RK NEWZ সাংবাদিকতা, সংবাদ পাঠ, লাইভ রিপোর্টিং, সঞ্চালনা ও জনসংযোগের মতো পেশাভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তুলতে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্স ছাত্রছাত্রীদের কাছে হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে সরকারি চাকরির বাজার। প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। পরিবর্তে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি ঝুঁকছে তারা। তাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এখন জোর দিচ্ছে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি। এই লক্ষ্যেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজমের সার্টিফিকেট কোর্স ছাত্রছাত্রীদের অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে। কোভিডের পর সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাহিদা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। একদিকে চাহিদা এবং অন্যদিকে চাকরির নতুন দিশা দেখাতে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্সের অষ্টম ব্যাচের শংসাপত্র প্রদানের পাশাপাশি নবম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল। আলোচনাসভার প্রধান অতিথি ছিলেন কবি চিন্ময়কুমার দাস। তিনি জানান, ‘যত দিন যাচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজের জন্য সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকরাই সমাজের অন্যতম চালিকাশক্তি। কারণ সংবাদ মাধ্যমেই সমাজকে সতর্ক ও সচেতন রাখে। সম্প্রতি একটি বিষয় মাথাঝরা দিয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি কি সাংবাদিকদের জায়গা দখল করে নেবে? আমি বলব, মোটেই না। বরং প্রযুক্তি সাংবাদিকদের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে।’

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘সংবাদ যে এখন আমাদের জীবনের এবং সমাজের অন্যতম নিয়ন্ত্রা হয়ে উঠেছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। একটি সংবাদ পরিবেশনের এবং সম্প্রচারের উপায় নির্ভর করে সমাজের যেমন মঙ্গল হতে পারে তেমনি তা মানুষের মধ্যে দাবানল ছড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং সুষ্ঠুভাবে সংবাদ পরিবেশন শেখাটা অত্যন্ত জরুরি। যেটি বাংলা বিভাগ আয়োজিত সাংবাদিকতা কর্মশালায় নিয়মিতভাবে শেখানোর চেষ্টা চলছে।’ জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্সের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাইরে অসম, ত্রিপুরা থেকেও ছাত্রছাত্রীরা এই কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। কর্ম অনিশ্চয়তার যুগে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পাঠ, লাইভ সাংবাদিকতা, সঞ্চালনা, প্রতিবেদন রচনা ছাড়াও জনসংযোগ আধিকারিক পদে কর্ম সুযোগের নানান দিশা দেখাচ্ছে এই কোর্স।’ সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামশ্রী বিশ্বাস সেনগুপ্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সঞ্জিৎ মণ্ডল, ড. তুষার পটুয়া, ড. পীযূষ পোদ্দার, ড. সীমা সরকার প্রমুখ।





