RK NEWZ চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে একটি সিট গঠিত হয়েছে। সেই সিটের একটি দল অভিযুক্তদের খোঁজে হানা দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে। রবিবার রাতে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তিন সন্দেহভাজনকে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে তিন জনকে গ্রেফতার করল তদন্তকারী দল। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই তিন সন্দেহভাজনকে। চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠিত হয়েছে। সেই সিটের একটি দল আততায়ীদের খোঁজে হানা দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে। রবিবার রাতে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় তিন সন্দেহভাজনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, অন্তত এক-দেড় মাস আগে থেকে চন্দ্রনাথকে খুনের ছক কষা হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁকে হত্যা করার মতো কারণ কার কার থাকতে পারে, কারও সঙ্গে চন্দ্রনাথের বচসা হয়েছিল কি না, দেখা হচ্ছে। খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনার দিনই বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি রয়েছে, সেটি ভুয়ো। এর পর দুষ্কৃতীদের দু’টি বাইকও উদ্ধার করা হয়। তবে দু’টি বাইকেরই নম্বরপ্লেট ভুয়ো বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ময়ঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিং। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে পেশাদার ‘শুটার’ও রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়ঙ্ক এবং ভিকিকে বিহারের বক্সার থেকে ধরা হয়েছে। রাজকে ধরা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে। তাঁদের ইতিমধ্যে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে অন্য একটি চারচাকার গাড়ি চলে এসেছিল। তার ফলে চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। সেই সময় দু’পাশ থেকে দু’টি বাইকে চেপে আসে দুষ্কৃতীরা। চন্দ্রনাথ এবং তাঁর গাড়ির চালককে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর গাড়ির চালক এখনও হাসপাতালে। চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে যে সিট গঠিত হয়েছে, তাতে এসটিএফ এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র আধিকারিকেরাও আছেন। যে গাড়িটি খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ওই গাড়ি থেকে বালি টোলপ্লাজ়ায় অনলাইনে টাকা পাঠানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু হয় বলে সূত্রের খবর। সাধারণ মানুষের মনের শঙ্কা ওড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানিয়ে দিলেন, “কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না।” প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর শুভেন্দু সাফ জানান, “প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না। তবে প্রতিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা হবে। কোনও মৃত ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া কোনও ‘অভারতীয়’কেও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না।” তৃণমূল সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল দু’টি জনমুখী প্রকল্প। একটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং দ্বিতীয়টি স্বাস্থ্যসাথী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় প্রত্যেক মহিলা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে পেতেন। তফশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলা পান ১ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা চালু ছিল। সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আজ থেকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় বাংলা। এছাড়াও ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এদিনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল:
প্রথম সিদ্ধান্ত: যাঁদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকার।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত: রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই সীমান্ত রক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হল রাজ্য।
চতুর্থ সিদ্ধান্ত: রাজ্যের আইপিএস, আইএএসরা কেন্দ্রের কোনও ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে চাইলে তাঁরা পারবেন।
পঞ্চম সিদ্ধান্ত: আজ থেকে রাজ্যে লাগু ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি লাগু ছিল বঙ্গে।
ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত: সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল।
এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি বিজেপি কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নিল রাজ্যের নবনির্বাচিত সরকার। নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, মৃত ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। নিহত কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে সকল বিজেপি কর্মীদের আত্মবলিদানের মাধ্যমে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানান শুভেন্দু। রাজনৈতিক সন্ত্রাসে রাজ্যের ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি এই সব কর্মীর পরিবারগুলির সামাজিক ও অন্যান্য দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং হয়। এই মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সরকারের আরও ৫ মন্ত্রী। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছয়টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহিদ বিজেপি কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হল রাজ্যকে। রাজ্যের আইপিএস, আইএএসরা কেন্দ্রের কোনও ট্রেনিংয়ে এতদিন অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে চাইলে তাঁরা ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারবেন। আজ থেকে রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা লাগুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতদিন বঙ্গে অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি লাগু ছিল বলে জানান শুভেন্দু। সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া নিল নতুন সরকার। বাংলায় প্রচারে এসেই বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন প্রচুর বিজেপি সমর্থক। ভোটের সময় ও ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন হয়েছেন বহু বিজেপি নেতা-কর্মী। ২০২১ সালে রাজ্যে তৃতীয় বারের জন্য তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ঘরছাড়া ছিলেন বহু বিজেপি সমর্থক পরিবার। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন অনেক কর্মী। রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে সেই সব কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নিল বিজেপি সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





