RK NEWZ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। বাংলার সফলতম কোচও। বাংলার প্রাক্তন অফস্পিনার সৌরাশিস লাহিড়ী। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বড় দায়িত্ব দিয়েছিল সৌরাশিসকে। অথচ তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাংলায় ব্যর্থ। যে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার শীর্ষে রয়েছেন খোদ তিনি। বঙ্গ কোচ সৌরশিষ লাহিড়ির হাত ধরেই লাল বলের ক্রিকেটে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ভারত। সিএবি তাঁকে ব্রাত্য করে দিয়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা তাঁকে বাংলার কোনও পর্যায়েই কোচিং করানোর ‘যোগ্য’ বলে মনে করেনি। গত সাত-আট বছরে বাংলাকে তিনিই একমাত্র ট্রফি দেওয়ার পরেও। কিন্তু বলে না, যোগ্য লোককে শত প্রতিরোধেও আটকে রাখা যায় না। বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী পুনরায় প্রমাণ করে দিলেন, বাংলায় কোচিংয়ের যোগ্য তিনি ছিলেন। আর সেটা প্রমাণ হল, ভারতীয় বোর্ডের ইমার্জিং প্লেয়ার্স টুর্নামেন্টে তাঁর টিম চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়। লাল বলের আগামী প্রতিভাদের সন্ধানে রীতিমতো আদা-জল খেয়ে নেমে পড়েছে ভারতীয় বোর্ড। প্রথমে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে লাল বলে পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের নিয়ে শিবির। তার পর সেই সমস্ত প্লেয়ারদের নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বোর্ড। যে টুর্নামেন্টে দলের কোচ ওয়াসিম জাফরের সঙ্গে সৌরাশিস লাহিড়ী। বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন হল টিম ‘এ’। বাংলার সৌরাশিস যে টিমের বোলিং কোচ ছিলেন। সৌরাশিস বলছিলেন, “কাউকে জবাব দেওয়ার জন্য কিছু করছি না। বোর্ড আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবেছে তার জন্য কৃতজ্ঞ। যারা ভাবেনি, সেটা তাদের ব্যাপার। একই সঙ্গে বলব, আমি কৃতজ্ঞ ভিভিএস লক্ষ্মণের কাছেও।”

পোশাকি নাম সেন্টার অফ এক্সেলেন্স বা COE। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের হাঁড়ির খবর রাখেন যাঁরা, তাঁরা বলেন বেঙ্গালুরুর সিওই আসলে একইসঙ্গে গবেষণাগার ও কারখানা। যেখানে ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত অস্ত্রে শান দেওয়া চলে। পাশাপাশি বাইশ গজে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপনের প্রকল্পও চালানো হয় উঠতি প্রতিভাদের নিয়ে। পুরোটাই রুটিন মেনে। বিজ্ঞানভিত্তিক। আধুনিক চিন্তাভাবনায় সম্পৃক্ত সিওই-তে এখন চলছে নতুন অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি। যে অস্ত্র লাল বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলের ব্রহ্মাস্ত্রে পরিণত হবে। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক বিবর্ণ ছবি বদলে দিয়ে রঙিন, ঝলমলে ধ্বজা ওড়াবে। আর সেই অস্ত্র তৈরির নকশার প্রধান কারিগর হলেন এক বঙ্গসন্তান। বাংলার প্রাক্তন অফস্পিনার সৌরাশিস লাহিড়ী। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স লজ্জাজনক। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঘরের মাঠে কলঙ্কের সিরিজ হার। যে স্পিন একসময় ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগের কোহিনূর ছিল, সেই স্পিন-অস্ত্রই এখন ভোঁতা। বরং ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষ স্পিনাররা। আর অশ্বিন অবসর নেওয়ার পর থেকে টেস্টে স্পিন বোলিং আক্রমণ নিয়ে আরও সমস্যায় ভারতীয় দল। তার ওপর সামনের বছর জানুয়ারি মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এখন থেকেই বলাবলি হচ্ছে যে, ২০২৫-২০২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বৃত্তে ভারতের সামনে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপ ফাইনাল খেলার সুযোগ একমাত্র আসতে পারে যদি দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানাবুদ করা যায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে। ভারত পাঁচ নম্বরে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ তাই ভীষণ গুরুত্ব পাচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার কাছে। আর সেই সিরিজের নকশা সাজাতে মরিয়া প্রচেটা চালাচ্ছেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। দেশের মাটিতে টেস্টে শেষ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলেছে ভারত। ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল। সেই সিরিজে স্পিনার হিসাবে খেলেছিলেন রবীন্দ্র জাডেজা, কুলদীপ যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর পটেল। ওয়াশিংটন ও অক্ষর বল হাতে কিছুই করতে পারেননি। জাডেজা ও কুলদীপও ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছেন। তার ওপর অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সময় জাড্ডুর বয়স হবে ৩৮ বছর। ভারতীয় দল বিকল্প অস্ত্র তৈরি রাখতে চাইছে। লাল বলের ক্রিকেটে চাইছে দু-একজন ভাল মাপের রিস্টস্পিনার। যাঁরা কব্জির ভেল্কিতে বাজিমাত করতে পারবেন। সেই কাজই শুরু হয়ে গেল COE-তে। লাল বলের ক্রিকেটে প্রতিশ্রুতিমানদের নিয়ে যেখানে হয়ে গেল ইমার্জিং টুর্নামেন্ট। ৪ দলের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হল ইন্ডিয়া টিম এ। যে দলের অন্যতম কোচ ছিলেন সৌরাশিস। নিজের রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা যাঁকে যোগ্য মনে করেনি। বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচের পদ থেকে ছেঁটে ফেলেছিল। যা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বড় দায়িত্ব দিয়েছিল সৌরাশিসকে। উদয় সাহারানের নেতৃত্বে ইমার্জিং টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হল সৌরাশিসের প্রশিক্ষণাধীন দলই। সেই দলের হয়ে খেললেন উত্তর প্রদেশের ২১ বছর বয়সী লেগস্পিনার বিপ্রজ নিগম। রঞ্জি ট্রফিতেও অল্প সময়েই নজর কেড়েছিলেন। আইপিএলে খেলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে। বিপ্রজের ব্যাটের হাতও ভাল। ভারতীয় টেস্ট দলের ব়্যাডারে রয়েছেন তরুণ লেগস্পিনার। গম্ভীরের চাহিদা পূরণ করার দক্ষতাও রয়েছে তাঁর। গুজরাতের হয়ে ৪৭ ম্যাচে ২২৪ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনার সিদ্ধার্থ দেশাই, বঢোদরার হয়ে ২৪ ম্যাচে ৯৭ উইকেট নেওয়া অফস্পিনার মহেশ পিঠিয়া, লেগস্পিনার জিশান আনসারিরা রয়েছেন ভারতের টেস্ট দলে স্পিন কোটায় ঢোকার দাবিদার হিসাবে। সব মিলিয়ে ভারতীয় টেস্ট দলের হতশ্রী চেহারা দ্রুত বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই তরুণ, প্রতিশ্রুতিমানরা, নিশ্চিত গুরু সৌরাশিসও। বেঙ্গালুরু থেকে RK NEWZ ডট COM কে সৌরাশিস বললেন, ‘লাল বলের ক্রিকেটে ভারত হয়তো কয়েকটা সিরিজে প্রত্যাশিত খেলতে পারেনি। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এত বিজ্ঞানসম্মত, অত্যাধুনিক চিন্তাভাবনা মেনে চলে, এত পেশাদার একটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় সিওই-তে, যে টেস্ট দলের ছবিটা দ্রুত বদলাতে বাধ্য। ইমার্জিং টুর্নামেন্টেও এক ঝাঁক দারুণ প্রতিভাবান ছেলেকে দেখে ভীষণ ভাল লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা, একানকার পরিবেশটাই অন্যরকম। সিওই প্রধান ভি ভি এস লক্ষ্মণ তো ছিলেনই, সেই সঙ্গে সিনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় নির্বাচকেরা, এক ঝাঁক অভিজ্ঞ কোচ, সকলে মিলে দারুণ একটা টুর্নামেন্ট হল। লাল বলের ক্রিকেটে ভারতীয় বোর্ড বাড়তি জোর দিচ্ছে। এই ফর্ম্যাটেও জাতীয় দল শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াবে। সেই কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।’ লাল বলের ক্রিকেটে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ভারত। যে স্বপ্নের সফলতম ফেরিওয়ালা হওয়ার পথে হাঁটছেন বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের মসনদ বসে থাকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের চোখে ব্রাত্য বাংলার অন্যতম সফল কোচ সৌরাশিষ লাহিড়ি।




