Thursday, May 14, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা! এতেই লুকিয়ে হার্টের রোগের কারণ, কী ভাবে স্বাস্থ্যরক্ষা এই সময়ে

দীর্ঘ মেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে বিশেষ নিয়ম মেনে চলতে হবে। সকালে ঘুম ভাঙা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া— সুস্থতার যাবতীয় চাবিকাঠি এই সময়ের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। আর তাই হার্টের মতো অঙ্গকে সচল, সুস্থ, সক্রিয় রাখার জন্য এই সময়ের মধ্যেই ছোটখাটো পরিবর্তন আনতে হবে। দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চললে হার্টের স্বাস্থ্যরক্ষা করা সম্ভব। কারণ, রোজের অভ্যাসের উপরেই হার্টের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। দীর্ঘ মেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য তাই সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে বিশেষ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিলেন ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী হার্টের চিকিৎসক সঞ্জয় ভোজরাজ। ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানালেন, সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কী ভাবে দিন কাটাচ্ছেন, তা-ই নাকি অনেক সময়ে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষমতা নির্ধারণ করে দেয়।

দিনের শুরুটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসক। ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়া বা সরাসরি চা-কফি খাওয়ার বদলে আগে গায়ে রোদ লাগানো জরুরি। যাতে মস্তিষ্ক শুরুতেই ব্লু-লাইট বা ক্যাফিনের সংস্পর্শে না আসে। আগে সূর্যালোকের ছোঁয়া লাগুক, তার পর বাকি কাজ। যাতে স্নায়ু শুরু থেকেই উত্তেজনার শিকার না হতে পারে। তার পর ক্যাফিনের বদলে আগে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। তা সে গ্রিক ইয়োগার্ট হোক বা ডিম অথবা প্রোটিনের স্মুদি, যা খুশি খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের বক্তব্য, খাবার যেমনই হোক, তা যেন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে সকাল সকাল। এর পরেই শরীরকে সক্রিয় রাখার পালা। অনেকেই ভাবেন, শরীরচর্চা মানেই এক ঘণ্টার জিম। কিন্তু হৃদ্‌রোগ চিকিৎসকদের মতে, হাঁটাহাঁটি, স্ট্রেচিং বা হালকা যোগাসনও হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত নড়াচড়া করলে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং মানসিক চাপ, তিনটিই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যাঁরা ডেস্কে বসে কাজ করার এই যাপনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ভাবে সতর্কবার্তা দিলেন চিকিৎসক। ৮ ঘণ্টার এই বসে থাকা হার্টকে নানা ভাবে রোগজর্জরিত করে তুলতে পারে। তাই দুপুরে খাওয়ার পর অবশ্যই হাঁটতে হবে। অন্তত ১০ মিনিটের হাঁটাও এখানে উপকারী হতে পারে। তা ছাড়া দুপুরের খাবারে থাকতে হবে প্রোটিন, সব্জি, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। আবারও হাঁটাচলা করা, সক্রিয় থাকাই আসল। প্রবল কায়িক শ্রম করতে হবে, তা নয়, সাধারণ যোগাসন অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি, বাড়ির কাজ করা বা পরিবারের ছোটদের সঙ্গে খেলাধুলো করা, এগুলিও শরীরকে চাঙ্গা রাখতে পারে। তার পর ৯টার মধ্যে রাতের খাওয়াদাওয়ার পালা শেষ করে ফেলা উচিত। হালকা খাবার রাখুন পাতে। আর কড়া আলো নিভিয়ে ঘরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিন। ফোনের থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন। ভাল এবং পর্যাপ্ত ঘুম হার্টকে ভাল রাখতে পারে। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও জোর দেওয়া হচ্ছে তাই। কারণ, দীর্ঘ দিনের স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল বাড়ায়, যা রক্তচাপ এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ, টানা ৬ মাস এই নিয়ম মেনে চললে পরিবর্তন চোখে পড়বেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles