Wednesday, June 10, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আম্পায়ারদের ‌বয়সের গরমিল ধরতে অভিনব উদ্যোগ ‘এসআইআর’! সিএবি সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্ত দুই নথিতে দু’রকম বয়স নিয়ে পদে?

RK NEWZ ক্রিকেট সংস্থায় আম্পায়ারদের ‘এসআইআর’। প্রক্রিয়ার নাম ‘এসআইআর’ নয়। বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার লোকজনরা নিজেরাই মজা করে সে নাম দিয়েছেন। প্রক্রিয়ার উদ্দেশ‌্যও আলাদা। এ আদতে আম্পায়ারদের বয়সের ছানবিন। বিভিন্ন নথি চেয়ে বয়স মিলিয়ে দেখা যে, আম্পায়ারদের কারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে কি না? বা নথিগত তথ্যের সঙ্গে তাঁদের বয়স মিলছে কি না? সিএবি একটা নোটিশ জারি করেছে স্থানীয় আম্পায়ারদের উদ্দেশে। বলা হয়েছে, স্থানীয় ক্রিকেটের সমস্ত আম্পায়ারদের আগামী পনেরো দিনের মধ‌্যে নিম্নলিখিত নথির যে কোনও একটা বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার কাছে জমা করতে হবে। ১) আধার কার্ড। ২) পাসপোর্ট। ৩) মাধ‌্যমিকের অ‌্যাডমিট কার্ড। ৪) জন্ম সার্টিফিকেট। যে নোটিশ অভিনব। এবং তার খবর ছড়িয়ে পড়াতে ময়দানে বেশ চাঞ্চল‌্যও সৃষ্টি হয়েছে। সিএবি সচিব বাবলু কোলের সই করা সে নোটিশে বলা রয়েছে, সম্পূর্ণ বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ‌্য নিয়ে নথি চাওয়া হচ্ছে আম্পায়ারদের থেকে। তবে বোর্ড প‌্যানেলে থাকা বাংলার আম্পায়ারদের কারও নথি জমা করার প্রয়োজন নেই। আচমকা স্থানীয় আম্পায়ারদের বয়স নিয়ে এ ধরনের ‘ময়নাতদন্ত’ কেন? মোটামুটি সিএবিতে নথিভুক্ত আম্পায়ার এ মুহূর্তে রয়েছেন দেড়শো জনের আশপাশে। তাঁদের মধ‌্যে ১৩০-১৩৫ জন অ‌্যাক্টিভ ভাবে আম্পায়ারিং করেন। অ‌্যাসাইনমেন্ট দিলে যান। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, কারও বাষট্টি বছর বয়স হয়ে গেলে কেউ আর আম্পায়ারিং করতে পারবেন না। নিয়মমাফিক তাঁকে অবসরে চলে যেতে হবে। আবার সিএবি আম্পায়রিংয়ের পরীক্ষায় বসার ন‌্যূনতম বয়স হল ১৮। তার নিচে কেউ পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। ওয়াকিবহাল মহলের সন্দেহ, বর্তমান আম্পায়ারদের কেউ কেউ বাষট্টি উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছেন। কেউ কেউ আবার আঠারো বছরের নিচে পরীক্ষা দিয়ে আম্পায়ার হয়ে গিয়েছেন। তাই পুনরায় নথি চাওয়া হচ্ছে আম্পায়ারদের থেকে। সিএবি আম্পায়ার হিসাবে যোগদানের সময় তাঁরা যে বয়স সংক্রান্ত তথ‌্য প্রভৃতি দিয়েছিলেন, তা মিলিয়ে দেখার জন‌্য।

সিএবি সচিব বাবলু কোলেকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘‘এ রকম জিনিস যে আগে হয়নি, তা নয়। আসলে আম্পায়ারদের একটা অবসরের বয়স আছে। কিছুই না, আমরা একটু পুরো বিষয়টা চেক করে নিচ্ছি। প্লেয়ারদেরও তো নথি চেক করা হয়। আম্পায়ারদেরও হবে। নিয়ম সবার ক্ষেত্রেই এক হওয়া উচিত।’’ কিন্তু পনেরো দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ‌্যে যদি কোনও আম্পায়ার নথি জমা না করেন? এবার সিএবি সচিবের জবাব, ‘‘সেক্ষেত্রে আরও কিছুটা সময় দেওয়া হবে। ধরা যাক, সাত দিন। কিন্তু তার পরেও যদি কেউ নথি না দেন, ধরে নিতে হবে কিছু একটা গন্ডগোল রয়েছে। তখন সেই ব‌্যক্তি আর আম্পায়ারিং করতে পারবেন না।’’ সিএবির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ময়দান। শুধু শেষে একটা প্রশ্নও তুলছে। বলছে, ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে দু’রকম নথি দিলে চলবে না। আম্পায়ারদের ক্ষেত্রেও তথ্যে গরমিল থাকলে, পদক্ষেপ করা হবে। সব ঠিক আছে। কিন্তু সংস্থার পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে একই কাজ করা হবে না কেন? সিএবি সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্ত দুই নথিতে দু’রকম বয়স নিয়ে কী করে পদে বসে থাকেন?

আইপিএল থেকে প্রাপ্য বকেয়া তিন লক্ষ টাকা পায়নি টালিগঞ্জ। এখনও পর্যন্ত আইপিএল থেকে প্রাপ‌্য বকেয়া তিন লক্ষ টাকা না পাওয়ায় সিএবিকে চিঠি পাঠানো হল টালিগঞ্জ অগ্রগামীর পক্ষ থেকে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, প্রতি বছর আইপিএল থেকে যে অর্থ বোর্ড থেকে পায় সিএবি, তার একটা অংশ যায় বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার অনুমোদিত সদস‌্যদের কাছে। অঙ্কের বিচারে সেটা তিন লক্ষ টাকা। যাকে বিশেষ অনুদান কিংবা সাবসিডি ফান্ড বলা হয়ে থাকে। ময়দানের হেভিওয়েট ক্লাব যারা, তারা সেই অর্থের উপর নির্ভর না করে থাকলেও, অনেকেই করে। বিশেষ করে তারা, যাদের অর্থের জোর অতটাও নেই। সচরাচর সিএবির পক্ষ থেকে আইপিএল চলাকালীনই সেই অঙ্কের অর্ধেক, অর্থাৎ দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে দেওয়া হয় সংস্থার অনুমোদিত সদস‌্যদের। টুর্নামেন্ট শেষ হলে দেওয়া হয় বাকিটা। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত তারা কোনও টাকা পায়নি বলে সিএবির কাছে ই-মেল পাঠিয়েছে টালিগঞ্জ। আরও ভালো করে বললে, সিএবি সচিব বাবলু কোলের কাছে। ক্লাব সচিবের ই-মেলে লেখা রয়েছে, প্রথম ডিভিশন ক্রিকেট শেষ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় ক্রিকেট মরশুম সম্পন্ন। তাই ক্লাবকে এবার বিবিধ খরচাপাতি মেটাতে হবে। যার মধ‌্যে প্লেয়ার-কোচদের পেমেন্ট থেকে শুরু করে অন‌্যান‌্য খরচ, যেমন ক‌্যান্টিন-জার্সি– সবই মেটাতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ক্রিকেট মরশুমের প্রস্তুতিও শুরু করতে হবে। যা করতে গেলে অর্থ প্রয়োজন। তাই সিএবি-র কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে, সেই অর্থ যত দ্রুত সম্ভব দিয়ে দিতে। ই-মেলে লেখা রয়েছে, প্রতি বছরই আইপিএল হলে তিন লক্ষ টাকা করে সিএবির থেকে পেয়ে থাকে অনুমোদিত সংস্থারা। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত সেটা পাওয়া যায়নি। টাকাটা পেলে যা যা পেমেন্ট বাকি রয়েছে, তা মিটিয়ে ফেলতে সুবিধে হবে। কবে সিএবি-র অনুমোদিত সংস্থারা পেতে পারে বকেয়া অর্থ? এই প্রশ্নের উত্তরে সংস্থার সচিব বাবলু কোলে বললেন, ‘‘আমি যদি খুব ভুল না করি, তা হলে বার্ষিক সভার আগে বা পরে, সাবসিডি ফান্ড রিলিজ করে দেওয়া হয়ে থাকে। তা ছাড়া দেওয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে কিছু কিছু। এটুকু বলতে পারি, কেউ প্রাপ‌্য থেকে বঞ্চিত হবেন না। যার যা টাকা প্রাপ‌্য, সবই পেয়ে যাবেন। একটা জিনিস বুঝতে হবে। এবার একটা অস্বাভাবিক ব‌্যস্ততার মধ‌্যে দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। প্রথমে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। তার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঠিক পরেই আইপিএল। আবারও বলছি, সাবসিডি ফান্ড দেওয়া হবে না তা কিন্তু নয়। দেওয়া হবে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles