RK NEWZ সিএবি-র বর্তমান সভাপতির নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কাটছাঁট করল রাজ্য সরকার। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মমতার স্পেন সফরে সঙ্গী ছিলেন সৌরভ। মাদ্রিদের বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শালবনিতে জিন্দলদের ছেড়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠবে। যা নিয়ে সম্প্রতি কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এই মুহর্তে সৌরভকে কী চোখে দেখছে, ওই কটাক্ষের পিছনে সেই বার্তাই প্রচ্ছন্ন ছিল। নিরাপত্তার বহরে কাটাছাঁট করে যা আরও এক বার পৌঁছে দিল বিজেপি সরকার। গত তিন বছর ধরে ‘জ়েড ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পাওয়া ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তথা সিএবি সভাপতির নিরাপত্তা দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ করে দেওয়া হল। নিরাপত্তা কমানোর বিষয়টি নিয়ে সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রথম সারির রাজনীতিক এবং শীর্ষ আমলারা বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন— ‘এক্স’, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’। ওয়াই’ এবং ‘জেড’-এর ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ বলে আলাদা একটি ক্যাটেগরি থাকে। সরকারি নির্দেশে শিল্পপতি, তারকা, খেলোয়াড়-সহ বিশিষ্ট নাগরিকেরাও নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। কার জীবনের ঝুঁকি কতটা তা খতিয়ে দেখে ঠিক করা হয় তিনি কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা পাবেন। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তাই পেতেন সৌরভ। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিন জন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেখভাল করতেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সশস্ত্র। সৌরভের বাড়িতে মোতায়েন থাকতেন আরও বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী। এর পর সৌরভের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জ়েড ক্যাটেগরি করে দেয় মমতার সরকার। তখন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বেড়ে হয় ৮ থেকে ১০ জন। বাড়ির নিরাপত্তায় মোতায়েন পুলিশকর্মীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, রাস্তায় বের হলে সৌরভের গাড়ির সামনে থাকত পুলিশের পাইলট কার। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন থাকতেন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন নেতানেত্রী থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেদের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন যে, কারও যদি সত্যি সত্যিই প্রয়োজন না-থাকে তা হলে তাঁকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। তৃণমূল জমানায় এ রাজ্যে সর্বোচ্চ, অর্থাৎ ‘জ়েড প্লাস ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পেতেন তিন জন। রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়া, প্রতীচীর জমি নিয়ে বিতর্কের পরে রাজ্যে থাকাকালীন সমান নিরাপত্তা দেওয়া হত অমর্ত্য সেনকে। সৌরভের মতোই ‘জ়েড ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তা পেতেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এত দিন মাছি গলতে না-পারা নিরাপত্তা পেয়ে আসা বিভিন্ন জনের নিরাপত্তার বহর কমতে শুরু করে। মমতার কালীঘাটের বাড়ি এবং অভিষেকের দু’টি বাড়ির সামনে পাহারায় থাকা পুলিশকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার যতটুকু নিরাপত্তা প্রাপ্য ততটুকুই তিনি পাবেন। অভিষেকের ‘জ়ে়ড প্লাস’ নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বলা হয় সাধারণ সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য নিরাপত্তাই দেওয়া হবে তাঁকে। তার পরে একে একে অনেক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করে শুভেন্দুর সরকার। সেই তালিকায় এ বার জুড়ল সৌরভের নাম। এই ঘটনার পিছনে সৌরভের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের পারদ ওঠানামার ভূমিকা রয়েছে। ২০২১ সালে সৌরভকে মুখ করেই বিধানসভা ভোটে ঝাঁপাতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই অঙ্কেই ২০১৯ সালে তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি করা হয়। যার পিছনে মুখ্য ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। পরের বছর ইজ়েডসিসি-তে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপুজো ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন সৌরভপত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর গ্রুপ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভের বেহালার বাড়িতে নৈশভোজে এসেছিলেন শাহ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব অঙ্ক কাঁচিয়ে দিয়ে পিছু হটেন সৌরভ, বিজেপি যাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলেই মনে করেছিল। তার পরেও সৌরভের জন্য বিজেপির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ২০২৩-এ ত্রিপুরার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করে ‘বার্তা’ দিয়েছিল বিজেপি। সেই বার্তা আরও স্পষ্ট হয়েছিল বিশ্বকাপে ইডেন সেমিফাইনাল-সহ পাঁচ পাঁচটি ম্যাচ পেয়ে যাওয়ায়। সৌরভ অবশ্য বরাবরই দু’কুল রক্ষা করে চলেছেন। বোধগম্য কারণেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন, আবার অমিত শাহের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও চাননি। কিন্তু এই ভারসাম্যের খেলা সহজ নয়।

অভিষেকদের বাড়িতে অবৈধ অংশ কোনটি, সাত দিনে দিতে হবে রিপোর্ট! হাই কোর্ট নির্দেশ দিল কলকাতা পুরসভাকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কোথায় কোথায় বিচ্যুতি? সম্পত্তির মোট অংশে কোথায় বিচ্যুতি রয়েছে? কলকাতা পুরসভাকে তা সাত দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতির নির্দেশ, বাড়িটিতে অবৈধ অংশ আছে কি না, থাকলেও কতটা, তা জেনে দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে সম্পত্তির মালিকদের। চার সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে হাই কোর্টে। কলকাতার ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি বৈধ ভাবে নির্মিত। এই দাবি করে কলকাতা হাই কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার নোটিস খারিজের আর্জি জানিয়ে মামলা করেন বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতি। তাঁদের বক্তব্য, বৈধ ভাবে নির্মিত বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নোটিস দিয়েছে পুরসভা। বুধবার হাই কোর্টের হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা থেকে অভিষেকের একাধিক ঠিকানায় নোটিস গিয়েছে।শনিবার কালীঘাট রোডের বাড়ি থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙা নিয়ে পুরসভার নোটিস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘পুরসভাকে জিজ্ঞেস করুন। নোটিস যারা দিয়েছে…যারা বেছে বেছে মিডিয়ার কাছে এগুলো লিক করছে… একটা নোটিস লাগিয়ে চলে গেলাম যে এই অংশটা অবৈধ!’’ অভিষেক জানান, তাঁর কাছে ভিডিয়ো রয়েছে। নোটিসে লেখা রয়েছে, ‘এনক্লোজ়, প্লিজ ফাইলড ব্রিফ অফ ডিভিয়েশন। সেখানে আমার ডিভিয়েশন কোন অংশে, কী ব্রিফ, তার অ্যাটাচমেন্ট কোথায়? সেটা তো দেয়নি! আমি এ নিয়ে মামলাও করব। আমার অধিকার রয়েছে। বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হবে। লিখিত ভাবে আমার যা রিপ্লাই ছিল, আমি দিয়েছি, জানিয়েছি।’’ তার পরেই আদালতে যান অভিষেকের বাবা-মা। সপ্তাহখানেক আগে কলকাতা পুরসভার কাছে ১০ দিন সময় চেয়েছিল অভিষেকের সংস্থা লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে, যে সব সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় কলকাতা পুরসভা তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, তা তারা জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা সময় দেওয়া হোক। পর্যাপ্ত সময় পেলেই তারা যাবতীয় তথ্য কলকাতা পুরসভার হাতে তুলে দেবে। অভিষেকের সংস্থাকে সম্প্রতি পুরসভা একাধিক নোটিস পাঠিয়েছে। মূলত কলকাতার কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডে থাকা তাঁর এবং তাঁর সংস্থার নামে থাকা সম্পত্তি নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়। পুরসভা সূত্রে জানানো হয়, কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজ জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম দিকে দু’টি বাড়ি নিয়ে নোটিসের খবর প্রকাশ্যে এলেও পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, মোট ১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অভিষেকের আত্মীয়দের নামে থাকা কিছু সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিষেক বলেছিলেন, “বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা হোক, তার পর উত্তর দেব।”




