RK NEWZ তৃণমূলের ভাঙনে সরগরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দিল্লিতে রয়েছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মাঝে শুভেন্দুর দিল্লি সফর যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তৃণমূলের ভাঙনে সরগরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তার মাঝে সোমবার দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। বিশেষ করে আজই কেন্দ্র-রাজ্য সংহতির মধ্য দিয়ে সূচনা হবে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচি। প্রায় সাড়ে ছ’কোটি মানুষ এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। যদিও সেই কর্মসূচির বাইরে রাজনৈতিক আবহে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর। তৃণমূল সাংসদরা দল থেকে আলাদা হওয়ার জন্য দিল্লিতে জড়ো হয়েছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আছে বলে খবর। শুভেন্দুর সঙ্গেও তাঁদের আজ দেখা হতে পারে। পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হবে। বস্তুত, শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তৃণমূল পরিষদীয় দল ভেঙে ৫৮ বিধায়কের ‘নতুন তৃণমূল’ সামনে এসেছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন। কাউকে বিজেপিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাছবিচারের পক্ষপাতী নন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। তাঁর যুক্তি, “আমাদের কাছে সব ধরনের লোক আসবে। কেউ নিজের স্বার্থে আসতে চান। কিন্তু, একে নেওয়া উচিত, ওকে নেওয়া উচিত নয়, এরকম কোনও বার্তা দেওয়া ঠিক নয়। তাঁকে যোগ্য কার্যকর্তা বানানো বিজেপির দায়িত্ব। আমাদের সংগঠন এতটা মজবুত হওয়া দরকার যে, যিনিই আমাদের দলে আসবেন, তিনি আমাদের মতো হয়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন।” রাজধানীতে রাজনীতির সলতে আজ কোনদিকে পাকায়, সেদিকে নজর সকলের।
বাংলায় হিন্দু ঐক্যে জোর। নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারের সভা থেকে বাংলার সংগঠন মজবুত করতে বড় বার্তা বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের। তিনি সাফ বললেন, “একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না। সংগঠনকে মজবুত করতে সব হিন্দুদের একজোট করতে হবে।” দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে ছাব্বিশে। অবশেষে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। বাংলার রাশ গিয়েছে বিজেপির হাতে। এবার বঙ্গে সংগঠনকে আরও বড় ও মজবুত করতে মরিয়া পদ্মশিবির। তাঁরা চাইছে, বাংলার সব হিন্দুদের একত্রিত করতে। আর সেই লক্ষ্যেই নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারের সভা থেকে বড় বার্তা সুনীল বনশলের। ঠিক কী বলেছেন তিনি? এদিন বনশল বলেন, “একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না। হিন্দুদের কেউ যেন সংগঠনের বাইরে না থাকে। সব হিন্দুদের একত্রিত করতে হবে, এক ছাতার তলায় আনতে হবে।” তবে সংগঠনের জুড়ে ফেললেই যে কাজ শেষ নয়, এদিন সেকথাও বলেন বনশল। তাঁর কথায়, “সকলে যে সংগঠনকে ভালোবেসে আসবেন, তা নয়। কেউ নিজের স্বার্থেও বিজেপিতে আসার চেষ্টা করবেন। তাঁর চিন্তাভাবনা যেমনই হোক না কেন, আসার পর আমাদের সঙ্গে কাজ করতে করতে আমাদের বিচারধারা মেনে সারাজীবন যাতে কাজ করেন, তেমন করে তৈরি করে নেওয়ার দায়িত্ব বিজেপির।” সাম্প্রতিককালে একাধিকবার মোদি ও শাহের মুখে শোনা গিয়েছে, বাংলার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। আগামীতে পুরো পরিবেশ পালটে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই পরিস্থিতিতে বনশলের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সকলকে সংগঠনে যুক্ত করার অর্থ কোনওভাবেই দুর্নীতিগ্রস্তদের দলে জায়গা করে দেওয়া নয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই একটা ছাঁকনির ব্যবহার করা হবে। তবে মূল উদ্দেশ্য একটাই, বাংলার সমস্ত হিন্দুরা যেন এক ছাতার নিচে আসেন।





