RK NEWZ ডিভিসির সঙ্গে সংঘাত অতীত, ‘ম্যান মেড বন্যা’র তত্ত্বকে ‘মিথ্যা’ বলে ওড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী, আর জল-রাজনীতি নয়! বিগত জমানার সেই চেনা সংঘাতের পথ ছেড়ে এবার ডিভিসি-র সঙ্গে নিবিড় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ক্ষমতার বদল আসতেই অবধারিত ভাবে ভোলবদল ঘটল নবান্ন-ডিভিসি সম্পর্কের চেনা সমীকরণে। বর্ষা নামলেই দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জন্য ‘দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন’ বা ডিভিসি-কে কাঠগড়ায় তোলার যে রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল, তা এবার পুরোপুরি অতীত হতে চলেছে। বিগত জমানার সেই চেনা সংঘাতের পথ ছেড়ে এবার ডিভিসি-র সঙ্গে নিবিড় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর মঞ্চ থেকে পূর্বতন সরকারকে তোপ। শনিবার নিউটাউনে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘জল-রাজনীতি’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসি-র বিরুদ্ধে একাধিকবার কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, রাজ্যের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই ডিভিসি জল ছাড়ে, যার জেরে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বহুবার ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলেও দাবি করেছিলেন। দিনের পর দিন নদীগুলিতে ড্রেজিং বা পলিখনন না হওয়ার জন্যেও তিনি দায় চাপাতেন কেন্দ্রের ওপর। যদিও কেন্দ্র এবং ডিভিসি— উভয় পক্ষই বরাবর তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই দাবি খারিজ করে এসেছে। এ দিন সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেন, “বর্ষা আসলেই যেভাবে পূর্বতন সরকার ডিভিসিকে দায়ী করতো, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।” ‘ডবল ইঞ্জিন’ জমানায় সংঘাত অতীত, শুরু যৌথ তৎপরতা বাংলার মসনদে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। ফলে দিল্লির সঙ্গে কলকাতার সংঘাত মুছে ফেলে এখন কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ওপরই জোর দিচ্ছে নতুন নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ডিভিসি-কে দোষারোপ করার সেই পুরনো পর্ব এখন পুরোপুরি অতীত। সামনেই কড়া নাড়ছে বর্ষার মরশুম। সেই কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণের আগাম পরিকল্পনা তৈরি করতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। এই যৌথ প্রস্তুতির খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্লাবন রুখতে রাজ্য সরকার এবং ডিভিসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা ও বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আসন্ন বর্ষার দিকে নজর রেখে রাজ্যের সেচ দফতর, ডিভিসি-সহ একাধিক জরুরি সরকারি বিভাগ এখন থেকেই একযোগে ঝাঁপিয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নিয়েই কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতি রুখতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। এবার প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে আরও কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। একযোগে রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত। জানা গিয়েছে, ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধান-চাল বন্টন থেকে শুরু করে ত্রিপল বিতরণের ক্ষেত্রে একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রয়েছে বালি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও। এরপরেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসাবে একেবারে চারজনকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর, রাজ্যের মসনদে সেই সময় তৃণমূলের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় ধান সংগ্রহ এবং চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। শুরু হয় তদন্ত। আর সেই তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, সরকারি ধানের সমপরিমাণ চাল রাইস মিলগুলির কাছ থেকে নেওয়াই হয়নি। এক্ষেত্রে নজরদারি অভাব ছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। এরপরেই নজরদারি-সহ একাধিক বেনিয়মের ক্ষেত্রে দুই আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু রাইস মিলের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। শুধু খাদ্য দপ্তরেই ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙা নয়, ত্রিপল দেওয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। ঠিক মতো হিসাব দিতে না পারা-সহ বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বালি দুর্নীতি রুখতেও কড়া শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অনিয়মের অভিযোগে এক বিএলআরওকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়ম উঠে আসে। এরপরেই ওই বিএলআরও’কে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর।





