RK NEWZ চিরাচরিত ময়দানি রেওয়াজে বারপুজো সেরেই বাংলা বছরের পথচলা শুরু হল কলকাতা ফুটবল ময়দানে। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি ভবানীপুর ক্লাবেও পালিত হল বারপুজো। ফুটবলার-কর্মকর্তাদের সমাগমে উৎসবের মেজাজ ধরা পড়ল ক্লাব প্রাঙ্গণে। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলাররাও। মোহনবাগানের কথায় আসা যাক। উপস্থিত ছিলেন সবুজ-মেরুন অধিনায়ক শুভাশিস বসু এবং মনবীর সিং। শুভাশিস বললেন, “এ বছর ট্রফি জেতার লক্ষ্য থাকবে। সমর্থকদের এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে এদিনই। বাঙালি ও কলকাতার ছেলে হিসাবে ভাগ্যবান যে, বারপুজোয় থাকতে পেরেছি। এবার যেন ট্রফি আসে, সেই প্রার্থনাই করছি।” এবার প্রথমবার বারপুজো দেখলেন মনবীর সিং। তিনি বললেন, “এই সংস্কৃতি আলাদা। দারুণ লাগে। প্রাক্তন প্লেয়াররা আমাদের মোটিভেট করলেন। বললেন, কেরিয়ারে ওঠানামা আসবে। কিন্তু লেগে থাকতে হবে। নতুন বছরে সংকল্প হল ট্রফি জেতা।” মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের স্পনসর রিপ্লের তরফে ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স ও হকির জার্সি উন্মোচিত হয়েছে এদিন। এমন একটা দিনে নিজেদের সংকল্প স্পষ্ট করে দিলেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস এবং সভাপতি দেবাশিস দত্ত। সৃঞ্জয় বোস বললেন, “নতুন বছরে আমাদের একটাই সংকল্প, মোহনবাগান যেন সব জায়গায় সেরা হয়। আমরা সব সময় এটা প্রার্থনা করি। পয়লা বৈশাখের দিনেও এই প্রার্থনাই করব।” চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নতিই লক্ষ্য বলে জানালেন বাগান কর্তারা।

পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের বারপুজোয় সিনিয়র দলের ফুটবলাররা না থাকলেও মহিলা দল এবং প্রাক্তন ফুটবলাররা ছিলেন। ঐতিহ্য বজায় রেখেই বিশেষ এই দিনে লাল-হলুদের নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করলেন শীর্ষ কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার। মশাল বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন মহম্মদ রাকিপ। সহ-অধিনায়ক হিসাবে নির্বাচিত হলেন লালচুংনুঙ্গা। ইস্টবেঙ্গলের বারপুজোয় হাজির এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, আগামী বছর ইস্টবেঙ্গল মাঠেই ফের ফুটবল খেলা শুরু হবে। তিনি আশাবাদী, ফুটবলাররা যদি সেরাটা দিতে পারেন এবং নিজেদের সঠিকভাবে প্রস্তুত করেন, তবে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষমতাও রাখে। নববর্ষ উপলক্ষে ভবানীপুর ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ও বর্তমান একাধিক ফুটবল ব্যক্তিত্ব। সবুজ তোতা ব্যারেটো, সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়, ডেনসন দেবদাস, শিলটন পাল ও সামাদ আলি মল্লিক প্রমুখ। এক ঝাঁক খুদে ফুটবলারদের সামনে রেখেই হল বারপুজোর অনুষ্ঠান। উৎসবের আবহে জমে ওঠে ক্লাব প্রাঙ্গণ। এই শুভ দিনে খিদিরপুর, উয়াড়ি, কাস্টমস, পুলিশ এসি এবং ডায়মন্ড হারবার এফসিতেও বারপুজোর আয়োজন করা হয়, যেখানে ক্লাব সদস্য ও সমর্থকদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।





