Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তৃণমূলের ‘বেনোজল’ স্বাগত নয়! এখন কাউকে অন্য কোনও দল থেকে নেওয়া যাবে না! সর্ব স্তরে বার্তা বিজেপি নেতৃত্বের

RK NEWZ বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি আরও বেড়েছে। বিজেপির দাবি, দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ফোন পাচ্ছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ফোন পাচ্ছেন। পালাবদল ঘটে গিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে। তার অভিঘাতে দলবদলের প্রচেষ্টাও প্রবল। কিন্তু দলবদলু-স্রোতে নিজেদের ঘর-বারান্দা এখনই ভাসতে দিতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব। অতএব সংগঠনের সব স্তরে জরুরি বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। অন্য দল থেকে বিজেপিতে কাউকে যোগদান করানোয় ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে দেওয়া হয়েছে। যদিও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর দলের অনেককে বিজেপিতে যোগদানের জন্য ‘চাপ’ দেওয়া হচ্ছে। ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং মেদিনীপুর অঞ্চলে ভোটগ্রহণ হয়ে যাওয়ার পরেই বিজেপি-র জয়ের সম্ভাবনা সংক্রান্ত আলোচনা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল। নির্বিঘ্নে ভোট এবং তাতে ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়া আসলে শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘প্রত্যাখ্যানের ঝড়’ ওঠার ইঙ্গিত বলে অনেকে দাবি করেছিলেন। যদিও তৃণমূল সে দিন সন্ধ্যা থেকেই জোর দিয়ে দাবি করতে শুরু করেছিল, ভোটদানের হারে এই ‘ঝড়’ ওঠা আসলে এসআইআর সংক্রান্ত ‘হেনস্থা’র জেরে বিজেপি-কে প্রত্যাখ্যান করা। ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফাতেও বিপুল হারে ভোট পড়েছিল। সে দিন ভোট ছিল দক্ষিণবঙ্গের সেই অংশে, যে এলাকাকে গত ৩ মে পর্যন্তও তৃণমূলের ‘দুর্ভেদ্য ঘাঁটি’ বলে মনে করা হত। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হার প্রায় প্রথম দফার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিজেপি দাবি করতে শুরু করে, ‘পরিবর্তন’ হয়ে গিয়েছে। পক্ষান্তরে, মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করতে থাকেন, ২০০-র বেশি আসনে তৃণমূল জিতে গিয়েছে। শুধু ৪ মে ইভিএম খোলার অপেক্ষা।

মমতা-অভিষেকের সেই ‘আত্মবিশ্বাস’ তৃণমূলের সব স্তরে বিশ্বাসযোগ্য হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি নেতারা ফোন পেতে শুরু করেছিলেন। সে সব ফোন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মী, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলরদের। ৪ মে-র পর প্রয়োজনে হলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দরজা যাতে খোলা থাকে, সেই অনুরোধ সংবলিত ফোন। বিজেপি নেতাদের দাবি অন্তত তেমনই। দল জিতছেই এবং ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখছে বলে বিশ্বাস থাকলে তৃণমূল নেতারা এই সব ফোন করা শুরু করতেন না বলে বিজেপি নেতাদের দাবি। ভোটের ফল বলছে, মমতা-অভিষেকের সেই ‘আত্মবিশ্বাস’ হয় ‘বিভ্রান্তি’ ছিল অথবা কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার শেষ চেষ্টা ছিল। কারণ, ২০০-র বেশি আসন পাওয়া দূরের কথা, তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করতে পারেনি। উল্টে বিজেপি-ই ২০০ পার করে দিয়েছে!

এ হেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি আরও বেড়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনেকেই অবিলম্বে বিজেপিতে শামিল হয়ে যেতে চাইছেন। এই ‘স্রোত’ তথা ‘বেনোজল’ আপাতত রুখতে চায় বিজেপি। যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ক্রোধের কারণে রাজ্যবাসী বিপুল সংখ্যায় বিজেপি-কে ভোট দিলেন, রাতারাতি তাঁরাই বিজেপিতে ঢুকে পড়ে নতুন শাসকদলের ‘মাতব্বর’ হয়ে উঠলে জনতা বিজেপির উপর ক্রুদ্ধ হবে বলে পদ্মনেতারা মনে করছেন। তাই আপাতত তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে শামিল করানোর উপরে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছেন, ‘‘যোগদান করানো একদম বন্ধ! অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে আমরা সে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ তা হলে কি বিজেপিতে আর কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন না? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজনীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘‘কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন কি না, দল সে সব পরে স্থির করবে। কিন্তু আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না-যাওয়া পর্যন্ত সব যোগদান বন্ধ।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles