RK NEWZ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক-নেতাদের আঙুল মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর নেতৃত্ব, দল পরিচালনার ক্ষমতার পাশাপাশি, নিচুতলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় অনীহা, দলের নেতাদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা রইল অভিষেকেই। ‘বিদ্রোহ’ এবং ‘বিরোধিতা’ সত্ত্বেও অভিষেকই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে গেলেন। তবে তাঁর সঙ্গে সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হল রাজ্যসভার দুই সাংসদ দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। পাশাপাশি, ভোট-বিপর্যয়ের পর সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন রাজ্য সভাপতি করা হল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। ক্ষোভের আগুনে দল ভেঙে চুরমার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূলে ভাঙনের সুর। বারবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই আবহে তৃণমূলের খোলনলচে বদলে দিলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেই থাকছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহায্য করবেন এই দুই দুঁদে রাজনীতিক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তার ফলে এবার থেকে আর কোনও সিদ্ধান্ত একা হয়তো নিতে পারবেন না ‘যুবরাজ’। দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সে জায়গায় ছিলেন সুব্রত বক্সি। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জোরাজুরিতে এই পদে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি বাড়ির শৌচালয়ে পড়ে চোট পান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আরও একবার আর্জি জানানো হয়। সেইমতো তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জাতীয় কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি হিসাবে কাজ করবেন। সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে রাজ্য সহ সভাপতি করা হয়েছে। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রানা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশ বসু, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেব।
যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সায়নী ঘোষকে। যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মধুরিমা ঠাকুর। মহিলা তৃণমূলের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত মালা রায়। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে রাজ্য সভাপতি থাকা ৭৫ বছর বয়সি সুব্রতকে সরিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রদেশ তৃণমূলের সহ-সভাপতি করা হয়েছে উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদকে। ওই পদ দেওয়া হয়েছে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর এবং চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকারকে। রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রানা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশ বসু, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেবকে। তৃণমূল যুব সভাপতি পদে বহাল রইলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মধুরিমা ঠাকুরকে। মালা রায়কে এ বার তৃণমূলের মহিলা সভাপতি করা হয়েছে। তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন থেকে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ তৃণাঙ্কুরকে সরিয়ে সভাপতি করা হল প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে।তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি প্রিয়াঙ্কা অধিকারী। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভাপতি মলয় ঘটক। হকার সংগঠনের সভাপতি মদন মিত্র। কৃষক সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেচারাম মান্নাকে। খেত মজদুর সংগঠনের দায়িত্ব পূর্ণেন্দু বসু। তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংগঠন দেখবেন বীরবাহা হাঁসদা। মুখপাত্র হিসাবে স্থির করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়,মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। তৃণমূলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত খোঁচা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘যাঁর হাত ধরে ‘তৃণ’ স্তরের ‘মূল’ পার্টি লাটে উঠে গেল, তাঁর উপর আস্থা মানে জনগণের প্রতি অনাস্থা।’’ অন্য দিকে, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার বিরোধিতা করে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। দলের উত্তাল পরিস্থিতিতে এই প্রথমবার বড় পদক্ষেপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামী দিনে নতুন কমিটি নিয়ে তৃণমূল ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে কর্মী-সমর্থকরা।





