Friday, June 5, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সব কর্মফল! তৃণমূল জিতলে স্বরূপ বিশ্বাসকে আটকানো মুশকিল হত! তোলাবাজি থেকে যৌনহেনস্তা! ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে স্বরূপ বিশ্বাস

RK NEWZ ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সম্মুখ সমরে গিয়ে একাধিকবার চর্চার শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছেন তারকা সাংসদ। কিন্তু এবার যখন টলিপাড়ার সেই ‘ত্রাস’ দুর্নীতির দায়ে ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতে, এপ্রসঙ্গে দেবের কী মত? কৌতূহল সর্বত্র। “তৃণমূল আমলে আমি টলিউডে যেভাবে ভুগেছি, সেটা অন্তত নতুন সরকারের আমলে হবে না বলেই আশা করছি…”, দিন কয়েক আগেই এক সিনেমার প্রিমিয়ারে গিয়ে বোমা ফাটিয়েছিলেন দেব। রাজনীতির পিচে তিনি ‘সৌজন্যের পোস্টার বয়’। তৃণমূলের তারকা সাংসদ হলেও প্রাক্তন শাসকদলের রক্তচক্ষু, নিষিদ্ধ সংস্কৃতির উর্ধ্বে গিয়ে বিজেপি সমর্থক সেলেবদের সঙ্গে সিনেমা করেছেন। এমনকী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তীদের মতো পদ্মশিবিরের তারকা মুখদের নিজের ছবিতে কাস্ট করার জেরেও কম বিপাকে পড়তে হয়নি দেবকে! তবু সিস্টেমে থেকে বুক ঠুকে সিস্টেমকে প্রশ্ন করার সাহস রেখেছেন সুপারস্টার। বিশেষ করে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সম্মুখ সমরে গিয়ে একাধিকবার চর্চার শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছেন তারকা সাংসদ। কিন্তু এবার যখন টলিপাড়ার সেই ‘ত্রাস’ দুর্নীতির দায়ে ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতে, এপ্রসঙ্গে দেবের কী মত? কৌতূহল সর্বত্র। স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর দৌড়াত্ম্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুললেন দেব। তাঁর মন্তব্য, “যে যার কর্মফল ভুগবে। হেরে যাওয়া মানুষকে নিয়ে আর কী বলব! ওঁর যখন ভালো সময় ছিল, তখন বাকি সকলের খারাপ সময় এনে দিয়েছিলেন। আর দেব এমন মানুষ নয় যে, কারও খারাপ সময় নিয়ে কিছু বলবে। এখন অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু লাভ কী!” সিস্টেমে থেকেও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বুক ঠুকে লড়াই জারি রেখেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিনেতা দেব। ডিরেক্টর্স গিল্ডের প্রতিবাদ হোক কিংবা ফোরাম-ফেডারেশনের মিটিং, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যান হওয়া শিল্পীদের হয়ে বরাবর সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে সুপারস্টার সাংসদকে। তার জন্যে অবশ্য মাশুলও কম গুনতে হয়নি দেবকে! কীরকম? স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর সেকথাই সংবাদ মাধ্যমের কাছে ফাঁস করলেন অভিনেতা-প্রযোজক। দেবের কথায়, “আমাকেও বলা হয়েছিল প্রকাশ্যে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইতে। নইলে আমার কাজ কেড়ে নেওয়া হবে- এমন কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু আমি আমার লড়াইটা জারি রেখেছিলাম। আর আজকে উনি নিজের কর্ম ফল পেলেন।” বিগত কয়েক বছরে সিনেপাড়ার অন্দরে বহুবার এমন রব শোনা গিয়েছে যে- ‘টলিউডকে কার্যত দুর্নীতির আখাড়া বানিয়ে ফেলেছেন স্বরূপ বিশ্বাস!’ এবার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি গ্রেপ্তার হতেই ছাই চাপা আগুনের মতো সেসব ক্ষোভ ‘লাভা’র মতো ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে ‘তুঘলকি স্টাইলে’ মুড়িমুড়কির মতো শিল্পী-কলাকুশলীদের নিষিদ্ধ করে দেওয়ার মতো একগুচ্ছ অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এপ্রসঙ্গে দেব কী বলছেন? সাংসদ-অভিনেতার মন্তব্য, “এতজন শিল্পীকে ব্যান করে রাখা হয়েছে বলে আর্টিস্ট ফোরামে মেইল করেছিলাম। তখন কিন্তু ফোরাম স্বরূপ বিশ্বাসকে কোনও প্রশ্ন করেনি। আমরা নিজেরা মাথা নিচু করলে তো আমাদের উপর দিয়ে কেউ না কেউ হাঁটবেই। সেসময়ে যাঁরা মাথা উঁচু করেছিলেন, আজ তারা হাসছেন। আমি নিজেও অনেক কলাকুশলীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাদের অভিশাপও তো আছে।” দেব এও জানান যে, “দল জিতলে স্বরূপ বিশ্বাসকে আটকানো মুশকিল হয়ে যেত। আমাকেও ব্যান করে দিত। স্ক্রিনিং কমিটিতে ভোট দিইনি বলে আমার নামে লালবাজারে অভিযোগ জানাতে পৌঁছেছিলেন অনেককে নিয়ে। বলা হয়েছিল, দেশু ৭ আমি রিলিজ করতে পারব না। তখন বারো জন বলেছিলেন, পুজোয় দেবের ছবি রিলিজ করবে না। মিঠুন চক্রবর্তী আছে বলে, আমার ছবি নন্দনে চালানো হয়নি। আসলে ক্ষমতা আজ আছে কাল নেই। অন্যায় হলে প্রতিবাদ হওয়া স্বাভাবিক।”

টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিশ্বাস ব্রাদার্সের উপর। অভিযোগ ছিল, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টলিউডে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর গ্রেপ্তারির পর থেকেই ভয়শূন্য চিত্তে টলিপাড়ার একাংশ বিস্ফোরক সব দাবি করছেন। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানির মতো একাধিক অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হন স্বরূপ বিশ্বাস। রাত পোহাতেই শুক্রবার রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাইকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত স্বরূপ বিশ্বাসকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ আপাতত তেরো দিন পুলিশি হেফাজতেই থাকতে হবে ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতিকে। সূত্রের খবর, এদিন শুনানি চলাকালীন এজলাসে তুমুল হইহট্টগোল হয়। এখনও পর্যন্ত ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্বরূপের বিরুদ্ধে। কাদের থেকে তিনি তোলাবাজি করেছেন? এবার সেটাই খতিয়ে দেখবে পুলিশ। সরকারি আইনজীবীর দাবি, স্বরূপ বিশ্বাস প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই, তাই তদন্তে প্রভাব খাটাতে পারেন। অন্যদিকে স্বরূপের আইনজীবীর দাবি, স্বরূপের কোনও সরকারি ভূমিকা নেই। তেরো দিন বাদে এই মামলার জল কোনদিকে গড়ায়? সেটাই দেখার। ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজি থেকে যৌনহেনস্তার মতো ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে অরূপ বিশ্বাসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে থাকলেও বহাল তবিয়তে ঘুরছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহসও দেখাতে পারেননি অনেকে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর গ্রেপ্তারির পর থেকেই ভয়শূন্য চিত্তে টলিপাড়ার একাংশ বিস্ফোরক সব দাবি করছেন। টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিশ্বাস ব্রাদার্সের উপর। অভিযোগ ছিল, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টলিউডে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে কলাকুলশী, সকলেই তাঁর অত্যাচারের শিকার। বৃহস্পতিবার রাতে অবশেষে এক মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় স্বরূপকে। অভিযোগকারিনী জানান, দু’বছর ধরে কোনও কাজ পাননি তিনি। বরং কাজ চাইতে গেলে পালটা তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে ভবিষ্যতে কাজ দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। এরপর দু’বছর পর ফের কাজের খোঁজে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। তবে স্বরূপের কুকীর্তির কড়চা এখানেই শেষ নয়! ওই মহিলা এও অভিযোগ করেছেন যে, গত মার্চ মাসে স্বরূপের দলবল তাঁর বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় তাঁকে খুন করার উদ্দেশে। ফেডারেশনের ওই মহিলা সদস্যের বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার তৎপর হয় নিউ আলিপুর থানা। স্টুডিওপাড়ায় বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতির ‘ঘুঘুর বাসা’ তৈরি করে রেখেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। গ্রেপ্তার হতেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিল্পী থেকে প্রতিবেশীরাও। থানার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ‘গোটা টালিগঞ্জজুড়ে তোলাবাজি করতেন স্বরূপ বিশ্বাস। সরকারে ছিল বলে পুলিশও কোনও পদক্ষেপ করেনি। দিনের পর দিন কাজের প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন।’ পরিচালক থেকে টেকনিশিয়ান-সর্বস্তরে স্বরূপের একাধিপত্য কায়েম করে রাখার অভিযোগ স্বরূপের বিরুদ্ধে। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’দের হাতেই ছিল টলিউডের কলকাঠি! শিবপুরের বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের অভিযোগ, “ফেডারেশনের মাথায় বসে দিনের পর দিন দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন স্বরূপ। ২০২১ সালে আমি মুখ খুলেছিলাম বলে আমাকে ব্যান করা হয়েছিল। টেকনিশিয়ানদের চাপ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করানো হয়েছিল। পেটের ভাত জোগাতে অনেক টেকনিশিয়ান মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করে গেছে দিনের পর দিন। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, আজ তাই হল।” যুবভারতীর জেনারেটর নিয়েও সিন্ডিকেটবাজি! স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে অভিযোগ রাজ‍্য ফুটবলেও, সরব আইএফএ সচিব অনির্বাণ। বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও। স্বরূপ গ্রেফতার হওয়ার পরেই তাঁর এবং অরূপের বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজকর্ম নিয়ে সরব হলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তাঁর দাবি, জোর করে বৈঠক ভেস্তে দেওয়া, স্পনসর আসতে না দেওয়া, এমনকি যুবভারতীর জেনারেটর নিয়েও সিন্ডিকেটবাজি করা হয়েছে। অনির্বাণ বললেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে যারাই খেলা আয়োজন করে, তাদের জেনারেটর ভাড়া নিতে হয়। অথচ সরকারের চারটে জেনারেটর রয়েছে। তবু সেগুলো ব্যবহার করা হয় না। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং স্বরূপের চেনাজানা লোকের থেকে সেটা ভাড়া নিতে হত। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, আইএফএ— সবাইকে একই কাজ করতে হয়েছে। বাইরে থেকে কাউকে ডেকে আনা সম্ভব ছিল না। কারণ ওঁদের লোক পুরো সেট-আপ জানত।”

২০২৩ সালে অনির্বাণ সচিব নির্বাচিত হওয়ার সময় স্বরূপও সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। শোনা যায়, তাতেও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর চাপ ছিল। অনির্বাণ বললেন, “এটা মানতেই হবে যে, সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়। একটা ম্যাচ করতে হলেও স্টেডিয়াম লাগবে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ‘অনুরোধ’ সেই সময়ে রাখা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, আমার ভাই কেন থাকতে পারবে না? ওকেও রাখতে হবে।” স্বরূপ নিজে থেকে কলকাঠি নাড়তেন না। পুরো ব্যাপারটিই করতেন আইএফএ-র গভর্নিং বডিতে থাকা স্বরূপের ‘কাছের লোকেরা’। অনির্বাণ নাম করে তাঁদের ভূমিকার তুলোধনা করলেন। বললেছন, “স্বরূপের সঙ্গে যাঁরা থাকতেন, তাঁরা দিনের পর দিন আইএফএ-কে বিরক্ত করেছেন। রবীন ঘোষ, নজরুল ইসলাম, সৌরভ পালেরা লাগাতার আইএফএ-কে অকারণে চিঠি দিয়েছেন, মামলা করেছেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন গভর্নিং বডির বৈঠকে। শেষ বৈঠকেই সিএমএস নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কোনও ভাবে সব তথ্য মুছে গিয়েছিল। আমরা সব তথ্য ফেডারেশনকে জানিয়েছিলাম এবং তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সেটাই গভর্নিং বডিকে বলছিলাম। হঠাৎ ওঁদের তিন জন প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে চেঁচামেচি করে ঝামেলা শুরু করে দিয়েছিলেন। বলছিলেন, ‘আমরা এ সব আলোচনা করতে দেব না’। বাকিরা জানতে চাইছিলেন। তখনও ওঁরা ঝামেলা করে যাচ্ছিলেন। বৈঠক বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কোনও মতে বাকিরা ওঁদের থামিয়েছিলেন।” আইএফএ সচিবের দাবি, তিনি দায়িত্বে আসার পর প্রথম থেকে এতটা অসহযোগিতা ছিল না। আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। অনির্বাণের দাবি, “প্রথমে হয়তো ওঁদের ধারণা হয়েছিল যে, আইএফএ-তে আমি হাতের পুতুল হয়ে থাকব। ওঁরা ইচ্ছেমতো দাপাদাপি করবেন। যখন দেখলেন সেটা হচ্ছে না, তখন ঝামেলা করা শুরু করলেন। প্রথম বছর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছিল। আইএফএ-র ঘরে বসে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ওঁরা। অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে কখনও এমন ঘটেনি। স্পনসর সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী সব জানতেন। কিছু সুবিধা হয়নি। ছ’জন ভূমিপুত্র খেলানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোচেস কমিটির বৈঠকে ওঁদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিশেষ এক জনকেই কোচ করতে হবে। তা হলে কোচেস কমিটির ভূমিকা কী?” এতই যখন অভিযোগ, তা হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাননি কেন? অনির্বাণের জবাব, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যত বার দেখা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিক। সেখানে দাঁড়িয়ে কি ক্রীড়ামন্ত্রীর নামে অভিযোগ জানানো ঠিক? ওটা অশোভনীয়। অভিযোগ করলে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশ্চয়ই জানতে পারতেন। তার প্রভাব পড়ত আইএফএ-র কাজকর্মে। কোনও ক্রীড়া প্রশাসন সরকার ছাড়া চলতে পারে না। পুলিশ থেকে স্টেডিয়াম, সব ক্ষেত্রে ওদের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়। লিয়োনেল মেসি আসার দিনে তো পুলিশের জন্যই মাঠে অত লোক ঢুকেছিল।” স্বরূপ গ্রেফতার হওয়ার পর কি তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে? অনির্বাণ জানালেন, এত দ্রুত সব হওয়া সম্ভব নয়। আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অনির্বাণের কথায়, “দু’দিন আগে এআইএফএফ-এর খসড়া সংবিধান এসেছে। যখন সেটা প্রযোজ্য হবে তখন আমরাও সেটা চালু করে দিয়ে নির্বাচন করতে পারব। এক বার আইন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করব। দ্রুত বৈঠক ডাকা হবে। তার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের সংবিধানে পদাধিকারীকে সরানোর ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। আইন কমিটি যা মত দেবে সেই ভাবে এগোনো হবে।” রাজ্যে নতুন সরকার আসায় তারা খেলাধুলোর দিকে নজর দেবে বলে অনির্বাণ আশাবাদী। তিনি বলেছেন, “ক্রীড়ামন্ত্রীর (নিশীথ প্রামাণিক) সঙ্গে এখনও দেখা হয়নি। অ্যাপয়েনমেন্ট চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করি খেলাধুলোর দিকে আরও নজর দেওয়া হবে। আমি আশাবাদী, ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ওঁদের জানাব নিজেদের চিন্তাভাবনার কথা। ওঁদের ভাবনাও জানার চেষ্টা করব। আমরা ক্রীড়ামন্ত্রীর সাহায্য চাইব যাতে বাংলার ফুটবলকে আরও এগোনো যায়।”

স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর সুরুচি সংঘে ভাঙচুর, মিলল কিং সাইজ বেড, রাশি রাশি সরকারি জলের বোতল। শুক্রবার ক্লাবের সামনে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। উপরের ঘরে উঠে চক্ষু ছানাবড়া বিক্ষোভকারীদের। উপরের ঘরে রাখা কিং সাইজ বেড। রাখা হয়েছে দু’টি চেয়ার। এসি লাগানোও ছিল। যদিও স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি ওই এসি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিলিং ফ্যান দেখলেও স্পষ্ট তা নেহাত কম দামি নয়। ওই ঘর লাগোয়া শৌচালয়। তা-ও বেশ বিলাসবহুল। শৌচালয়ের মাথায় বনবন করে ঘুরছে পাখা। শুধু তাই নয়, সুরুচি সংঘে ঘুরপথে সরকারি জিনিসপত্র আমদানি হত বলেও অভিযোগ। ওই ক্লাবঘরের সঙ্গে থাকা আরেকটি ঘরে রাশি রাশি রাখা সরকারি জল ‘প্রাণধারা’র বোতল পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ত্রাণ দেওয়ার জন্য রাশি রাশি শাড়িও পাওয়া গিয়েছে। তা দেখে স্থানীয়রা ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে, স্বরূপের দুর্নীতির আঁচ গিয়ে পড়েছে তাঁর ‘শিষ্যে’র উপরেও। এদিন তাঁকে ধাওয়া করে বেধড়ক মারধর করেন একদল উত্তেজিত জনতা। কিল, চড়, ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ। নিউ আলিপুর থানায় ঢুকে রক্ষা পান তিনি। টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিশ্বাস ব্রাদার্সের উপর। অভিযোগ ছিল, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টলিউডে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে কলাকুলশী, সকলেই তাঁর অত্যাচারের শিকার। বৃহস্পতিবার রাতে অবশেষে এক মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় স্বরূপকে। অভিযোগকারিনী জানান, দু’বছর ধরে কোনও কাজ পাননি তিনি। বরং কাজ চাইতে গেলে পালটা তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে ভবিষ্যতে কাজ দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। এরপর দু’বছর পর ফের কাজের খোঁজে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।

তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি থেকে ‘তুঘলকি স্টাইলে’ মুড়িমুড়কির মতো শিল্পী, কলাকুশলীদের নিষিদ্ধ করার মতো একগুচ্ছ অভিযোগ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দৈন্যদশা নিয়ে কী বলছেন দুই বিজেপি বিধায়ক? টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর উপর। অভিযোগ, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে টলিউডে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। বিগত কয়েক বছরে সিনেপাড়ার অন্দরে বহুবার এমন রব শোনা গিয়েছে যে- ‘টলিউডকে কার্যত দুর্নীতির আখাড়া বানিয়ে ফেলেছেন স্বরূপ!’ এবার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি গ্রেপ্তার হতেই ছাই চাপা আগুনের মতো সেসব ক্ষোভ ‘লাভা’র মতো ফুঁড়ে বেরচ্ছে! তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে ‘তুঘলকি স্টাইলে’ মুড়িমুড়কির মতো শিল্পী, কলাকুশলীদের নিষিদ্ধ করার মতো একগুচ্ছ অভিযোগ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এবার টলিপাড়ার ‘ত্রাস’ স্বরূপ দুর্নীতির দায়ে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে যেতেই মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং স্বপন দাশগুপ্ত। রূপার মন্তব্য, “শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কেন? যে কোনও ইন্ডাস্ট্রিতেই মানুষের স্বাধীনতা ওইভাবে গলা টিপে কেড়ে নেওয়া উচিত হয়নি। ভালো কাজ করেননি। দাদাগিরি করার জন্য খুব বেশি পাওয়ারফুল হতে হয় না, একজন দু’জনই যথেষ্ট। আর ওদের সরকারটাই এরকম ছিল। একটা মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সেটা ঠিক কাজই হয়েছে। আমি দেখছিলাম, স্বরূপের বিরুদ্ধে কী কী কেস দেওয়া হয়েছে। তবে আমার একটাই অনুরোধ, ফাঁক তালে কেউ মিথ্যে কেস দেবে না প্লিজ।” এরপরই কারও নামোল্লেখ না করে কার্যত বোমা ফাটালেন পদ্ম শিবিরের নেত্রী-অভিনেত্রী। রূপার সংযোজন, “ন্যায়সঙ্গত ভাবে কেস দেবেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ বাচ্চা নয়। কেউ কচি নয়। কী কেস দিচ্ছেন সেটা দেখে নেওয়া উচিত। আমি দেখলাম, শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের হয়েছে। তাই স্বাধীনতার নামে উশৃঙ্খলতা করে ফেলবেন না। আর সবাই যে এযাবৎকাল ভয়ে ছিলেন, তেমনটা নয়। এখন অনেকেই বলছেন, কিন্তু, আগে যে কথা বলেছেন তার সাথে অনেক ফারাক আছে।” এহেন মন্তব্যে প্রশ্ন উঠছে যে, কাদের নিশানা করলেন রূপা? আসলে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির চারপাশে এযাবৎকাল ইন্ডাস্ট্রির অনেক তারকাকেই ‘উপগ্রহ বলয়ে’র মতো উপবেষ্টিত দেখা যেত। এমনকী প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানেও বহু তারকা নায়িকা, কলাকুশলীদের উপস্থিতি নজর কাড়ত। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে যে, সুবিধে নেওয়ার পর পালাবদলের আবহে যাদের মন্তব্য বেসুরো ঠেকছে, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কি নাম না করে তাঁদেরই বিঁধলেন? ‘পিঞ্জর’-এর প্রচারানুষ্ঠানে যোগ দেন স্বপন দাশগুপ্ত। বর্ষীয়ান বিজেপি মন্ত্রী যদিও স্বরূপের গ্রেপ্তারির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন, তবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এহেন দৈন্যদশা নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি! তাঁর মন্তব্য, “একটা সময় ছিল যখন হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পর বাংলা সিনেমা ছিল অন্যতম। সেখান থেকে আমরা এখন এমন পর্যায়ে এসেছি যে তামিল-তেলুগু, হিন্দি সব সিনেমা যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই তুলনায় বাংলা সিনেমা একেবারে পিছিয়ে পড়েছে। তার নেপথ্যের কারণটা আমার মনে হয় সবাই জানেন। ভবিষ্যতে সেই সমস্যাগুলির সমাধান আমরা করতে পারি কিনা, সেটাই এখন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে যাওয়াটাই এখন আমাদের কর্তব্য।”

তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকে আদালতে প্রাক্তন ‘প্রভাবশালী মন্ত্রীর লক্ষ্মণ-ভাই’ বলে উল্লেখ করেছেন সরকারি আইনজীবী। সওয়ালে তিনি দাবি তুলেছেন, কার কথায় টাকা তুলতেন স্বরূপ, তা দেখা দরকার। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপকে ১৪ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতার আলিপুর আদালত। আদালতে স্বরূপের আইনজীবী অভিযোগপত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সওয়াল করে জানান, সাত-আট জনের অভিযোগ রয়েছে। মূল অভিযোগকারিণীকে বলা হয়েছিল, কাজ পেতে গেলে কিছু ‘ফেভার’ (সুবিধা) দিতে হবে। যদি সুবিধা না দেয়, তা হলে মেরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে, বলা হয়েছে অভিযোগে। আইনজীবীর বক্তব‍্য, ‘‘কিন্তু ওই কথা স্বরূপ বলেননি। অন‍্য এক জন ওই কথা বলেছেন বলে অভিযোগ পত্রেই লিখেছেন।’’ অভিযোগপত্রে জানানো হয়, অস্ত্র নিয়ে অভিযোগকারিণীকে ভয় দেখানো হয়। কিন্তু তিনি চিৎকার করার পরে অভিযুক্ত চলে যান। এই নিয়ে স্বরূপের আইনজীবীর সওয়াল, ‘‘শুধু চিৎকারেই চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ কিছু করছেন না, এই বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ‍্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’’ অভিযোগ উঠেছে, রিজেন্ট পার্ক থানায় আগে অভিযোগ নেয়নি। এই কথা জানান অভিযোগকারিণী। এই নিয়ে স্বরূপের আইনজীবীর দাবি, রিজেন্ট পার্ক থানার ওসিরও এই মামলার আওতায় আসা উচিত। তাঁর সওয়াল, অভিযোগপত্রে এক জনের কথা থাকলেও তিনি নিজে অভিযোগ করছেন না। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কার্তিক ভট্টাচার্যের থেকে ৪৫,০০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কার্তিক তিন ভাগে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। আইনজীবীর দাবি, সিজারলিস্ট (বাজেয়াপ্ত করা জিনিসপত্রের তালিকা) দেখা হোক, স্বরূপের সই করা নথি রয়েছে কি না! ওই সিজার লিস্টে স্বরূপের সই রয়েছে কি না, তা দেখার আবেদনও তিনি করেছেন। তাঁর দাবি, ২২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হলেও কোনও নথি বা প্রমাণ নেই। অভিযোগ উঠেছে, এক প্রতিবাদীকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়, হুমকি দেওয়া হয়। নেপথ্যে ছিলেন ধৃত স্বরূপ। আইনজীবীর দাবি, কেস ডায়েরিতে হুমকি বা এই ধরনের কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না দেখা হোক। ধৃতের আইনজীবী আদালতে আরও বলেন, ‘‘এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কোনও অনুসন্ধান করেনি বলে আমরা জানতে পেরেছি। কোনও সিনিয়র অফিসারকে সেই অনুসন্ধান রিপোর্টও দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ কতটা ম্যানিপুলেটেড (পরিচালিত), সেটা পুলিশের দায়িত্ব প্রাথমিক অনুসন্ধান করা।’’ আইনজীবী এ-ও দাবি করেন, আগ্নেয়াস্ত্রের ব‍্যবহার হয়নি। পুলিশ চাইলে বিভিন্ন জায়গার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে পারত। সরকারি আইনজীবী সৌরীণ ঘোষালের সওয়াল, ‘‘এই অভিযুক্ত প্রাক্তন এক মন্ত্রীর ভাই, কতটা প্রভাবশালী ভাবুন! শুধু এক জন না, একাধিক নির্যাতিত রয়েছেন বলে অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে, অস্ত্র ব‍্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগকারিণী দাবি করেছেন। বাকি ভিকটিম থাকলে সেটাও তদন্ত করতে হবে। টাকা কোথায় গিয়েছে সেটাও দেখতে হবে।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘প্রভাবশালী মন্ত্রীর লক্ষ্মণ-ভাই। কার কথায় টাকা তুলেছেন দেখতে হবে!’’ স্বরূপকে গ্রেফতার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর টেকনিশিয়ানদের কাছ থেকে টাকা তুলতেন তিনি। সূত্রের খবর, রিজেন্ট পার্ক এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা স্বরূপের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি টালিগঞ্জের মেকআপ আর্টিস্ট ফেডারেশনের সদস্য। বছর দুয়েক ওই মহিলা কোনও কাজ পাননি বলে অভিযোগ। কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। এমনকি, তাঁকে ভয়ও দেখানো হয়েছিল। মহিলার দাবি, তাঁর এক সহকর্মী স্বরূপকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করেছে নিউ আলিপুর থানা। হুমকি দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে স্বরূপের বিরুদ্ধে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় স্বরূপের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে। টালিগঞ্জের ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্‌স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি ছিলেন স্বরূপ। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল একাংশের কলাকুশলী এবং কর্মচারীদের। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন স্বরূপের দাপট ছিল। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তা উধাও হয়েছে। সম্প্রতি স্বরূপের ফেডারেশনের অস্তিত্বও মুছে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles