RK NEWZ ফলতায় অশান্তি আর অশান্তি! বিজেপি কর্মীদের উপর মারধরের অভিযোগে আবার উত্তপ্ত হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই বিধানসভা এলাকা। এ বার ঘটনাস্থল হাশিমনগর। সেখানে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয়পাল শর্মা হাজির হয়েছেন। অকুস্থলে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। ওই জায়গায় যাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানও। বিজেপির লোকজন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। হাশিমনগর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ তথা বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তার প্রতিবাদ করায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে কিছু লোকজন হামলা চালিয়েছেন। বিজেপির কর্মী এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফলতা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলে তারা। তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিজেপি দাবি তুলেছে, পুনর্নির্বাচনের। যদিও তৃণমূল বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ইসরাফিল সর্দার বলেন, ‘‘এই গন্ডগোলের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্কই নেই।’’ এর মধ্যে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল ঘটনাস্থলে হাজির হচ্ছেন। সব মিলিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। দ্বিতীয় দফা ভোটের শুরু থেকেই উত্তপ্ত ফলতা। বিশেষত পুলিশ পর্যবেক্ষক বনাম তৃণমূল প্রার্থীর ঠান্ডা যুদ্ধ দেখা গিয়েছে সেখানে। এর মধ্যে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা যায়, যে ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জানানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ফলতা বিধানসভারই ৩২টি বুথ। ফলতা, ডায়মন্ড হারবার এবং বজবজ বিধানসভা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।

গণনার আগে উত্তেজনা, জমায়েত, বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ছে কমিশন। কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা সব গণনাকেন্দ্রে জারি ১৬৩ ধারা। স্ট্রংরুমের ২০০ মিটার এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করল কমিশন। ৫ জন বা তার বেশি সংখ্যায় জমায়েত করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। গণনার আগে উত্তেজনা, জমায়েত, বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই নির্দেশ। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্ট্রংরুম চত্বরে ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ। করা যাবে না মিছিল, সভা, বিক্ষোভ, শোভাযাত্রা বা কোনও ধরনের জনসমাবেশ। পাথর, ইট বা ক্ষতিকর বস্তু বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমনকী নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনহীন কোনও সামগ্রী ওই ২০০ মিটারের মধ্যে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তবে ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য নয় বলেও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন ও পুলিশ। তাই গণনাকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ ও শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। ইভিএমে কারচুপি হতে পারে, এই আশঙ্কা করে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী হিসেবে ৮ টা নাগাদ নিজে পৌঁছে গিয়েছিলেন শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল অর্থাৎ স্ট্রংরুমে। ৪ ঘণ্টা পর রাত ১২ টা বেজে ৭ মিনিটে বের হন তিনি। তা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল হয় এলাকায়। তাই নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। এবার কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা সমস্ত গণনাকেন্দ্রে জারি করা হল ১৬৩ ধারা।




