RK NEWZ সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে ১৯৯৩ সালে মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে সময়ের নিয়মে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গড়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর বাম সরকারের বিরুদ্ধে একা মমতার দীর্ঘ লড়াই-মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি দখল। চলতি বছরও বিধানসভা ভোটের আগে শহিদ মিনারের সভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু একই জায়গায় শহিদ স্মরণের যে মঞ্চ তৈরি করেছে কংগ্রেস তাতে সেই মমতারই ছবি। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অস্বীকার করার ক্ষমতা নেই কংগ্রেসের। কারণ, দলের ব্যানারে সেই সময় কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও নেতৃত্বে ছিলেন মমতাই। পুলিশের লাঠির আঘাত সয়েছেন। কর্মীদের আগলেছেন। আজ, ৩৩ তম শহিদ দিবসে ১৯৯৩ সালের সেই ‘রক্তে রাঙানো’ দিনের স্মৃতি উসকে দিতে মঞ্চে তাই কংগ্রেসকে ব্যবহার করতে হয়েছে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই।

প্রতিবছর তৃণমূলের তরফে ধর্মতলার বুকে আয়োজন করা হয় একুশে জুলাইয়ের। এবারের ছবিটা একেবারে আলাদা। শহরের বুকে এবার শহিদ স্মরণে তিনটি মঞ্চ হয়েছে। একটি ‘মমতাপন্থী তৃণমূলে’র, একটি ‘ঋতব্রতপন্থী’দের। তৃতীয় মঞ্চটি কংগ্রেসের। এতগুলো বছর বিধানভবনেই শহিদদের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করত নেতৃত্ব। এবার তৃণমূলের দড়ি টানাটানির মাঝে বহু বছর পর খোলা আকাশের নিচে শহিদ স্মরণের সাহস দেখিয়েছে কংগ্রেস। এদিন মঞ্চজুড়ে দেখা গেল ৯৩-এর সেই আন্দোলনের নানা মুহূর্ত। অর্থাৎ সেদিনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। তবে হ্যাঁ, মমতাকে অস্বীকার করতে না পারলেও আক্রমণ করার সুযোগও হাতছাড়া করেনি কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের পুরনো ছবি ব্যবহার করে যে গ্যালারি করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে ২০০৩ সালের একুশে জুলাইয়ের ছবিও। দেখা যাচ্ছে, শহিদ স্মরণের মঞ্চে মমতার পাশে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর চেয়ারম্যান জর্জ ফার্নান্ডেজ। তাতে লেখা, ‘এটা শুধু অন্যায় না, পাপ।’ আসলে কংগ্রেসের ব্যানারে মহাকরণ ডাক দেওয়া হলেও একুশে জুলাইয়ের সেই অভিযানের পুরোটা জুড়েই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দল তৈরির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বরাবর শহিদ স্মরণের আয়োজন করা হলেও তা নিয়ে বারবার বিতর্ক হয়েছে। শহিদদের পরিবারকে ‘হ্যাইজ্যাক’ করার অভিযোগও উঠেছে। কারণ, সেদিনের গুলিচালনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৩ যুব কংগ্রেস কর্মীর। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, “আন্দোলন ইতিহাস যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনই মমতার নেতৃত্বে অভিযানে কংগ্রেসের কর্মীদের উপর সন্ত্রাস চলেছে সেটাও সত্য।” তবে এদিনের কংগ্রেসের মঞ্চই প্রমাণ করে দিল, একুশে জুলাই মমতারই। এদিন কংগ্রেসের শহিদ স্মরণের মঞ্চে ছিলেন শহিদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা বিকাশ। শহিদ মুরারি চক্রবর্তীর ভাই চিঠি দিয়েছেন শুভঙ্কর সরকারকে। তাঁরা লিখেছেন, “আপনার আমন্ত্রণে পরিবার হিসাবে অভিভূত। গত ৩৪ বছর দাদার হত্যার বিচার না হওয়ায় এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোনও শহিদ সমাবেশ অংশ নেব না। পরে নিশ্চয়ই আসব।”

২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার আগে গ্রেপ্তার অসিত মজুমদার। থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে চুঁচুড়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক তথা হুগলি জেলা মমতা তৃণমূলের সভাপতিকে। কী কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তা এখনও জানা যায়নি। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালে হুগলি থেকে তারামণ্ডলে মমতার সভায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অসিত। সেই সময় তার বাড়ির সামনে পুলিশ হাজির হয়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়, থানায়। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে আটক করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে গ্রেপ্তার তা এখনও জানা যায়নি। গত ৩০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার অভিযোগে প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় রাস্তা অবরোধ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার ও দলের কর্মীরা। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন অসিত। পুলিশ ওই বিক্ষোভ তুলতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। পুলিশকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে! ওই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। অসিত মজুমদার-সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অসিত মজুমদার, চুঁচুড়ার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা ও তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারপর জামিন পান। কিন্তু ফের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় অসিতকে। পরে জামিন পান। এবার ফের গ্রেপ্তার হলেন অসিত মজুমদার।




