Friday, June 12, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপ ফুটবলের ঢাকে কাঠি মেক্সিকোর অ্যাজটেকায়! শাকিরার নাচ, বার্না বয়ের গানে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

RK NEWZ শুরু হয়ে গেল ফুটবল বিশ্বকাপ। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকে কাঠি পড়ল বিশ্বকাপের। কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরার গান, নাচ এবং নাইজেরিয়ার পপ তারকা বার্না বয়ের গানে জমকালো হয়ে রইল অনুষ্ঠান। অবশেষে শুরু হয়ে গেল ফুটবল বিশ্বকাপ। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকে কাঠি পড়ল বিশ্বকাপের। কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরার গান, নাচ এবং নাইজেরিয়ার পপ তারকা বার্না বয়ের গানে জমকালো হয়ে রইল অনুষ্ঠান। ভারতীয় সময় রাত ১০.৩০টা নাগাদ শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরু হয় মেক্সিকোর রক ব্যান্ড ‘মানা’কে দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় জনপ্রিয় ‘ওয়ে মি আমোর’ গান গেয়ে মেক্সিকোর জনতার হৃদয় জিতে নেয় মানা। গোটা স্টেডিয়াম গাইছিল তাঁদের সঙ্গে।

এর পর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওসান মঞ্চে ওঠেন। তিনিও স্পেনীয় গান এবং তাঁর জমকালো পোশাকে মাতিয়ে দেন দর্শকদের। হলুদ জামা, সাদা মিনিস্কার্ট এবং চোখে রোদচশমা নিয়ে হাজির হন শাকিরা। সঙ্গে ছিলেন বার্না বয়। বিশ্বকাপের ‘থিম সং’ গেয়েছেন তাঁরা। স্টেডিয়াম ফেটে পড়েছে উল্লাসে। শাকিরা এবং বার্না বয়ের নাচ এবং গান মাতিয়ে দেয়। অনেকেই এই অনুষ্ঠানকে তুলনা করেছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের মূল ম্যাচ সুপার বোলে হওয়া অনুষ্ঠানের সঙ্গে। সেখানেও একটি অনুষ্ঠানে একাধিক তারকাকে হাজির করানো হয়। পর পর পারফর্ম করেন তাঁরা। এই বিশ্বকাপেও তেমন কিছুই করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একাংশের মতে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা পাওয়া যায়নি। এর চেয়ে বেশি কিছু করা যেত বলে মনে হয়েছে তাদের। তবে বিভিন্ন রং এবং স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার ব্যাপারে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টেক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পিছিয়ে পড়েও কামব্যাক! গতি আর স্ট্যামিনাতে চেকিয়ার প্রাচীর ভেঙে দুরন্ত জয় কোরিয়ার। জার্মানি, পর্তুগালের পর এবার হিট লিস্টের তালিকায় যোগ হল চেকিয়া। এক গোল পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। শেষ পর্যন্ত হোয়াং ইন-বমের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল কোরিয়া বাহিনী। গ্রুপ ‘এ’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ ২৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোয়াং ইন-বম এবং বদলি হিসেবে নামা ও হিয়ন-গ্যু। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। সন হিউং-মিন, লি কাং-ইন এবং হোয়াং ইন-বম বারবার আক্রমণে চেকিয়ার রক্ষণকে চাপে রাখছিলেন। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে অবধারিত ব্যর্থতা। প্রথমার্ধে সনের একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

পুরো ম্যাচে তিনি ০.৬৫ এক্সপেক্টেড গোল তৈরি করলেও স্কোরশিটে নাম তুলতে পারেননি। অন্যদিকে চেকিয়া ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিল সুযোগের। তাদের পরিকল্পনা ছিল উইং থেকে বল তুলে বক্সে পাঠানো এবং উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগানো। ৫৯ মিনিটে সেই পরিকল্পনাই সফল হয়। দীর্ঘ থ্রো এবং বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া জটলার সুযোগ নিয়ে লাদিস্লাভ ক্রেইচি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি দেখে তখন মনে হচ্ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য কাজটা কঠিন হতে চলেছে। চেকিয়ার লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ মিনিটে আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। মাঝমাঠে বল পেয়ে লি কাং-ইন দুর্দান্ত একটি থ্রু পাস বাড়ান। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হোয়াং ইন-বম প্রথমে গোলরক্ষক মাতেই কোভারকে টেনে বের করেন। তারপর ভারসাম্য ধরে রেখে চিপ শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। এগিয়ে যেতেই খেলার নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি কোরিয়ার হাতে চলে আসে।

চেকিয়া তখন প্রায় পুরো দল নিয়ে নিজেদের অর্ধে নেমে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত। মাঝমাঠে হোয়াং ইন-বমের দাপট ক্রমশ বাড়ছিল। ৬৯ মিনিটে সন হিউং-মিনকে তুলে ও হিয়ন-গ্যুকে নামান কোচ হং মিয়ং-বো। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ৮০ মিনিটে পাইক সিউং-হোর লম্বা পাস ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যান হোয়াং ইন-বম। তাঁর নিখুঁত ক্রস প্রথম ছোঁয়াতেই জালে জড়ান ও হিয়ন-গ্যু। মুহূর্তের মধ্যে উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। এর আগে ৭৮ মিনিটে টমাস সউচেকের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। শেষমেশ এটাই হয়ে ওঠে চেকিয়ার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। লিড নেওয়ার পরও স্বস্তিতে ছিল না দক্ষিণ কোরিয়া। ৮২ মিনিটে আদাম হ্লোজেকের কাছ থেকে বল পেয়ে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে শট নেন এক চেকিয়া ফুটবলার।

গোলরক্ষক কিম সেউং-গ্যু অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচান। অতিরিক্ত সময়েও চেকিয়া সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল। ৯৪তম মিনিটে দুরন্ত আক্রমণ গড়ে তারা। কিন্তু আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান কিম সেউং-গ্যু। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সেভেই নিশ্চিত হয় কোরিয়ার জয়। ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানও বিজয়ী টিমের পক্ষেই কথা বলছে। আরেকটি তথ্য নজরকাড়া। বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল কোরিয়া। ২০১৮ সালে জার্মানি, ২০২২ সালে পর্তুগাল এবং এবার চেকিয়া। গ্রুপ ‘এ’-তে তিন পয়েন্ট নিয়ে শুরু করল হং মিয়ং-বোর দল। চেকিয়ার সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ৷

বিশ্বকাপ খেলার আশা শেষ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এনডো। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। চোট পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল, সবই করেছি। তাই আমার কোনও আফসোস নেই। অবশ্যই এ বারের বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় আমি হতাশ। কাতার বিশ্বকাপের পর আমরা সকলে মিলে যে উন্নতি করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘কাতারে আমি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। আমরা সকলে মিলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে সফল করতে চেয়েছিলাম। এই দলটা সত্যিই দুর্দান্ত। আমার বিশ্বাস, ওরা দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেবে। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠবে। এমন কিছু উপহার দেবে, যা জাপানের সমর্থকেরা আগে দেখেননি। বিশ্বকাপ খেলতে পারব না। তাই জাতীয় দল থেকেও অবসর নিচ্ছি। এখন থেকে আমি জাপানের জাতীয় দলের সমর্থক। জাপান নিশ্চই এক দিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। এই বিশ্বাস অটুট রেখে সমর্থন করে যাব।’’ জাপান শিবির মনে করেছিল, এনডোর খেলতে সমস্যা হবে না। চোট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। ফিট হওয়ার পর অনুশীলন শুরু করেন। গত ৩১ মে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। সে দিনই অস্বস্তি অনুভব করেন। ওই ম্যাচের পর জাপান দলের মেডিক্যাল স্টাফেরা ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, বিশ্বকাপ খেললে তাঁর বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে আরও সময় লাগবে। তাঁরা ঝুঁকি নিতে চাননি। জাপানের অন্যতম দুই ভরসা কায়োরু মিতোমা এবং তাকুমি মিনামিনো চোটের জন্য বিশ্বকাপ খেলতে পারছেন না। কিছুটা বাধ্য হয়েই এনডোকে বিশ্বকাপের ২৬ জনের দলে রেখেছিলেন কোচ। তাঁকে অধিনায়কও করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এনডো ছিটকে যাওয়ায়, প্রথম ম্যাচের তিন দিন আগে নতুন অধিনায়ক বেছে নিতে হবে জাপানকে। আগামী ১৫ জুন নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জাপানের প্রথম ম্যাচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles