RK NEWZ নিজেরই পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে বেরিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পুলিশের ভূমিকায়! ভোটগ্রহণ মেটার পরে এ বার স্ট্রংরুম বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তৃণমূলের ধর্না-বিক্ষোভ এবং বিজেপির পাল্টা জমায়েত নিয়ে সরগরম রইল উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্র। প্রথমে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। তার পরে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। প্রথম ক্ষেত্রে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজার পাশাপাশি হাজির ছিলেন বিজেপির দুই প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। দ্বিতীয় ঘটনায় ভবানীপুরের তৃণমূলপ্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ ববি হাকিম। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের শশী। তারই মধ্যে মমতা পৌঁছে যান সাখাওয়াতের স্ট্রংরুমে। গিয়েছিলেন ববিও! স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। এর পরে ভিতরে প্রায় চার ঘণ্টা কাটানোর পরে বাইরে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এমনকি পুলিশের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা সর্ব ক্ষণ নজরদারি করার নির্দেশ দেন। শৌচকর্মের জন্য বাইরে গেলে তাঁদের বদলে যেন অন্য লোক মোতায়েন থাকেন, তাও বলেন। জল ও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতেও বলেছেন তিনি। রাতে মমতা এবং অভিষেকের ছবি এবং তৃণমূলের প্রতীক সাঁটা একটি গাড়ি সাখাওয়াত গণনাকেন্দ্রের সামনে চলে আসায় সাময়িক উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়। স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির পাশাপাশি নিয়ম না মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কুণালের দাবি, তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভিতে স্ট্রংরুমের ভিতরে কয়েক জন ব্যক্তিকে ব্যালট নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখেছেন। যদিও কমিশনের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, আগেই ইমেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলির প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।
কুণাল-শশীর অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীনই ক্ষুদিরাম অনুশীলন দুই বিজেপি প্রার্থী চৌরঙ্গির সন্তোষ পাঠক এবং মাণিকতলার তাপস রায় সেখানে পৌঁছন। তাঁরা স্ট্রংরুমের সামনে তৃণমূলের জমায়েত নিয়ে আপত্তি তোলেন। সে সময় দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা অবস্থান চালানোর পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবস্থান তুলে নেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কুণাল জানিয়েছেন অবস্থান তোলার সময় তাঁরা চার দফা দাবিও জানিয়েছেন— ১. পোস্টাল ব্যালট যেখানে আছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। ২. সেই সিসি ক্যামেরার ভিডিয়ো বাইরের স্ক্রিনে দেখানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। ৩. বাইরে রাখা স্ক্রিনের সামনে প্রার্থীর প্রতিনিধিকে থাকতে দিতে হবে। ৪. পুলিশের তরফে কোনও বাধাদান করা হবে না। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়েছিল। তাদের তরফে আরও জানানো হয়, স্ট্রংরুমে বিদ্যুৎ সংযোগ রাখা যায় না। আইন মেনে তাই টর্চ নিয়ে কাজ চলছিল। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে গেলেন, সেই নিয়ে বিধিগত প্রশ্নও তুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল। মনোজের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ডিইও স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। বুধবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটগ্রহণের পরে ইভিএমগুলি স্ট্রংরুমে সিল করা রয়েছে। স্ট্রংরুমগুলি সিল করা এবং বন্ধ রয়েছে। ভিতরে সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে, তার ফুটেজ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বিধিবদ্ধ ভাবেই পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে সরকারি কর্মচারীরা ট্রেনিং সেন্টারে ভোট দিয়েছেন। সেই পোস্টাল ব্যালটগুলি জমা করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের তরফে স্মিতা আরও জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি ইভিএমের স্ট্রংরুম রয়েছে এবং একটি পোস্টাল ব্যালটের স্ট্রংরুম রয়েছে। বৃহস্পতিবার সারা রাজ্য জুড়েই বিধানসভা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছে। অন্য বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁদের দেওয়া হবে এবং তাঁদের সাতটি বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁরা নিয়ে নেবেন। তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা করিডরের মধ্যে বসেই পৃথকীকরণের কাজ করছিলেন। টর্চ লাইট নিয়ে এখনও সেই কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সব রাজনৈতিক দলকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ওই কাজ শুরু হবে। রিটার্নিং অফিসারদের আমরা বলেছিলাম প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টকে এই বিষয়টি জানাতে। তাই জানানো হয়নি এই অভিযোগ মিথ্যা।’’ রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ছিলেন মমতা। বাইরে বেরিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পুলিশের ভূমিকায়। জানালেন, রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাঁদের দোষ। পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তার পরেই তিনি অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালট ‘এ দিক ও দিক’ করা হচ্ছে। স্ট্রংরুমের বাইরেও সিসি ক্যামেরা রাখার দাবি তুলেছেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। সাখাওয়াত স্কুলের বাইরে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম কারচুপির ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক-ওদিক করছে। তাই এখানে এসেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়ে ছুটে এসেছি। তিন-চার ঘণ্টা থেকে গেলাম। এক জনকে বসিয়ে গিয়েছি।’’ তৃণমূল বার বার অভিযোগ করেছে ইভিএমে কারচুপি করা হচ্ছে। তার জবাবে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘‘হ্যাঁ সে জন্যই এসেছি। এক পাক্ষিক কাজ হচ্ছে।’’ মমতা স্ট্রংরুমে থাকাকালীন সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে তৃণমূলের একটি প্রচার ভ্যান এসে দাঁড়ায়। পুলিশ কেন সেটাকে ঢুকতে দিল এই অভিযোগ তুলে এবার বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।
২২৬ পেরিয়ে যাব, বিজেপি টাকা দিয়ে বুথফেরত সমীক্ষা দেখিয়েছে! সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন মমতা, ভিডিয়োবার্তা। রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই সন্ধ্যা থেকে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি, বিজেপি টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে ওই সমীক্ষার ফল দেখাতে বাধ্য করিয়েছে। এ রাজ্যে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসনে জিতবে বলে তিনি নিশ্চিত, জানিয়েছেন মমতা। রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই সন্ধ্যা থেকে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে পশ্চিমবঙ্গে। ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই সমীক্ষা নিয়েই মুখ খুললেন মমতা। ভিডিয়োবার্তায় তিনি রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যাঁরা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।’’ বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে এর পর মমতা বলেন, ‘‘আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।’’ ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং এখানকার পুলিশের বাহিনীর যৌথ অত্যাচার তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, ‘‘বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যাঁরা আমার হাতে ছিলেন না, তাঁরা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তাঁর শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।’’ বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন মমতা। দাবি ‘সত্যিটা’ বেরিয়ে এলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে। তা আটকাতে এই সমীক্ষা দেখানো হয়েছে। মমতার কথায়, ‘‘বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে ওরা শেষ খেলা খেলেছে। যাতে উল্টোপাল্টা বলে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আমার কাছে খবর আছে, শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে ওরা এটা করেছে।’’ ২০১৬ এবং ২০২১ সালের ভোটের ফলের আগে প্রকাশিত সমীক্ষার কথাও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বিশেষ নির্দেশ, ‘‘গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। রাত জাগুন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। কারণ, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই এটা অবহেলা করবেন না। আমি যত ক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না-বলব, তত ক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।’’ গণনার দিন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন মমতা। দাবি, টেবিলে যে ভোট গোনা হয়, যন্ত্রস্থ করার সময় তা বদলে দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের ভোট চালিয়ে দেওয়া হতে পারে বিজেপির নামে। প্রার্থী হিসাবে মমতা নিজেও গণনাকেন্দ্রে ‘হানা’ দেবেন বলে জানিয়েছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘গণনার সময় ঠায় বসে থাকবেন কেন্দ্রে। কাউকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য বা খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হলেও দু’মিনিটের বেশি নয়। এমন কাউকে ওই সময়ে বসিয়ে যাবেন, যিনি বিশ্বস্ত। টাকা দিয়ে যাঁকে কেনা যায় না।’’ কর্মীদের সকলকে শান্ত ও সংযত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলায় যাবেন না। গতকালও অনেক মারধর করা হয়েছে। ভাঙড়ে আমার কর্মীদের যে ভাবে পেটানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে, এর জবাব ওদের দিতেই হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে হবে না। আমরা ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকে অনুরোধ, গণনার সময় আমাদের ছেলের গায়ে বা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না।’’ কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ‘এজেন্ট’ হিসাবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ মমতার। দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপে এটা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘ভোট চলাকালীন উনি বললেন কী করে বাংলাটা ওঁর? উনি কি বাংলাকে চেনেন? বাংলার মাটিকে চেনেন? কাউকে চেনেন না।’’ গণনার দিন রাজ্যের সকল তৃণমূল প্রার্থীকে মাঠে নামার ডাক দিয়েছেন নেত্রী মমতা। জানিয়েছেন, তিনি জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফা ভাবে মার খেয়েছেন, তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তাঁরা এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে না-পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেড (তল্লাশি অভিযান) হয়েছে। আমি দু’দিন ঘুমোইনি।’’





