RK NEWZ প্রায় তিন ঘণ্টার বেশী সময়ের পর বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে বেরোলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসি কাণ্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। তাঁকে ফের ২২ জুন থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। মেসি কাণ্ডে অবশেষে হাজিরা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। ইতিমধ্যে তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। তৈরি হচ্ছিল গ্রেপ্তারির আশঙ্কা! এই পরিস্থিতিতে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন। তবে এদিন যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজিরা দিতে পারেন, সেই ইঙ্গিত বুধবার রাতেই শতদ্রু দত্ত দিতেছিলেন তাঁর সমাজমাধ্যমে। সেই মতো সকাল থেকেই থানার সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারই মাঝে গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে তদন্তের মুখোমুখি হলেন অরূপ বিশ্বাস। ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। অভিযোগ জানান থানায়। যেখানে শতদ্রু দাবি করেন, মেসি সফরের জন্য ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে গা জোয়ারি করে ২২ হাজার টিকিট অরূপ নিজেই নিয়েছিলেন। আর তা অন্যত্র বিক্রিও করা হয়েছিল। এমনকী মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকলও প্রাক্তন মন্ত্রী মানতে চাননি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অরূপ বিশ্বাসকে নোটিস পাঠায় পুলিশ। একবার নয়, তিনবার নোটিস দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতা। এই মামলায় ইতিমধ্যে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ পুলিশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। তবে তদন্তে সবরকমভাবে অরূপ বিশ্বাসকে সহযোগিতা করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। এরপরেই এদিনের হাজিরা। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিম। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় আগে থেকেই একটি নিয়ম ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথি থাকতে পারবেন না। কেবল তিনজন ক্যামেরা অপারেটরের থাকার অনুমতি ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢুকে পড়েন। তিনি এমন কিছু কাজ করেন, যা নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ ছিল না। অভিযোগ, ছবি তোলার সময় তিনি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার এবং তাঁর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে মেসির কাঁধ ও কোমরে হাত রাখার ঘটনাও ছিল। কেবল তাই নয়, মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও মেসির টিম তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবিতে ব্যাঙ্কে চিঠি ‘কোষাধ্যক্ষ’ অরূপের, দিদির ‘বিশ্বাস’ ভাঙলেন তিনিও? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের পর নতুন যে কমিটি গড়েছেন, সেই কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ পদে অরূপের বদলে এনেছেন শুভাশিস চক্রবর্তীকে। ফলে অরূপ আদৌ তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে নিজেকে দাবি করতে পারেন কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মেসি কাণ্ডে তিনি রীতিমতো বিপাকে। যে কোনও সময় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় আপাতত অন্তরালে। সেই অন্তরালে থেকেই বোমা ফাটালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি লিখলেন অরূপ। তার দাবি, দলে এখন চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে। এই পরিস্থিতিতে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিবাদ চলছে। ফলে কে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত দলের তহবিলের অপব্যবহার রুখতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হোক। HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় লেখা চিঠিতে অরূপ নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে। সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে স্পষ্ট নয়। তাই এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’ অরূপের সাফ কথা, যতক্ষণ না দলের কর্তৃত্ব সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ যেন অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন না হয়। এমনকী দলীয় দপ্তরে তাঁর সই করা যে চেকগুলি রয়েছে সেগুলির অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন অরূপ।
বিশ্বকাপ জ্বরে বুঁদ ফুটবলপ্রেমীরা। ভোরে অফিস থাকলেও রাত জেগে চলছে ফুটবল দেখার পালা। আমেরিকার কানসাস স্টেডিয়ামে মেসির হ্যাটট্রিক নিয়ে আবেগে ভাসছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। মেসির গোল নিয়ে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা। অনেকেই আবার এই প্রসঙ্গে খোঁচা দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। কৌতুকের সুরে বিধায়ক সজল ঘোষও তোপ দেগেছেন তাঁকে। বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “মেসি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন, ওঁর মাসতুতো ভাইকে। তুই এত কাতুকুতু দিয়েছিলি বলেই আমি তিনটে গোল দিতে পারলাম। হ্যাটট্রিক করতে পারলাম।” বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “মেসি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন, ওঁর মাসতুতো ভাইকে। তুই এত কাতুকুতু দিয়েছিলি বলেই আমি তিনটে গোল দিতে পারলাম। হ্যাটট্রিক করতে পারলাম।” তিনি আরও বলেন, “বাংলার সমস্ত মানুষ, বিশেষ করে যাঁরা রাজনীতি করেন না, যাঁরা রাত জেগে ফুটবল দেখেন, তাঁরা প্রত্যেকে চান অরূপ বিশ্বাস যেন বাড়ি না ফেরেন, তিনি যেন জেলে যান।” শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও এদিন অরূপ বিশ্বাসকে তোপ দেগে বলেন, “মেসির মতো গুণী লোকেরা ভালো কাজে হ্যাটট্রিক করে। অরূপ বিশ্বাসের মতো পাপীরা অপরাধের হ্যাটট্রিক করে।”
গত ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। অভিযোগ জানান থানায়। যেখানে শতদ্রু দাবি করেন, মেসি সফরের জন্য ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে গা জোয়ারি করে ২২ হাজার টিকিট অরূপ নিজেই নিয়েছিলেন। আর তা অন্যত্র বিক্রিও করা হয়েছিল। এমনকী মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকলও প্রাক্তন মন্ত্রী মানতে চাননি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অরূপ বিশ্বাসকে নোটিস পাঠায় পুলিশ। একবার নয়, তিনবার নোটিস দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতা। যদিও এই মামলায় ইতিমধ্যে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।
আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ পুলিশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। তবে তদন্তে সবরকমভাবে অরূপ বিশ্বাসকে সহযোগিতা করতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও তৃতীয় হাজিরা এড়িয়ে যান প্রাক্তন মন্ত্রী। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন। সাড়ে তিন ঘণ্টা টানা জেরা করা হয় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। আগামী ২২ জুন ফের তলব করা হয়েছে তাঁকে।





