RK NEWZ আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের খেলা ছিল বেঙ্গালুরু এফসি-র সঙ্গে। গ্যালারিতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা একটি টিফো তুলে ধরেন। তাতে মোহনবাগানের সবুজ-মেরুন রঙে লেখা, ‘‘ওয়েল ডান জামশেদপুর পুলিশ। আসছে বছর আবার হবে।’’ এর মধ্যে ‘ডান’ শব্দটির ‘ও’ অক্ষরটি একটি বেল্টের আদলে লেখা হয়েছে। এই লেখা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক, চলছে সমালোচনা। ৪ এপ্রিল মোহনবাগানের অ্যাওয়ে ম্যাচ ছিল জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মোহনবাগানের কয়েকজন সমর্থক আক্রমণের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। কয়েক জন গুরুতর আহত হন। জামশেদপুরের সমর্থকদের পাশাপাশি অভিযোগের আঙুল উঠেছিল জামশেদপুর পুলিশের বিরুদ্ধেও। এ বার লাল-হলুদ সমর্থকদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মোহনবাগান সমর্থকদের আক্রমণ করার জন্যই জামশেদপুর পুলিশকে বাহবা দিয়েছেন। মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, এটি বাংলার অপমান এবং বাংলার সংহতির বিরোধী। দেবাশিসের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘‘মাঠের লড়াই কি আমাদের জাত্যাভিমানকেও হারিয়ে দিল? এক হাতে মোহনবাগান, অন্য হাতে ইস্টবেঙ্গল— এই দুই স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলার ফুটবল আবেগ। কিন্তু আজ সেই আবেগ কি দিগ্ভ্রান্ত? জামশেদপুরে খেলা দেখতে গিয়ে আমাদেরই ঘরের ছেলে মোহনবাগান সমর্থকেরা আক্রান্ত হলেন। কারও মাথা ফাটল, কারও পড়ল ১০টি সেলাই। সেই রক্ত কোনও নির্দিষ্ট ক্লাবের নয়, সেই রক্ত ছিল একজন বাঙালির। ভিন্রাজ্যে গিয়ে যখন নিজের রাজ্যের মানুষ লাঞ্ছিত হন, তখন সেটা গোটা বাংলার অপমান।’’ ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘‘কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের গ্যালারিতে যখন সেই ঘটনার হোতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার ঝোলানো হয়, তখন মাথা লজ্জায় নত হয়ে আসে। ব্যানারের ওই ভাষা কি শুধু মোহনবাগানকে বিঁধল? না, ওই ভাষা অপমান করল ফুটবলকে, অপমান করল বাংলার চিরকালীন সংহতিকে।’’ ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকারের বক্তব্য, ‘‘এটা অতি উৎসাহ থেকে কেউ করেছে। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। আবার সমর্থনও করছি না। যে করেছে, সে কিছু ভেবে করেছে বলে মনে হয় না। এমনিই হয়তো করে ফেলেছে। বিরাট কোনও অন্যায় করেনি, যাতে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিতে হবে। গোটা বিশ্বেই সমর্থকদের অতি উৎসাহে অনেক কিছু ঘটে। এটাও তেমনই। যে করেছে, তাকে বোঝাতে হবে।’’





