RK NEWZ শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া একটি ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে অশান্তির সূত্রপাত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশকর্মীর হাতে ট্যাটু দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন কৌস্তভ বাগচী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠল টিটাগড়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে খড়দহ থানার পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সেখানেই এক পুলিশকর্মীর হাতে ট্যাটু দেখে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর কর্মীর হাতে ট্যাটু কীভাবে থাকে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি বিধায়ক। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। এক পুলিশকর্মীর হাতে ট্যাটু দেখে প্রকাশ্যেই আপত্তি জানান তিনি। তা নিয়েই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছে বিজেপি। যদিও অস্বীকার করেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীর দাবি, বিজেপি অকারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় মার্বেল ঠিকাদার তথা বিজেপি কর্মী অজয় বাগ। এরই মধ্যে ‘কাটমানি’ দাবি ও মারধরের অভিযোগে টিটাগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক বিজেপি কর্মী। ঘটনায় বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিধান রাও-সহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে অভিযোগে। জানা গিয়েছে, টিটাগড় পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাটা গেট এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া একটি ব্যানার ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পান বিজেপি কর্মীরা। সেখানে পৌঁছন কৌস্তভ বাগচী। কিছুক্ষণে আসে খড়দহ থানার পুলিশ।
টেন্ডার হয়েছিল প্রায় দেড় বছর আগে। তারপর বছর খানেক আগে রাস্তা তৈরির কাজও শুরু হয়। প্রথমদিকে কিছুটা কাজ হওয়ার পর আচমকাই উধাও হয়ে যান ঠিকাদার! থমকে যায় রাস্তার কাজ। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই অসমাপ্ত রাস্তার কাজ ঘিরেই এবার শোরগোল পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার মলানদিঘির রুইদাস পাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তা, কাদা, ধুলো আর জল জমার সমস্যায় নাজেহাল এলাকার মানুষ। বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এলাকার মানুষজন। প্রাক্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘কাটমানি’ তোপ দেগেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু প্রতিশ্রুতি, বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পর অবশেষে ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে এলাকায় পাকা ড্রেনও তৈরি হয়। রাস্তার জন্য ফেলা হয়েছিল ছাই ও কিছু নির্মাণ সামগ্রী। সেগুলো রাস্তায় ছড়ানো হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু তারপর থেকেই কার্যত থমকে যায় গোটা কাজ। আজও কাঁচা রাস্তাতেই যাতায়াত করতে বাধ্য এলাকার মানুষ। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির ঝড় উঠলেও কাজের বেলায় দেখা মেলে না জনপ্রতিনিধিদের। রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারকে আর এলাকায় দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, টেন্ডার হওয়ার পরেও কেন শেষ হল না কাজ? কোথায় গেল বরাদ্দ টাকা? কেন বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হচ্ছে? স্থানীয় বাসিন্দা বাপন রুইদাসের অভিযোগ, ‘‘সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা হয়ে যায় রাস্তা। যাতায়াত কার্যত থমকে যায়। বাড়ির মধ্যে সাপ, ব্যাঙ-সহ বিষাক্ত জীবজন্তুর উপদ্রব। কেন যে রাস্তা হল না, আমরাও বুঝতে পারিনি।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বর্তমান শাসকদল বিজেপি। কাঁকসা ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি শুভাশিস মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “তৃণমূলের আমলে মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পেত। এখন মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। রাস্তার টেন্ডার হওয়ার পরেও কেন কাজ সম্পূর্ণ হল না, সেই বিষয়ে ঠিকাদারের কাছে জবাব চাওয়া হবে। কত টাকা কাটমানি নেওয়া হয়েছে, কারা সেই টাকার ভাগ পেয়েছে, সেটাও তদন্ত করে বের করা হবে।” পালটা মলানদিঘি অঞ্চলের তৃণমূল যুব সভাপতি অনন্তরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, “রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল ঠিকই। ছাইও ফেলা হয়েছিল। কিন্তু পরে ঠিকাদারকে আর দেখা যায়নি। বিষয়টি আমরা বিডিওকে জানিয়েছি। প্রশাসন নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” এ বিষয়ে দুর্গাপুর পূর্বের নবনির্বাচিত বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “কেন রাস্তার কাজ হল না, তা তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের আধিকারিকদের বলব। এলাকার মানুষ যাতে বিজেপি সরকারের আমলে কোনও কাজ থেকে বঞ্চিত না থাকে সেই ব্যবস্থা করব।”





