RK NEWZ ২০১০-এর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গিয়েছে স্পেন। সে বছর তারা ট্রফি জিতেছিল। এ বছরও জিততে মরিয়া। ফ্রান্সকে হারানোর পর সে কথা জানিয়ে দিলেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তিনি ২০১০-এর স্মৃতি ফেরাতে চান বলেও বার্তা দিয়েছেন। সেমিফাইনালে জয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত স্পেন। ইটালির নজির ছুঁয়ে ফেলেছে তারা। প্রথম ইউরোপীয় দল হিসাবে ইউরো কাপ এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জিতেছে তারা। ১৬ গোল করে সেমিফাইনাল খেলতে নামা ফ্রান্সকে মঙ্গলবার রাতে একটিও গোল করতে দেননি রদ্রি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা। দলকে নিয়ে ফুয়েন্তে বলেছেন, “দলের কাছে একটাই বার্তা রেখেছিলাম, আমরা বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি। কিন্তু ওদেরও বুঝিয়ে দিতে হবে যে ওরা বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলছে। ফুটবলারেরা দায়বদ্ধতা, একতা এবং নিজেদের প্রতিভা দেখিয়ে দিয়েছে। কঠিন বিষয়কে সহজ করে দেখিয়েছে। ওদের সেই প্রতিভা এবং খেলার প্রতি সঠিক মানসিকতা রয়েছে। সাজঘরে প্রত্যেককে হাসিখুশি দেখছি। গোটা দেশ আমাদের পাশে আছে। ২০১০-এর সেই মেজাজ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি আমরা। যারা ম্যাচে খেলতে পারেনি তারা ম্যাচের পর অনুশীলন করেছে। এতেই দলের চারিত্রিক দৃঢ়তা বোঝা গিয়েছে। আমার মনে হয়, সঠিক সতীর্থ বেছে নেওয়া খুব দরকার। না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমি জানি যে এই দলে যারা রয়েছে, শুধু ফুটবলারেরা নয়, বাকি সকলে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের পিছনে ধাওয়া করছে। প্রত্যেকের একই রকম আগ্রহ রয়েছে। আমরা খুব সাধারণ, দয়ালু মানুষ যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের আগে দলের স্বার্থ নিয়ে ভাবি।” ফুয়েন্তের মতে, স্পেনের সাফল্যের অন্যতম কারণ একই ধরনের মানসিকতা এবং ফুটবলারদের মধ্যে কোনও ‘ইগো’ না থাকা। সকলে একই মানসিকতা নিয়ে চলাতেই সাফল্য এসেছে।

এদিকে, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন এমবাপে, দোষ চাপালেন সতীর্থদের ঘাড়েও, ‘শেষ’ ম্যাচ জিতে উৎসর্গ করবেন কোচকে। বিশ্বকাপে ট্রফির দাবিদার হিসাবেই এগোচ্ছিল ফ্রান্স। তাদের সেই দৌড় থেমে গিয়েছে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে। মঙ্গলবার ০-২ হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। হারের দায় নিজের কাঁধেই নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। একইসঙ্গে দোষ চাপিয়েছেন সতীর্থদের ঘাড়েও। তাঁর দাবি, যে ভাবে খেলার কথা ছিল সে ভাবে খেলতে পারেননি। ম্যাচের পর এমবাপে বলেছেন, “আমার মনে হয় না যে ভাবে খেলতে চেয়েছিলাম সে ভাবে খেলতে পেরেছি। সে কৌশলগতই হোক বা টেকনিক্যালিই হোক বা সার্বিক পারফরম্যান্স। আপনি যদি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সে রকম খেলেন তা হলে কোনও দিন জিততে পারবেন না।” এমবাপে আরও বলেছেন, “আমরা চেয়েছিলাম বিপক্ষের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ করতে, যাতে ওরা খেলার গতি কমিয়ে দিতে না পারে এবং ম্যাচে ছন্দ খুঁজে না পারায়। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার বিচারে ওরা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে থেকেছে। আমরা সেই কাজে পুরোপুরি ব্যর্থ।” ফ্রান্সের অধিনায়কের মতে, মাঝমাঠ তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সেখানে শুরু থেকে দাপট দেখিয়েছে স্পেন। ফলে যখন ম্যাচের ছন্দ বা গতি নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তখন সেই কাজ ফ্রান্স করতে পারেনি। এমবাপে বলেছেন, “আমরা মাঝমাঠে তিনের বিরুদ্ধে দুই হিসাবে খেলেছি। স্পেনের বিরুদ্ধে সেটা বিরাট সমস্যার। সব মিলিয়ে যদি দেখি, তা হলে সেখানেই আমরা হেরে গিয়েছি। যে ভাবে পাস খেলেছি বা নড়াচড়া করেছি, তা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জেতার মতো নয় একেবারেই। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা আমাদের স্বপ্ন ছিল। দেশের মানুষের স্বপ্ন আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম আমরা। সেটা আর হল না।” বিশ্বকাপে এমবাপের আটটি গোল রয়েছে। তবে স্পেনের বিরুদ্ধে গোল করার মতো সুযোগই তৈরি করতে দেখা যায়নি তাঁকে। সতীর্থদের থেকে সে ভাবে বলই পাননি। এমবাপে বলেছেন, “এখন আমাদের মাথা উঁচু করে এই হার স্বীকার করতে হবে। আমার মতে, জিতলেও মাথা উঁচু রাখা উচিত। হারলেও মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়া উচিত। এই মুহূর্তে দলের প্রত্যেকে চরম হতাশ। আমরা কতটা লজ্জিত সেটা ভাষায় প্রকাশ করে বলা সম্ভব নয়। হয়তো মাঝেমাঝে মনে হবে আমরা রোবটের মতো আচরণ করছি। তবু আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আপাতত ছুটি কাটিয়ে জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখতে হবে। কারণ ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। এই ব্যর্থতা পিছনে ফেলে নতুন করে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।” এই বিশ্বকাপের পরেই ফ্রান্সের দায়িত্ব ছাড়ছেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। তৃতীয় স্থানের ম্যাচ জিতে তাঁকে বিদায় জানাতে চান এমবাপেরা। ফ্রান্সের অধিনায়ক বলেছেন, “ওঁর জন্য আর একটাই ম্যাচ পড়ে আছে। সেই ম্যাচে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। কারণ ওঁর এবং সমর্থকদের সেটা প্রাপ্য। এই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে চাই।”



