Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভোটের মুখে বাইক চলাচল নিয়ে নিষেধাজ্ঞায় বিভ্রান্তি! ভোট চলাকালীন আত্মীয়দেরও রাখা যাবে না বাড়িতে! কড়া কমিশন

RK NEWZ আগের অর্ডারে বেশ কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয় মানুষের মনে, তা স্পষ্ট করতেই সেই অর্ডারকে আরও ‘স্পেসিফিক’ করল কমিশন। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে বাইক চালানো নিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কী বলছে নতুন অর্ডার? ২০২৬-এর নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর গুচ্ছ গুচ্ছ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কমিশনের আগের অর্ডারে বেশ কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয় মানুষের মনে, তা স্পষ্ট করতেই সেই অর্ডারকে আরও ‘স্পেসিফিক’ করল কমিশন। অফিসযাত্রী ও ডেলিভারি বয়দের জন্য ছাড়:

সাধারণত ভোটের সময় বাইক ধরপাকড় নিয়ে নিত্যযাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ থাকে। তবে এবারের সংশোধিত নির্দেশিকায় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে কর্মজীবী মানুষদের।

১. ওলা, উবার-এর মতো অ্যাপ-ক্যাব বাইক পরিষেবা চালু থাকবে।

২. জোম্যাটো, সুইগি-র মতো ফুড ডেলিভারি বা কুরিয়ার সার্ভিসের বাইক চলাচলে কোনও বাধা নেই।

৩. সবচেয়ে বড় খবর হল, অফিসযাত্রীরা যদি বৈধ পরিচয়পত্র সাথে রাখেন, তবে তাঁরা নির্ঝঞ্ঝাটে বাইক চালিয়ে কর্মস্থলে যেতে পারবেন।

ভোটের দিনের নিয়ম:

ভোটের দিন সপরিবারে বাইকে চড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রেও শর্ত একটাই – শুধুমাত্র ভোটদান বা জরুরি চিকিৎসার কারণেই বাইক ব্যবহার করা যাবে।

পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নিয়ম প্রয়োগের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয় এবং পরিচয়পত্র যাচাই করে তবেই ছাড় দেওয়া হয়।

পুলিশি অনুমতি ও কড়াকড়ি:

যদি কারও ওপরের তালিকার বাইরে বিশেষ কোনও কারণে ছাড়ের প্রয়োজন হয়, তবে তাঁকে স্থানীয় থানা থেকে আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে। রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (পরিবহন) এবং সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশ কড়াকড়িভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

কী কী করা যাবে না?

র‍্যালি নিষিদ্ধ: ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো রকম বাইক র‍্যালি বা মোটরসাইকেল মিছিল করা যাবে না।

রাতের চলাচলে কোপ: ভোটগ্রহণের আগের দু’দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একমাত্র জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া এই সময়ে পথে বাইক নামানো যাবে না।

পিলিয়ন রাইডিং বা ডাবল রাইডিং: দিনের বেলা (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) বাইকের পিছনে কাউকে বসিয়ে যাতায়াত করা যাবে না । তবে স্কুল পড়ুয়াদের আনা-নেওয়া বা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে এতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি দফার ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। মূলত বাইক ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রুখতেই এই পদক্ষেপ।

বাংলায় ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য একটাই- সাধারণ মানুষ যেন কোনওরকম ‘সোর্স জ্যামিং’ বা রাজনৈতিক চাপের মুখে না পড়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের অন্দরমহলের ওপর নজরদারির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মদের দোকান বন্ধ এবং বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞার পর এবার বহুতল আবাসনগুলোতেও ‘বহিরাগত’ ফতোয়া জারি করল কমিশন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট চলাকালীন রাজ্যের বহুতল আবাসনগুলোতে শুধুমাত্র সেই বিধানসভা কেন্দ্রের নথিভুক্ত ভোটাররাই থাকতে পারবেন। কোনও আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব তো বটেই, এমনকি ভিন রাজ্য বা অন্য এলাকা থেকে আসা কেউ যদি সেখানে অবস্থান করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক আবাসনের ভেতরেই ভোটকেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্য়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একাংশ মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমন পদক্ষেপ জরুরি। তবে অন্য অংশের অভিযোগ, এটি সরাসরি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। প্রশ্ন উঠেছে, ভিন রাজ্য বা অন্য শহর থেকে পরিবারের কেউ বেড়াতে এলে তাঁরা কি এখন নিজের বাড়িতে থাকতে পারবেন না? তাঁদের কি হোটেলে গিয়ে উঠতে হবে? প্রশাসনের তরফে এই উদ্বেগের কোনও সদর্থক উত্তর মেলেনি, বরং জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিয়ম সবাইকে মানতে হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশকে প্রতিটি বহুতল আবাসনের ‘গেস্ট রেজিস্টার’ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নজরদারি নিশ্চিত করতে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি বা গেটে তল্লাশিও চালাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ২৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই দুই দফার নির্বাচনে কমিশনের এই ‘লৌহবর্ম’ কতটা কার্যকর হয় এবং বাংলার ভোট কতটা অবাধ হয়, এখন সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles