RK NEWZ বিজেপি সরকারের শপথ নেওয়ার কমবেশি ৫২ ঘণ্টা আগে বাংলায় নৃশংস খুন। বুধবার রাত ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় কাছে ক্লোজ রেঞ্জ থেকে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে খুন করা হয়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। চার চাকার গাড়ি ও বাইকে চেপে এসে চন্দ্রনাথের স্করপিও আটকায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ির কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে একের পর এক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বায়ুসেনার প্রাক্তন জওয়ান চন্দ্রনাথ রথের। গুরুতর আহত তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও সিআইডি। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের খুনের তদন্তের জন্য এসটিএফ, সিআইডি এবং আইবি-কে নিয়ে গড়া হয়েছে এসআইটি। ঘটনায় ভিনরাজ্যের যোগ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘ দিন ধরে রেইকি করে নিখুঁত ছক কষে অপারেশন চালিয়েছে আততায়ীরা। কমবেশি এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথ-এর গতিবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশের সন্দেহ। কোন রাস্তা দিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন, কোন গাড়ি চড়েন, গাড়িতে কোথায় বসেন চন্দ্রনাথ রথ, সবই নজরল করেছিল আততায়ীরা। তাই চোখের পলকে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি ছুড়ে পালাতে পারে আততায়ীরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার সকালে যান সিআইডি আধিকারিকরা। আততায়ীরা কোন রাস্তা দিয়ে এসেছিলেন ও কোন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়, তা জানতে শুধু ঘটনাস্থল নয়, যশোর রোড, মধ্যমগ্রাম ও লাগোয়া অঞ্চলের সিসিটিভি-র ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ এলাকায় যে যে রাস্তা দিয়ে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ি গিয়েছিল সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা নিজে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলায় ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটির নম্বর প্লেট বদলে ফেলা হয়েছিল। মুছে ফেলা হয়েছিল চেসিস নম্বরও। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা এসেছিলেন ভিন রাজ্য থেকে। সুপারি দিয়ে আনা হয়েছিল শার্প শুটার। অত্যন্ত উচ্চ মানের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এ দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে করে চন্দ্রনাথ কলকাতার দিক থেকে মধ্যমগ্রামে যাচ্ছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঠিক কী ভাবে দুষ্কৃতীরা হামলা চালাল, তা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসছে। একটি সূত্রের দাবি, মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন দোহারিয়ার কাছে পুরোপুরি ফিল্মি কায়দায় চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড় করায় দুষ্কৃতীরা। তারপরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি ছোড়া হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। চার চাকার গাড়ি ও চারটি মোটরবাইকে অন্তত আট জন দুষ্কৃতী অকুস্থলে এসেছিল। পরপর গুলি চালিয়েই তারা সেখান থেকে পালায়। বাইকের নম্বর প্লেট ছিল না। দুষ্কৃতীদের মাথা হেলমেটে ঢাকা ছিল, যাতে তাদের চেনা না যায়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চারটি বাইকের মধ্যে এক বা একাধিক বাইক গাড়িটির সামনে এসে সেটিকে আটকায়। অন্য একটি বাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। চালকের বাঁ দিকের সিটে বসেছিলেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (৪২)। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার দোলতলা ও মধ্যমগ্রাম চৌমাথার মাঝে দোহারিয়া এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বোর্ড লাগানো একটি সাদা স্করপিও গাড়িতে কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রামের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন বায়ুসেনার প্রাক্তন জওয়ান চন্দ্রনাথ। মাঝরাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় তাঁকে। স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গুলিতে গুরুতর জখম হন গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও। রাতেই মধ্যমগ্রামে পৌঁছন শুভেন্দু। পৌঁছে যান শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিং, অগ্নিমিত্রা পল–সহ বঙ্গ–বিজেপির একঝাঁক নেতানেত্রী। রাতেই দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। দেখা হচ্ছে অকুস্থল ও আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ। এই ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ–এর ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। বারাসত পুলিশ জেলার এসপি পুষ্পা বুধবার রাতে জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরে বিপুল ব্যবধানে জিতে এসে বিজেপি নেতারা বারবার বলেছেন, কোনও ভাবে ভোট পরবর্তী হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। শুভেন্দুর পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার–সহ দলের সর্বস্তরের নেতৃত্ব দলীয় কর্মীদের বার্তা দিচ্ছিলেন, কোনও ভাবেই তাঁরা যেন হিংসার পথে না হাঁটেন। বুধবার নিজের জিতে আসা কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে গিয়েও শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘শান্তি রক্ষা করতে হবে। কোনও রকম হিংসার পথে হাঁটা যাবে না।’ নন্দীগ্রাম থেকে সোজা কলকাতায় ফেরেন শুভেন্দু। রাতেই এই ঘটনা ঘটে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, ‘চারদিকে তৃণমূলই তৃণমূলকে মারছে মাথায় গেরুয়া আবির লাগিয়ে। তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙছে। আজ ওরা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে গুলি করে খুন করল। যে বিরোধী দলনেতার উপরে এতবার আক্রমণ হয়েছে, তারপরে ভোটে হারার পরেও গুলি চালানো হলো তাঁর আপ্ত সহায়ককে। প্রাক্তন এয়ারফোর্সের জওয়ানকে এ ভাবে খুন করা হলো। এর থেকে মর্মান্তিক কী হতে পারে?’ যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনায় আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে। এক্স হ্যান্ডলে দলের পোস্ট— ‘আমরা মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের খুনের তীব্র নিন্দা করছি। একইসঙ্গে নিন্দা করছি বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে তিনজন তৃণমূল কর্মীর খুনের ঘটনারও। এই ঘটনায় কঠোরতম শাস্তির দাবি করছি। আমরা চাই, আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। গণতন্ত্রে হিংসা ও রাজনৈতিক খুনের কোনও জায়গা নেই।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক, খুবই নিন্দনীয়। পরিকল্পিত ভাবে এই খুন। অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া উচিত।’

এ দিন খুনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি সমর্থকরা দলে দলে ভিড় করতে থাকেন মধ্যমগ্রামে। যশোর রোড অবরোধ করে চলতে থাকে বিক্ষোভ। স্থানীয় বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষের নাম করেও ক্ষোভ উগরে দেন অনেকে। যদিও রথীনের বক্তব্য, ‘আমরাও এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত চাইছি।’ উত্তেজিত বিজেপি সমর্থকরা ডিজিপির গাড়ি আটকেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের দাবি, শপথগ্রহণের ঠিক আগে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। ক্ষোভের আগুন যাতে ছড়াতে না–পারে, সেজন্য বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এলাকায়। পরিকল্পনামাফিক হামলা। পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে করে চন্দ্রনাথ কলকাতার দিক থেকে মধ্যমগ্রামে যাচ্ছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঠিক কী ভাবে দুষ্কৃতীরা হামলা চালালো, তা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসছে। একটি সূত্রের দাবি, মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন দোহারিয়ার কাছে পুরোপুরি ফিল্মি কায়দায় চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড় করায় দুষ্কৃতীরা। তারপরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি করা হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। চারটি মোটরবাইকে অন্তত আট জন দুষ্কৃতী অকুস্থলে এসেছিল। পরপর গুলি চালিয়েই তারা সেখান থেকে পালায়। বাইকের নম্বর প্লেট ছিল না। দুষ্কৃতীদের মাথা হেলমেটে ঢাকা ছিল, যাতে তাদের চেনা না–যায়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চারটি বাইকের মধ্যে এক বা একাধিক বাইক গাড়িটির সামনে এসে সেটিকে আটকায়। অন্য একটি বাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। চালকের বাঁ দিকের সিটে বসেছিলেন তিনি। হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, নিহতের বুকের বাঁ দিকে দু’টি গুলি লাগে। সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি। মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আর বুদ্ধদেবের তিনটি গুলি লেগেছে। একটি বুকের ডান দিকে, একটি পেটে ও একটি ডান হাতে। তাঁর জ্ঞান ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কলকাতায় ইএম বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। ঠিক কত রাউন্ড গুলি চলেছে, তা রাত পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে ৬–১০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ। অন্য একটি সূত্রের দাবি, বাইকের পাশাপাশি অন্য একটি গাড়িতেও ছিল দুষ্কৃতীরা। সেই গাড়িটি চন্দ্রনাথদের স্করপিওর সামনে রাস্তা আটকে দেওয়ায় বুদ্ধদেব তাঁদের গাড়ি থামাতে বাধ্য হন। সেই সময়ে গাড়ির বাঁ দিক দিয়ে ওভারটেক করে মোটরবাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা পরপর গুলি চালায় স্করপিও লক্ষ্য করে। সন্দেহজনক গাড়িটিকে পুলিশ আটক করেছে। সেখান থেকে অবশ্য কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, অনেকক্ষণ আগে থেকে শুটাররা চন্দ্রনাথের গাড়িটিকে ধাওয়া করছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সুপারি কিলার লাগিয়ে পরিকল্পনামাফিক হামলা চালানো হয়েছে গাড়িতে। তবে সেটা শুধুমাত্র চন্দ্রনাথকে খুন করার জন্যই, নাকি ওই গাড়িতে শুভেন্দু থাকতে পারেন— এই ধারণা থেকে দুষ্কৃতীরা হামলা চালালো, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা গ্লক ৪৭এক্স পিস্তল থেকে গুলি চালিয়েছিল। এই পিস্তল কোনও সাধারণ দুষ্কৃতী যে ব্যবহার করতে পারে না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত। ফলে এর পিছনে বড় মাথা রয়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ রাতে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকেছিল, সেই গাড়িটি আমরা সিজ় করেছি। তবে তার নম্বর প্লেটটি নকল। সেই নম্বর প্লেট অনুযায়ী, গাড়িটি শিলিগুড়ির। কিন্তু, সেটা আসল নম্বর প্লেট নয়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা কিছু গুলির খোল এবং তাজা গুলি পেয়েছি। এর বাইরে এই মুহূর্তে আর কিছু বলতে পারব না। তদন্ত শুরু হয়েছে। মোটিভ ক্লিয়ার নয়।’
রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র চন্দ্রনাথ ২০০০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। বায়ুসেনায় শর্ট টার্ম সার্ভিসে কাজ করেছেন তিনি। সেনা থেকে অবসরের পরেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন। আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও চন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় থাকতেন। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর যাবতীয় কাজকর্ম দেখতেন তিনিই। বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর হয়ে যে ‘টিম’ কাজ করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ। ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “দোষীরা শাস্তি পাক। আমি মা, তাই চাইব না ফাঁসি হোক। আমি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাইছি।” চন্দ্রনাথের মৃত্যুর জন্য রাজ্যের বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল নেতাদের ‘গরম-গরম বক্তব্য’কে দায়ী করেছেন তিনি। চন্দ্রনাথের মা বলেন, “তখন শাসকদলের নেতারা গরম-গরম বক্তৃতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, চার তারিখের পর দিল্লির কোনও বাবা রক্ষা করতে পারবে না। সেটাই তাঁরা দেখিয়ে দিলেন।” রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়েছেন তিনি। চন্দ্রনাথের মায়ের কথায়, “নতুন সরকার যে গঠন করবে, তার কাছে অনুরোধ করব, আমার ছেলের মৃত্যুর শাস্তি হোক।” বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, চন্দ্রনাথ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি শুধু একজনের আপ্তসহায়ক। এ হেন চন্দ্রনাথকে হত্যার উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শমীক। শমীকের কথায়, “সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে।” বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, চন্দ্রনাথ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি শুধু একজনের আপ্তসহায়ক। এ হেন চন্দ্রনাথকে হত্যার উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শমীক। দু’দিন পরে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ পর্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন পশ্চিমবঙ্গে। সে কথা স্মরণ করিয়ে শমীকের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা দেওয়ার জন্যই কি এই হত্যা করা হল? না কি বিজেপির বুকে আঘাত করার জন্য এটি করা হল? শমীকের কথায়, “দুষ্কৃতীরা মঙ্গলগ্রহ থেকে এসে মারেনি। এত বড় যখন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, তখন স্থানীয় দুষ্কৃতীরা বা স্থানীয় (তৃণমূল) নেতারা জানত না, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিজে যে ভোটের পর থেকে দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিচ্ছেন, পুলিশকে দলীয় রং না দেখে পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ সবের পরেও চন্দ্রনাথের হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শমীক বলেন, “আমাদের কি ক্ষমতা নেই? সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে পারি, কথা বলতে জানি। কিন্তু তা-ও বলছি না, বলব না। এটাই আমাদের অবস্থান।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানান, শুভেন্দু যখন বুধবার রাতে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন, তখনও শুভেন্দু জানতেন না চন্দ্রনাথ নিহত। শুভেন্দু জানতেন, প্রচণ্ড রক্তপাত হচ্ছে চন্দ্রনাথের। ভেবেছিলেন, তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাবেন চিকিৎসার জন্য। শমীক বলেন, “আমি তাঁকে খবর দিলাম, চন্দ্রনাথ আর নেই। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাঁকে এই ইনফরমেশনটা দিতে হল। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটা বলার ভাষা আমার নেই।” বারাসত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলে দুষ্কৃতী এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ শমীকের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সমস্ত অপরাধীকে ভয়মুক্ত করে দিয়েছে। অপরাধীরা মনে করছে এটা স্বর্গরাজ্য। বারাসত-মধ্যমগ্রাম সীমান্ত থেকে খুব একটা দূরে নয়। বিভিন্ন ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে এখানে দিনের পর দিন। জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড তৈরির কাজ চলছে এই বারাসত-মধ্যমগ্রাম থেকে। ভারতের যে প্রান্তেই অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের সকলকেই জেরা করে জানা গিয়েছে— তারা কার্ড সংগ্রহ করেছে এই অঞ্চল থেকে।” শমীক বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভাবে পরিকল্পিত প্রতিহিংসাজনিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।” তাঁর আরও সংযোজন, দু’দিন পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান রয়েছে। তার জন্য ব্রিগেডে একটি বড় জনসমাগম হবে। সেটির কারণে এবং তদন্তের স্বার্থে তিনি এখন এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছেন না। এ প্রসঙ্গে শমীকের বক্তব্য, “কিছু বিষয়ে আমি একটু চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছি। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনী বিধি কার্যকর রয়েছে। তারা (কমিশন) বিষয়টি দেখুক। রাজ্যপালকেও অনুরোধ করব, তিনি বিষয়টি দেখবেন।” রাজ্যের নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে শমীকের বক্তব্য, তৃণমূলেরই একাংশ বিজেপির পতাকা ধরে তৃণমূলের অফিসে গিয়ে ভাঙচুর করছে। তিনি বলেন, “আমাদের যারা যুক্ত আছে, তাদের আমি আজ বিকেলে দল থেকে তাড়িয়ে দেব।” শনিবার বিজেপির শপথগ্রহণ সমারোহ রয়েছে ব্রিগেডে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আসার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই চন্দ্রনাথের হত্যার ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় শমীককে। তিনি বলেন, “আমি বেশি কিছু বলতে চাইছি না। মানুষের উপর ছেড়ে দিলাম। তাঁরাই বিচার করবেন। পশ্চিমবঙ্গবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা রয়েছে। গ্রহণে বা বর্জনে তারা চরমপন্থী। তার পরিচয় রাজ্যবাসী ২০১১ সালেও দিয়েছে, ২০২৬ সালেও দিয়েছে। অতীতে ১৯৭৭ সালেও দিয়েছে। পরিবর্তন যখন হয়, একটি নির্দিষ্ট আবেগ এবং রাজনৈতিক বোধের ভিত্তিতে হয়।” অন্য দিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন খড়্গপুর সদরের জয়ী বিজেপির প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। মমতাকে বিঁধে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে গুন্ডাদের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন, তার ফল সকলকে ভুগতে হচ্ছে।”
চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ঘটনাক্রম —
বুধবার রাতে কলকাতায় দলীয় কর্মসূচি সেরে ফিরছিলেন মধ্যমগ্রামের ফ্ল্যাটে
পুলিশের অনুমান পিছন থেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে ফলো করছিল দুষ্কৃতীদের বাইক
মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে এসে পৌঁছয় চন্দ্রনাথের গাড়ি, তখন রাত প্রায় ১১টা
অভিযোগ, তার পরেই একটি ছোট গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকে দাঁড়ায়
একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে চন্দ্রনাথের গাড়ি
চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ
পিছন থেকে গাড়ির বাঁ পাশে এসে দাঁড়ায় দুষ্কৃতীদের মোটরবাইক
গাড়ি থেকে নামে আর এক দুষ্কৃতী
কাচ বন্ধ অবস্থায় দুষ্কৃতীরা প্রায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে
চন্দ্রনাথের গাড়ির কাচ ভেদ করে গুলি ঢুকে যায়
হের একাধিক জায়গায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ। বুকে ও পেটে গুলি লেগেছে
গুলি লাগে চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরার গায়ে
রক্তে ভেসে যায় গাড়ি
স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা
সেখানেই চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন
গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
হামলার সময়ে যে বাইক ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ট্যাম্পার করা হয়েছে বলে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে আপাতত। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়ি ও বাইকে দুষ্কৃতীরা ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকার গাড়িটি বুধবার রাতেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ বার একটি বাইকও উদ্ধার করল পুলিশ। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় হত্যাকাণ্ডে একটি চারচাকার গাড়ি এবং দু’টি বাইক ব্যবহার হয়েছিল। চারচাকার গাড়িটি দিয়ে চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকানো হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, সেটি অকুস্থলে ফেলে রেখেই বাইকে চেপে পালিয়ে যান দুষ্কৃতীরা। এ বার ওই দু’টি বাইকের মধ্যে একটি বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। অপরটির খোঁজ এখনও চলছে। শুভেন্দু জানান, উদ্ধার হওয়া বাইকটি মধ্যমগ্রামের অকুস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে একটি জায়গা থেকে পাওয়া গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও অঞ্চলের কথা জানাননি শুভেন্দু। পুলিশ সূত্রেও এ বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে কিছু জানা যায়নি। চন্দ্রনাথের খুনের খবর পেয়ে রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ডিজি জানিয়েছিলেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। চন্দ্রনাথ যে গাড়িতে ছিলেন এবং আততায়ীদের ফেলে যাওয়া গাড়ি— দু’টির থেকেই বুধবার রাতে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা। ওই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তাতে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি রয়েছেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ডিজি প্রবীণ কুমারও ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বৃহস্পতিবার সকালে। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে গ্রামের বাড়ি হলেও চন্দ্রনাথ এখন থাকতেন মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার এক আবাসনে। বুধবার রাতে ওই আবাসনের অদূরেই তাঁর উপর হামলা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। চন্দ্রনাথ রথকে খুনের আগে এবং পরে ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের পরিভাষায় এই ধরনের তদন্তকে ‘কল ডাম্প’ বা ‘টাওয়ার ডাম্প’ বলা হয়। এই ব্যবস্থায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকার টাওয়ারে কোথা থেকে কার ফোন গিয়েছিল, তা ফোন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে জানতে চাইতে পারে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরার বেশ কয়েকটি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, খুনের ঘটনার আগে চন্দ্রনাথের গাড়ি যাচ্ছে। কিছুটা তফাতে থেকে পিছনে বাইক নিয়ে যাচ্ছেন দুই যুবক। ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরপ্লেট এবং ইঞ্জিন (শ্যাসি) নম্বর ভুয়ো। প্রাথমিক তদন্তে এমনই জানতে পেরেছে পুলিশ। বুধবার রাত সওয়া ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় আটকানো হয় চন্দ্রনাথের গাড়়ি। আচমকাই পিছন থেকে এসে চন্দ্রনাথের গাড়ির আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে ভুয়ো নম্বরপ্লেটের গাড়িটি। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, গাড়িটি শিলিগুড়ির আরটিও-তে নথিভুক্ত রয়েছে। শিলিগুড়িতে গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোসেফকে মাটিগাড়া থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিলিগুড়ির বাসিন্দা জোসেফ দাবি করেন যে, তাঁর গাড়িটি শিলিগুড়িতেই রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তার পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গাড়ির নম্বরপ্লেট নকল করে খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকি গাড়ি থেকে ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে শ্যাসি নম্বর। জোসেফ জানিয়েছেন, গাড়িটি বিক্রির জন্য তিনি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। মাটিগাড়া থানার পুলিশ গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে এলাকায় ঢুকেছিল গাড়িটি। বেশ কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সেটি। এমনকি রেকিও করা হয় চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনে। পুলিশের অনুমান, অনেক দিন ধরেই চন্দ্রনাথকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

চন্দ্রনাথ রথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরার শরীর থেকে বার করা হল গুলি। বৃহস্পতিবার সকালে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও এখন চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন। হামলার সময়ে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। চন্দ্রনাথের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গাড়িতে চন্দ্রনাথের সঙ্গে ছিলেন তাঁর চালক বুদ্ধদেবও। তাঁদের দু’জনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। মধ্যমগ্রামের ওই ঘটনাস্থল এখনও ঘিরে রেখেছে পুলিশ। রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। আপাতত কাউকে অকুস্থলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্রের খবর। পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার রাতে অকুস্থলে পৌঁছে যায়। যে গাড়িটিতে চন্দ্রনাথ ছিলেন, সেটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক আধিকারিকেরা। গাড়ির সামনের দিকে চালকের আসনে এবং পাশের আসনে— দু’জায়গাতেই রক্তের ছোপ রয়েছে। সেই দুই আসন-সহ গাড়ির ভিতরের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সকালের দিকে গাড়িটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভবানীপুরে মমতার পরাজয় এবং তাঁর আপ্তসহায়ক হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে, দাবি করলেন শুভেন্দু। চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক হওয়ার কারণেই খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে! এমনই দাবি করেছেন শুভেন্দু। বারাসত হাসপাতাল চত্বরে তিনি বলেন, “একটি নিষ্পাপ, শিক্ষিত, তরুণকে খুন করা হল কেবলমাত্র বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক বলে আর শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছে বলে। চন্দ্রকান্তের অপরাধের কোনও ইতিহাস নেই। ও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিল না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক হওয়ার জন্যই ওকে খুন করা হয়েছে।” চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ঠান্ডা মাথায় রেকি করে খুন করা হল। তদন্তকারীদের কাছে আমার প্রার্থনা, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বার করে আইনি পথে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।” বৃহস্পতিবার দুপুরে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন দুই বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো। বৃহস্পতিবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ডিজি শুভেন্দুকে জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত মোটরবাইকটি ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন যে, চন্দ্রনাথের চণ্ডীপুরের বাড়িতেও যাবেন তিনি। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কেরা সকলে রয়েছেন বলে জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, আমার কর্তব্য হল, চন্দ্রনাথের স্ত্রী-কন্যাসন্তানকে দেখা।”

এ বার নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতে শুরু করল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যায় ক্ষুব্ধ বিজেপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। এরই মধ্যে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ তোপ দাগলেন ‘পিসি-ভাইপো’র বিরুদ্ধে। তবে সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি তিনি। চন্দ্রনাথের খুনকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলেই মনে করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এটি একটি পরিকল্পিত, প্রতিহিংসাজনিত হত্যা বলে মত তাঁর। এ বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়িয়ে রাহুলের দাবি, ‘তৃণমূলের উচ্চস্তর’ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ গিয়েছিল। পরে তিনি বলেন, “আমরা তো বলছি তৃণমূল করিয়েছে। কিন্তু আপনি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে জনে জনে জিজ্ঞাসা করুন, প্রত্যেকে বলবেন, এটা পিসি-ভাইপোই করিয়েছে।” উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন রাহুলও। তবে একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। চন্দ্রনাথের খুনের নেপথ্যে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের হাত থাকতে পারে কি না, সে বিষয় প্রশ্ন করা হলে রাহুল বলেন, “স্থানীয় হোক বা যাই হোক, অর্ডার কে দিয়েছে? অর্ডার তৃণমূলের উচ্চস্তর থেকে এসেছে। যে ধরনের ভাড়াটে খুনিদের লাগানো হয়েছে, তারা অত্যন্ত দক্ষ। অর্থাৎ, এদের লাগাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়েছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এর সঙ্গে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে যে সন্দেহ মানুষ করছে, তা অমূলক নয়।” রাহুলের দাবি, তৃণমূলের একেবারে উপরের স্তর থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। এই পরিস্থিতিতে দলের নিচুতলার কর্মীদের সংযত থাকারও বার্তা দিয়েছেন রাহুল। পুলিশি তদন্তের উপরে আস্থা রাখার কথাও বলেছেন তিনি। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদের কথায়, পুলিশ এখন আর দলদাস নেই। তাই পুলিশ স্বাধীন ভাবে কাজ করবে বলেই মনে করছেন তিনি। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের উপরেই আস্থা রাখার জন্য দলীয় কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে, তাদের উল্টো করে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। উল্টো করে টাঙানোর কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন উল্টো করেই টাঙানো হবে। কিন্তু যা-ই হবে আইন মোতাবেক হবে।” চন্দ্রনাথ রথের দেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। বারাসত হাসপাতালের মর্গ থেকে দেহ বার করে এনে তোলা হয়েছে শববাহী গাড়িতে। বিজেপি সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথের দেহ চণ্ডীপুরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। হাসপাতালের বাইরে ভিড় করেছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামলাতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। হাসপাতালের বাইরে চন্দ্রনাথের দেহে মালা দিতে যান ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা বারাসত পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।
চন্দ্রনাথ রথের দেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। বারাসত হাসপাতালের মর্গ থেকে দেহ বার করে এনে তোলা হয়েছে শববাহী গাড়িতে। বিজেপি সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথের দেহ চণ্ডীপুরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। হাসপাতালের বাইরে ভিড় করেছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি সামলাতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। হাসপাতালের বাইরে চন্দ্রনাথের দেহে মালা দিতে যান ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা বারাসত পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “চন্দ্রনাথকে আমরা ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ বলি। ও বরাবরই অরাজনৈতিক। নিজাম প্যালেস থেকে ফিরছিল সোয়া দশটা নাগাদ ওর উপর চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এটার তদন্ত হবেই। সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।” সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করে রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য, “তৃণমূল প্রমাণ দিল তারা তৃণমূল। ভাই চন্দ্রনাথ রথ শুধু শুভেন্দুদার আপন ছিল না,আমাদের সবার আপন ভাই ছিল,মনে রেখো তৃণমূল।” রুদ্রনীলের এহেন বার্তায় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা উত্তরোত্তর বাড়ছে। কারণ তাঁর অভিযোগের তীর স্পষ্টতই শাসক দলের দিকে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা এখনও অধরা। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ভিন্ রাজ্যের সঙ্গে এই দুষ্কৃতীদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তারা অন্য রাজ্যে পালিয়ে গিয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দ্রনাথকে মধ্যমগ্রামে তাঁর আবাসনের কাছেই গুলি করে খুন করা হয় বুধবার রাতে। অভিযোগ, দু’টি বাইক এবং একটি চারচাকার গাড়িতে দুষ্কৃতীরা ছিল। সেই গাড়ি এবং একটি বাইক পুলিশ উদ্ধার করেছে। দু’টিতেই ভুয়ো নম্বরপ্লেট ছিল। চন্দ্রনাথের গতিবিধির খবরাখবর দুষ্কৃতীদের কে দিলেন, কেনই বা দিলেন, খোঁজ চলছে। চন্দ্রনাথের হত্যা পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে দাবি, বাড়িতে যাতায়াতের কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না চন্দ্রনাথের। প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন সময় বাড়়ি থেকে বেরোতেন বা বাড়ি ফিরতেন। বুধবার রাতে ওই সময়ে তিনি যে ওই জায়গাতেই থাকবেন, সেই সংক্রান্ত নিখুঁত তথ্য দুষ্কৃতীদের কাছে ছিল। ছ’ঘণ্টা ধরে চারচাকার গাড়ি নিয়ে এলাকায় রেকিও করা হয়েছিল। কে এই তথ্য দুষ্কৃতীদের দিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে কোথা থেকে, কার ফোন গিয়েছিল, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তা-ও দেখছেন তদন্তকারীরা। গাড়িতে ভুয়ো নম্বরপ্লেটের ব্যবহার আসলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি বাইপাসের ধারের হাসপাতালে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত তদন্তে বৈদ্যনাথের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া, কী ধরনের অস্ত্র খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকা এখনও থমথমে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা সেখানে মোতায়েন রয়েছেন। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা রাতেই নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনের দিকে চালকের আসনে এবং পাশের আসনে রক্তের দাগ ছিল।





