিবর্তনের প্রতীক হিসাবে। ১৫ বছর পর পালাবদল হয়েছে। এ বার বিজেপি শাসনের সচিবালয় ফিরে যাচ্ছে মহাকরণের পুরনো অলিন্দেই। তবে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে নবান্নতেই। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পাঁচ মন্ত্রীর দফতর ভাগ করে দেওয়া হবে। তা ছাড়া পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে বলে খবর। নবান্নের একটি সূত্রে খবর, সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জ়োনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। সরকার বদলের পর রংবদল! নীল-সাদা রং বদলে গেরুয়া আলোকসজ্জায় সজ্জিত হল নবান্ন। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে সোমবার প্রথম বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগের রাতে নতুন রঙের আলোয় সাজানো হল নবান্ন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের অব্যবহিত পরে তৃণমূলের একের পর এক নেতা শীর্ষ নেতৃত্বকে তোপ দাগছেন। দলবিরোধী কাজ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েক জন শাস্তিও পেয়েছেন। কিন্তু ‘বিদ্রোহের’ খামতি নেই। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের নয়া মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। তাঁর দাবি, এখন অনেকেই দল বদলে বিজেপিতে নাম লেখানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু সকলকে নেওয়া হবে না। ৯ মে, শনিবার ব্রিগেডে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রিসভায় যে পাঁচ জন শপথ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজন দিলীপ। মন্ত্রী মনোনীত হওয়ার পরদিনই দিলীপ গিয়েছিলেন তাঁর বিধানসভা এলাকা খড়্গপুর সদরে। বস্তুত, প্রায় ৫০ বছর পর ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুর সেখান থেকে একজন মন্ত্রী পেয়েছে। সঙ্ঘের প্রচারক থেকে রাজনীতিতে পা দিয়ে এই খড়্গপুর থেকেই প্রথম জয় পেয়েছিলেন দিলীপ। কিছু দিন বিধায়ক, তার পর মেদিনীপুরের সাংসদ হয়েছেন। দিলীপ জানান, গত ৫০ বছরে তেমন কোনও কাজই হয়নি ওই এলাকায়। এ বার মন্ত্রী হিসাবে সেখানকার তো বটেই রাজ্যের উন্নতিকল্পে কাজ করতে পারবেন। পদযাত্রায় কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে দিলীপ বলেন, ‘‘এর আগেও এখানে জিতেছি। এ বার লড়াই ছিল, মানুষ উৎসাহের সঙ্গে জিতিয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে সকলে পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আমরা জিতেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বহু বছর পর খড়্গপুর মন্ত্রী পেয়েছে। এতে সকলে বেশি খুশি। নিজের বিধানসভায় এসেছি। মন্ত্রী হয়েছি। এ বার কিছু করার সুযোগ পাব। অনেক কাজ বাকি আছে। নতুন করে সব শুরু করতে হবে। ৫০ বছর ধরে কিছু হয়নি।’’ ঠিক এর পরেই দিলীপের মন্তব্য, ‘‘হারের পর অনেকেই বিজেপিতে আসার চেষ্টা করবে। কিন্তু সবাইকে নেওয়া হবে না।’’





