Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দোটানায় শুভেন্দু? ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামে কর্তব্য থেকে সরে যাব না!‌ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন

RK NEWZ দোটানায় শুভেন্দু। ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে দু’টি আসনের যে কোনও একটি থেকে পদত্যাগ করতে হবে। কোনটি থেকে পদত্যাগ করবেন, কোনটির বিধায়ক রয়ে যাবেন, সে সিদ্ধান্ত কিসের ভিত্তিতে হবে, নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসনে’ দাঁড়িয়েই বুধবার শুভেন্দু সে কথা জানালেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যেটা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমার মতামত যা-ই হোক, সেখানেই জানাব।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুজনকেই বলছি, আমি আমার কর্তব্য থেকে কিন্তু সরে যাব না। দু’টি কেন্দ্রের জন্যই আমার কর্তব্য আমি করব। বাকিটা আমার হাতে নয়।’’ শেষ পর্যন্ত দু’টি আসনেই জয়ী হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার দু’দিনের মাথায় নন্দীগ্রামে বিপুল জমায়েতকে সাক্ষী রেখে তিনি জানিয়েছেন, কোন আসনটি তিনি রাখবেন। শুভেন্দু এ বার ঈষৎ দোটানায়। নন্দীগ্রাম তৃতীয় বারের জন্য তাঁকে জেতাল। আর ভবানীপুরে প্রথম বার লড়লেন এবং জিতলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের শুভেন্দু কলকাতায় এসে মমতার নিজের পাড়ায় গিয়ে মমতাকে হারিয়ে দিচ্ছেন— এ ছবি খুব সাধারণ নয়। শুভেন্দু নিজেও সম্ভবত সে কথা সবচেয়ে ভাল বুঝেছেন। তাই বার বার ভবানীপুরবাসীকে ‘ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা’ জানাচ্ছেন। ‘ঘরের মেয়ে’ বা ‘পাড়ার মেয়ে’কে প্রত্যাখ্যান করে ভবানীপুরের জনতা যে ভাবে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে তাঁকে জিতিয়েছেন, তা-ও শুভেন্দুর কাছে মহামূল্যবান। নন্দীগ্রামকে বরাবর নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ বলেন শুভেন্দু। কারণ, নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা তাঁকে নজিরবিহীন রাজনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তা ছাড়াও তাঁর প্রথম বার সাংসদ হওয়াও যে তমলুক থেকে, নন্দীগ্রাম সেই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পরবর্তী মন্ত্রিসভায় শুভেন্দুকে শামিল করবেন। তার জন্য সাংসদ শুভেন্দু থেকে বিধায়ক শুভেন্দু হওয়া জরুরি ছিল। শুভেন্দু বিধায়ক হয়েছিলেন সেই নন্দীগ্রাম থেকেই। ২০২১ সালে ধুন্ধুমার নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের জন্য নন্দীগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলেন শুভেন্দু। তা-ও আবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে হারিয়ে। এ হেন জনপদকে তিনি যে নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ বলবেন, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্মরণীয় তারিখে শুভেন্দু নন্দীগ্রামে যান। যে কোনও ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানের দিনে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম স্পর্শ করে আসেন। সারা দিন তুমুল ব্যস্ততা থাকলে রাতে যান। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে যে দিন তাঁর নাম ঘোষিত হয়েছিল, জল্পনা সে দিন থেকেই শুরু হয়েছিল। ভবানীপুরে তিনি জিতবেন কি না, তা নিয়ে কিছু লোকের সংশয় ছিল। কিন্তু নন্দীগ্রামে যে তিনি জিতবেন, তা নিয়ে নিঃসংশয় ছিলেন সকলে। ফলে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্রেই তিনি জিতলে কোন আসন রাখবেন, কোনটি ছেড়ে দেবেন, তা নিয়ে নানা তত্ত্ব উঠে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles