RK NEWZ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে তোষামুদে কাজকর্মে লিপ্ত থাকতেন বলে অভিযোগ। হাওড়ায় দাগী আসামী বলে পরিচিত ও এমনটাই অভিযোগে অভিযুক্ত জালিয়াত মানস রায় গ্রেফতার! এবার হাওড়ায় ২ কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতির পর্দাফাঁস। ব্যাঙ্ক জালিয়াতির এক বড়সড় চক্রের হদিস পেল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। প্রায় ২ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে হাওড়ার এক ব্যবসায়ী ও তাঁর ভাইকে গ্রেফতার করল হোয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর প্রাতে আচমকা অভিযান চালিয়ে তাদেকে আটক করা হয়। ধৃত ব্যবসায়ীর নাম মানস রায় এবং তাঁর ভাইয়ের নাম তাপস রায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই এই ব্যাংক জালিয়াতি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। নিদৃষ্ট তথ্যর ভিত্তিতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে হাওড়ায় ওই ব্যবসায়ীর ডেরায় হানা দেয় হোয়ার স্ট্রিট থানার তদন্তকারী অফিসাররা। প্রায় ২ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই মানস ও তাপসকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাজনৈতিক যোগ নাকি ‘এআই’ কারসাজি? এই গ্রেফতারের পরই ঘটনার অন্য একটি দিক সামনে এসেছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। ধৃত ব্যবসায়ী মানস রারের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য এসেছে। ওই ব্যবসায়ীর ফেসবুক প্রোফাইলে বর্তমান বিজেপি সরকারের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর ছবি লক্ষ করা গিয়েছে। তবে, এই ছবিগুলো আসলে কি না এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, তা একনজরে স্পষ্ট করার জন্য খোঁজখবর চলছে বলে সূত্রের খবর। ছবিগুলি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ ধৃত দুই ভাইকে আপাতত নিজেদের হেফাজতে নিয়ে মারাথন জেরা গুরু করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

এই তদন্তের মূল লক্ষ্যগুলি হল: এই জালিয়াতির চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা চিহ্নিত করা। এই বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের প্রকৃত উৎস কী এবং সেই টাকার গন্তব্য কোথায় ছিল, তার রুট ম্যাপ খুঁজে বের করা। গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। পুলিশি জেরায় ধৃতদের কাছ থেকে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরসভার ভবন নির্মাণের নামে প্রায় ৪ কোটি ঋণ! হাওড়ার ধৃত ব্যবসায়ী, উদ্ধার দেড় কোটি নগদও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল হাওড়ায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক থেকে ভুয়ো নথি দেখিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন। পুরসভার ভবন নির্মাণের নামে ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠল হাওড়ার এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তাঁর দুই সহযোগী এবং তাঁকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, ভুয়ো নথি এবং নকশা দেখিয়ে তাঁরা ব্যাঙ্ক থেকে ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ে তা পরিশোধ করেননি। ধৃতের নাম মানস রায়। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল হাওড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়ার শৈলেন মান্না সরণিতে কয়েকটি সংস্থা খুলে অপরাধমূলক ষড়়যন্ত্র করছিলেন তাঁরা। হাওড়া পুরসভার ভবন নির্মাণের কথা বলে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ আদায় করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোয়েন্দারা রাতে চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার নন্দলাল চ্যাটার্জি লেনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালান। সেখান থেকে নগদ ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে ধরা পড়েন অভিযুক্তেরাও। অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এলাকায় বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন মানস। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকেছেন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গেরুয়া উত্তরীয় পরে নিয়েছিলেন মানস। একাধিক বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি দেখা গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘‘এই ধরনের লোকজনের বাড়বাড়ন্ত তৃণমূলের আমলেই। বিজেপি এ সব বরদাস্ত করে না। অপরাধ করলে শাস্তি হবেই।’’ বুধবারই ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করিয়েছিল পুলিশ। সেই সময়ে তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। আদালতে তদন্তের স্বার্থে তিন জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায় পুলিশ। আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
এই মানস রায়ের সঙ্গে বালিটিকুরী দাসনগরের দাগী আসামী সাগর সিং এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ। এই সাগর সিং এলাকার দাগী আসামী বলে অভিযোগ। দাসনগর চত্ত্বরে বেআইনি চোলাই মদের ব্যাবসা চালাতেন এই সাগর। বর্তমানে জমি মাফিয়ার হিসাবে কাজকর্ম করার অভিযোগ রয়েছে এই সাগরের বিরুদ্ধে বলে অভিযোগ। এই সাগরের সঙ্গে এক খুনের আসামীর যোগ আছে বলেও শোনা যাচ্ছে। তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ বলে সূত্রের খবর। মানসের সঙ্গে আরও দাগীদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।




