RK NEWZ শরীরচর্চার ভিডিয়ো মানেই তাতে আনন্দের আমেজ। প্রত্যেকটি মুহূর্তে ব্যায়াম করার সুখ চোখে পড়ে। কিন্তু সব সময়ে কি জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করায় এতই আনন্দ পান সকলে? সবই কি এতটাই সুন্দর, এতটাই সহজ? রোগা হওয়া বা ফিট থাকার এই যাত্রা যে সব সময়ে সুগম নয়, মানসিক ভাবে যে তা ক্লান্তিকর হতে পারে। অনেক সাধারণ মানুষই সহমত। শরীরচর্চা নিয়ে অনেকে যেমন গ্ল্যামার আর অনুপ্রেরণার কথা বলেন, আইরার অভিজ্ঞতা মোটেই ততটা সহজ বা আনন্দের নয়, বরং বাস্তবের কঠিন দিকটাই সামনে এনেছেন তিনি। সম্প্রতি আবার জিমে ফিরেছেন আইরা। আবার রোগা হওয়ার যাত্রা শুরু করেছেন। এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এই রুটিন থেকে কোনও প্রকার আনন্দ ছুঁতে পারছে না এখনও। বরং, প্রতি দিনই নিজেকে জোর করে জিমে নিয়ে যেতে হচ্ছে। শরীরচর্চা শুরু করার সিদ্ধান্ত যতটা সহজ মনে হয়, সেটাকে ধরে রাখা ততটাই কঠিন, এই সত্যটাই তিনি স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেছেন। যাঁদের কাছে শরীরচর্চা কষ্টকর, যাঁদের কাছে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা শাস্তির মতো, তাঁদের জন্য আইরার এই অকপট স্বীকারোক্তি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। শরীর নয়, মনকে টেনে নিয়ে যাওয়াটাই আদপে কঠিনতম কাজ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস ভেঙে গেলে আবার শুরু করা মানে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক লড়াইও। অনেক সময়ে শরীর সাড়া দেয় না, ক্লান্তি আসে, কখনও মন সাড়া দেয় না। আর তখনই ইচ্ছে করে সব ছেড়ে দিতে। কিন্তু সেই সময়েই আসল পরীক্ষা— নিজেকে বোঝানো, ধৈর্য রাখা এবং ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া। কোনও অজুহাত দেখিয়ে সপ্তাহে এক দিন জিম কামাই করেন। তার পরের দিন অজুহাত না থাকলেও এড়িয়ে যান। এই অবস্থায় নিজের সঙ্গে প্রবল লড়াই করতে হয়। তখন নিজেকে শাসন করা শুরু। জিম শেষ না করলে কাজে যাওয়ার অনুমতি দেন না। নিজের মতো নিয়ম বানিয়ে নিজেকে শাসন করা শুরু করতে পারেন আপনিও। তবেই ব্যায়াম শুরুর পর আনন্দ পাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন ধীরে ধীরে।

শরীর সুস্থ রাখতে ফাইবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভাবেন পেট ভরানো এবং পেট পরিষ্কার এই দু’টি এর মূল কাজ। তা কিন্তু নয়। বরং ফাইবার হল খাবারের সেই উপাদান, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পেট ভাল রাখা, হার্ট ভাল রাখা, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা, এমনকি ডায়াবিটিসের মতো জটিল রোগ দূরে রাখতেও সাহায্য করে। ডাল, শাকসব্জি, দানাশস্য, ফল— ফাইবার পাওয়া যায় নানা খাবারেই। কিন্তু সেই সব খাবারের মধ্যে উৎকৃষ্ট মানের কোনটি? কোন খাবার খেলে ফাইবার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে? চিকিৎসকেরা বলছেন, ফাইবারের দু’টি ধরন হয়, একটি দ্রবণীয়, অন্যটি অদ্রবণীয়। সলিউবল অর্থাৎ দ্রবণীয় ফাইবার জলে দ্রুত মিশে গিয়ে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এই ধরনের ফাইবার শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর এলডিএল-এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি রক্তে শর্করা মিশতে বাধা দেয়, ফলে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইনসলিউবল ফাইবার জলে দ্রবীভূত হয় না, এই ধরনের ফাইবার কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখে। পেট-সহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে দুই ধরনের ফাইবারেরই প্রয়োজন রয়েছে।
কোন খাবারে সবচেয়ে বেশি ফাইবার মিলবে
চিয়াবীজ: দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ২ চামচের মতো চিয়াবীজ রাখলেই ফাইবারের চাহিদা বেশ কিছুট পূরণ হতে পারে। ২ চামচ চিয়াবীজে ১০-১১ গ্রামের মতো ফাইবার মেলে। শুধু ফাইবার নয়, এই বীজ থেকে মেলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, পাওয়া যায় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ছাড়াও কিছু খনিজ।
তিসিবীজ: ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় রাখা যায় তিসির বীজও।২ টেবিল চামচ তিসির বীজে ৪-৬ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার মেলে। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং জরুরি খনিজে ভরপুর এই বীজ।
পেয়ারা: সলিউবল এবং ইনসলিউবল— দুই ধরনের ফাইবারেরই ভাল উৎস হল পেয়ারা। মাঝারি আকারের একটি পেয়ারায় ৬-৯ গ্রাম ফাইবার মিলতে পারে। ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর ফলটি। তা ছাড়া, এতে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে।





