RK NEWZ কুর্সি নিয়ে কেন এত টানাটানি? কেন এই পদের প্রতি সকলের এত ‘মোহ’? রাজ্য রাজনীতির পালাবদল ঘটতেই রতন সাহা, শতদীপ সাহা, মিলন ভৌমিক, পীযূষ সাহা এবং পরিচালক অতনু বসুর দাবি, এত দিন তাঁরা ‘ভয়ে’ বলতে পারেননি! নতুন সরকার তাঁদের ‘ভরসা’ জুগিয়েছে। সেই জোরে পিয়া সেনগুপ্তের ‘কবলমুক্ত’ করতে চাইছেন ইমপা-কে। যেখানে আর স্বজনপোষণ হবে না, আর্থিক দুর্নীতি থাকবে না। সম্প্রতি, সংখ্যাগরিষ্ঠ ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পিয়ার অস্তিত্বকে ‘প্রাক্তন’ তকমা দিয়েছেন এই বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা। তাঁদের দাবি, রতন সাহা অস্থায়ী সভাপতি। সোমবার তাঁকে ইমপা-য় সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানে তাঁকেও একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। কেন তিনি সভাপতির আসনে বসতে চাইছেন? রতন সাফ বলেছেন, “কেন নয়? সংগঠনের বাইরে থেকে আমি সিনেমার জন্য যা যা করেছি, পিয়া কি তার সিকি ভাগও করেছেন? তা হলে তিনি কেন এই পদে থাকবেন?” একই সঙ্গে আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি সভাপতির আসনে বসলে ছবির মানোন্নয়নের চেষ্টা করবেন। প্রযোজকদের পাশে দাঁড়াবেন। তাঁদের ভালমন্দ দেখার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে রাজ্যে যাতে সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়ে, সে দিকে নজর দেবেন। রতন সাহার কথায়, “এই সংগঠনে কোনও ভাবেই রাজনৈতিক রং লাগতে দেব না। আর্থিক তছরুপও আর হবে না এখানে।” রতন সাহা জানিয়েছেন, কেন তিনি ‘চেয়ার’-এ বসতে চাইছেন। পিয়া কেন ‘চেয়ার’ ধরে রাখতে চাইছেন? পিয়ার যুক্তি, “এক, আমি আইন মেনে সভাপতি। নির্দিষ্ট সময়ে আবার ভোট হোক। সেখানে যদি হেরে যাই বা পদ ছেড়ে দিই, তখন ইস্তফা দেব। তার আগে সরব কেন?” তিনি এ-ও বলেছেন, “এখন সরে যাওয়া মানে সব কলঙ্ক, সব অভিযোগ মেনে নেওয়া। কোনও কলঙ্ক, কোনও অভিযোগ নিয়ে সরব না। নিজেকে প্রমাণ করে তার পর যাব।” এই মুহূর্তে, পরিবেশক, হলমালিক, প্রযোজক মিলিয়ে ইমপা-র সদস্যসংখ্যা অনেক। সংগঠনের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিচালক-প্রযোজক গৌতম ঘোষ বলেছেন, “অনেক দিন ধরেই সংগঠনের আবহাওয়া বদলে গিয়েছে। তাই আর এখানে আসি না।” বাকি সদস্যেরা কেন নিশ্চুপ? কী মত তাঁদের? কেনই বা তাঁরা কোনও বৈঠকেই আসছেন না! এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ চেষ্টা করা হয়েছিল প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরী, ফিরদৌসল হাসান, প্রদীপ নন্দী, নীলরতন দত্তের সঙ্গে। প্রত্যেকে ফোনে অধরা। ফিরদৌসল জানিয়েছেন, তিনি বৈঠকে ব্যস্ত। বদলে মুখ খুলেছেন প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের মালিক অরিজিৎ দত্ত এবং প্রযোজক রানা সরকার। অরিজিৎও জানেন না, কেন ইমপা-র সভাপতি পদ ঘিরে এত দ্বন্দ্ব। পাশাপাশি এ-ও জানাতে ভোলেননি, ২০১১ থেকে সত্যিই সংগঠনটি আর ততটাও স্বচ্ছ ছিল না। অর্থাৎ, তার আগে কি সংগঠন সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ছিল? অরিজিতের কথায়, “তখন ইমপা খুবই শক্তিশালী ছিল। দাপট ছিল দেখার মতো। প্রযোজক, পরিবেশক, হলমালিক— প্রত্যেকের ঢাল হয়ে দাঁড়াত। ইমপার অনুমতি ছাড়া একটা ছবিও মুক্তি পেত না।” তার জন্য তিনি দায়ী করেছেন, দিনের পর দিন ধরে একই ব্যক্তির ‘আসন’ আঁকড়ে পড়ে থাকাকে। অরিজিতের মতে, যিনি ১২ বছর আগে প্রযোজনা করেছেন, তাঁর তো এখনকার প্রযোজনা সম্পর্কে ধারণাই নেই। তা হলে কেন তিনি এখনও পদাধিকারী? অরিজিৎ কেন সক্রিয় ভাবে দ্বন্দ্ব মেটাতে এগিয়ে আসছেন না? তিনি সাফ বললেন, “গিয়েছিলাম এক দিন। পিয়ার থেকে যে ব্যবহার পেয়েছি, তাতে ক্ষুব্ধ।” তাতেই আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি। কলহের চোটে আমজনতার আলোচনায় ইমপা। খবরের শিরোনামও। বলতেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় রসিকতা তাঁর, “তা হলে বলতে হবে, সদস্যেরা খুবই ভাল কাজ করছেন! বাংলা ছবির খারাপ সময়ে যে ভাবেই হোক, প্রচারে নিয়ে এসেছেন সংগঠনকে।” প্রায় একই কথা বলেছেন রানাও। তাঁর স্পষ্ট জবাব, “ইমপা নিয়ে নতুন সরকারের কী পলিসি, সেটা জানার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। সরকার যা নিয়ম করবে, সেটা মেনে চলতে হবে আমাদের। আলাদা করে ইমপা নিয়ে বলার কিছু নেই এই মুহূর্তে।” পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, পিয়া সেনগুপ্তকে নিয়ে যে সব অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে তিনি সহমত। পিয়ার কথায়, “আমি তো নিজেই বুঝতে পারছি না সেটা। এই চেয়ারে বসলে বাড়তি কী পাওয়া যায়! আমি জানি না। কেন হঠাৎ রাজ্যে সরকার বদল ঘটায় আমায় সরে যেতে হবে? এটা কি কোনও রাজনৈতিক সংগঠন? আমি অন্তত জানি সেটা নয়।” তাঁর আরও প্রশ্ন। পিয়ার যুক্তি, “আমি যদি সকলের এত অপ্রিয় হই, তা হলে এত দিন কেন কেউ কিচ্ছু বললেন না? আমায় তো কোনও রাজনৈতিক দল এই পদে বসায়নি। বলতেই পারতেন তাঁরা, তা হলে আমার করা ভুলগুলো শুধরোতে পারতাম। বিক্ষুব্ধ প্রযোজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের পরিবেশ স্বচ্ছ হত। দুর্নীতি থাকত না।” যদিও তাঁর দাবি, তিনি কোনও দুর্নীতি করেননি। কুর্সিকে সামনে রেখে কোনও বাড়তি বা অনৈতিক সুবিধা নেননি। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। কলহের জেরে তিনি সংগঠনের অফিসের বদলে সাংবাদিক বৈঠক সেরেছেন অন্যত্র! সেখানেই তাঁর আফসোস, “৮২ বছরের সংগঠনে একটি কুর্সিকে ঘিরে এত কোন্দল কখনও ঘটেনি!” রাজনৈতিক পালাবদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে আর নেই। স্বরূপ বিশ্বাসের কথা অনুযায়ী, ফেডারেশন সভাপতিত্বের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি নিজেই সরে গিয়েছেন। সেখানে হাই কোর্টের নিয়ম মেনে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইমপা-র সভাপতি পিয়া। তিনি নির্বাচিত হয়ে এই পদাধিকারী। পিয়ার এই বক্তব্য বিক্ষুব্ধ প্রযোজকেরা মানতে নারাজ। আর এই জায়গা থেকেই নাকি ‘চেয়ার’ ঘিরে এত আন্দোলন।

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তোলপাড় টেলিদুনিয়া। অভিনেতার মৃত্যুর সঠিক কারণ না জানা পর্যন্ত লীনা ও শৈবালের সঙ্গে কাজ করবেন না অভিনেতা, কলাকুশলীরা— এক সাংবাদিক বৈঠকে যৌথ ভাবে এই ঘোষণা করে আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন। এ বার এই দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করলেন ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র প্রযোজক ও লীনা-পুত্র অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়। আইনি পদক্ষেপ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “আমার তো মনে হয় না, এই জিনিসটি আইনত কেউ করতে পারেন। যদিও কারও কিছু মনে হলে, তিনি হয়তো অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু তাঁর তো একটা আইনি সীমা থাকবে! তার বাইরে বেরিয়ে যদি কেউ কোনও কাজ করেন, তা হলে আইন তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।” অভিযোগ, এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত অর্ক। তাঁর অভিযোগ, “আমার ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র কাহিনিকার আমার মা। তিনি আমার প্রযোজনা সংস্থারও অন্যতম সদস্য। এর ফলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন।” অর্কের আরও দাবি, তাঁর আরও দুটো ধারাবাহিক আনার কথা ছিল। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের ‘গুন্ডামি’তে নাকি ভয় পেয়েই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পিছিয়ে গিয়েছেন। এ ছাড়াও ১১ দিন শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল ‘কনে দেখা আলো’র। তাতেও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অর্কের, অভিযোগ এমনই। সেই জায়গা থেকেই এ বার আইনি পদক্ষেপ করেছেন অর্ক। তাঁর অভিযোগ যে দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে, সেখানকার সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ফোরামের পক্ষে কথা বলেছেন যুগ্ম সম্পাদক রানা মিত্র। তাঁর পাল্টা দাবি, “কী ভাবে রাহুলের মৃত্যু, লীনাদি, শৈবালদার উন্নাসিকতা— সবটা জানেন অর্ক। তার পরেও ওঁর যদি আইন-আইন খেলতে মনে চায়, কী বলব আমরা?” তাঁর পাল্টা অভিযোগ, সেই সময়ে লীনা-শৈবাল উদাসীনতা এবং উন্নাসিকতা না দেখালে এই পরিস্থিতিই তৈরি হত না। কিন্তু অর্ক যে দাবি করছেন, ছোটপর্দার অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের ভয় দেখিয়ে ফোরাম-ফেডারেশন নাকি লীনা-শৈবালের সঙ্গে কাজ করতে দেয়নি? ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের দুই নায়ক সোমরাজ মাইতি, মৈনাক ঢোল এবং এক নায়িকা নন্দিনী দত্তকে নাকি পেশাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়? এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রানা। ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক বলেছেন, “আর্টিস্ট ফোরাম গুন্ডামি করে বেড়ায় নাকি? না কি গুন্ডা পোষে? লীনাদি-শৈবালদার সঙ্গে কাজ করা নিয়ে আমরা ভোট করেছিলাম। যাঁরা কাজ করতে চেয়েছেন, তাঁরা লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। যাঁদের আপত্তি, তাঁরাও। এখানে জোর করা, ভয় দেখানোর প্রশ্ন আসছে কী করে?” সংগঠনও কি এবার আইনি পথে হাঁটবে? জানতে চাইলে রানা জানান, সব সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঠিক করা হবে। প্রসঙ্গত, কমিটির কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এখন দিল্লিতে। ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান আনতে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ভবনে। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি দিল্লিতে। তাই সবিস্তার না জেনে এখন কিছু বলতে পারবেন না। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন দুটো আলাদা সংগঠন। প্রথমটি অভিনেতাদের ভাল-মন্দ দেখে। দ্বিতীয়টির দায়িত্বে কলাকুশলীরা। লীনা-শৈবালের বিরুদ্ধে কী করে দুটো আলাদা সংগঠন জোট বাঁধলেন? প্রশ্ন তুলেছেন অর্ক। তাঁর অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও। কী বলবেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি? স্বরূপের বক্তব্য, “প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ফিরুন। বিষয়টি আগে জেনে নিই। সবার সঙ্গে আলোচনা করি। তার পর না হয় পদক্ষেপ করার কথা ভাবব।”





