RK NEWZ পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আড়ালে রাখা হলেও বাবার অসুস্থতা মেসির উপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাচে গোল করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেসিকে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে দেখা যায়। তা বাবাকে উদ্দেশ্য করেই। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে দেশকে জিতিয়েছেন লিওনেল মেসি। ১৭ মিনিটে এই দৃষ্টিনন্দন গোলে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে যান। বক্সে ঢোকার চেষ্টা না করে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকেই বাঁ-পায়ের জোরাল শট। গোলরক্ষক লুকার হাতে লাগলেও আটকাতে পারেননি। প্রথম গোলের পর তাঁর চোখে দেখা গেল জল। কেন কেঁদেছিলেন মেসি? নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ? গোলের পর কেন অঝোরে কাঁদলেন মেসি? অবশেষে জানা গেল সেই কারণ। প্রথম গোল করার পর ধরা পড়ে আবেগঘন মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখে জল দেখা যায়। কেন? ম্যাচের পর মেসি বলেন, “এর সঙ্গে ফুটবলের কোনও সম্পর্ক নেই। মাঝে কঠিন কয়েকটা দিন কেটেছে। কিন্তু গোটা দল, সব সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি যাতে ভালো থাকি, তার জন্য তারা সব সময় চেষ্টা করে।” তাঁর সংযোজন, “জীবনে যা যা ঘটেছে, তার জন্য আমি খুশি। আমি যা পেয়েছি, তা আমার কাছে সোনায় সোহাগা। আমি খুব উপভোগ করছি।” কিন্তু পরে জানা গেল পরে জানা গেল, এই কান্নার নেপথ্যে ছিল অনেক বেশি ব্যক্তিগত এক কারণ। আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আড়ালে রাখা হলেও বাবার অসুস্থতা মেসির উপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাচে গোল করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেসিকে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে দেখা যায়। অনেকের মতে, তা বাবাকে উদ্দেশ্য করেই। আর্জেন্টিনার রেডিও মিত্রেতে সাংবাদিক এদুয়ার্দো ফেইনমান জানান, মেসির কান্নার নেপথ্যে পেছনে তাঁর বাবার অসুস্থতা। তিনি বলেন, “বাবার জন্যই কেঁদেছে মেসি। ওর বাবা ভালো নেই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি অসুস্থ। আর এই সপ্তাহে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। মেসি এই বিষয়টি নিয়ে ভেতরে ভেতরে কঠিন মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্য সবার মতো সেও একজন মানুষ।” ৬৮ বছর বয়সি হোর্হে মেসিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুবিষয়ক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। যদিও পরিবার এখনও তাঁর রোগ সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি। মেসির ফুটবল জীবনের শুরু থেকেই ছায়াসঙ্গী ছিলেন তাঁর বাবা। কেবল অভিভাবক নন, কোচ, পরামর্শদাতা, এমনকী এজেন্ট ও বিজনেস ম্যানেজার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই কারণেই কিংবদন্তির চোখে জল ছিল। অসুস্থ বাবার জন্যই চোখ চিকচিক করে উঠেছিল লিওর।





