RK NEWZ টানা ২৮ বছর ধরে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সিপিএমের এই প্রবীণ নেতা। যা বামফ্রন্টের ইতিহাসে নজিরবিহীনও বটে। বামফ্রন্ট গঠনের পর থেকে আর কোনও নেতাকে এত বেশি দিন এই পদে দেখা যায়নি। রাজ্যের বামপন্থী রাজনীতির ‘পিতামহ ভীষ্ম’ তিনি। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান শৈলেন দাশগুপ্ত প্রয়াত হলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিমানকে। এরপর ২০০৬ সালে তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস প্রয়াত হওয়ার পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে পড়েছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিমান একা হাতেই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও পার্টির রাজ্য সম্পাদক, এই দুই দায়িত্বই সামলেছিলেন। তারপর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের পদে আসেন সূর্যকান্ত মিশ্র। তখন থেকে বিমান আবার এককভাবে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা থেকে আরও নানা বিষয় সামলাতে হয় তাঁকেই। আর শরিকদলের নেতারাও মানেন বিমানকেই। কোথায় কোথায় কর্মিসভা বা মিছিল করে ভোটপ্রচারে অংশ নিচ্ছেন বিমান বসু? যেখানে বামেদের ভালো অবস্থা, তৃণমূলের সঙ্গে ভালো লড়াই দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেই প্রচারে যাচ্ছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। এই নির্বাচন বামেদের কাছে চ্যালেঞ্জের। সেই পরিস্থিতিতে আসন বুঝে অল আউট ঝাঁপিয়েছে বামফ্রন্ট। গুরুত্বপূর্ণ আসনে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে ও রণকৌশল সাজাতে বিমান বসুর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় কর্মিসভাও করছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। সোমবার জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী ভরতরাম তিওয়ারির সমর্থনে প্রচারে ছিলেন বিমান। এর আগে যাদবপুরে বিকাশ ভট্টাচার্যর সমর্থনে মিছিলে হেঁটেছেন। আবার রবিবার বরানগরে করেছেন রোড-শো। কাশীপুর-বেলগাছিয়া গিয়েছিলেন। যাদবপুর, বরানগর ও কাশীপুরে বিমান বসুকে ঘিরে ছিল উচ্ছ্বাস। কর্মীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে উদ্দীপনার ছবি। দীপ্সিতা ধর, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অনেকেই চাইছেন প্রবীণ এই নেতাকে গরমে বেশি ধকল না দিতে। তবে প্রচারে থাকতে যে তাঁর কোনও সমস্যা নেই, তিনি ফিট তা জানিয়ে দিয়েছেন বিমান। আর তাই ভোট ময়দানে নেমেও পড়েছেন। বামেদের শূন্যের কাটাতে গেরো এখনও অন্যতম ভরসার নাম বিমান বসুই। বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থীরাও চাইছেন অন্তত একবার আসুন ‘বিমান-দা’। আর তাই স্বমহিমায় এবারও ময়দানে নেমেছেন ৮৬ বছরের ‘তরুণ’ বিমান। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনও বামেদের কাছে কঠিন লড়াই। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়নি। আইএসএফকে সঙ্গী করে লড়ছে বামফ্রন্ট। ফল খারাপ হলে, শূন্যের গেরো না কাটলে দলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে। যা ভবিষ্যতে পার্টির পক্ষে খারাপ। কাজেই সিপিএম কোনওদিকে খামতি রাখতে চাইছে না। কর্মীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামাতে হয়েছে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত সেই মানুষটাকে। কর্মীদের চাঙ্গা ও উজ্জীবিত করতে ভোটপ্রচারে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ৮৬ বছর বয়সেও মিছিলের প্রথম সারিতে দেখা যাচ্ছে বিমান বসুকে। যদিও নিজেই স্বীকার করেছেন, আগের মতো পুরোটা হাঁটা সম্ভব হয় না, তবুও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ তিনি। সিপিএমের অন্য যে কোনও নেতার থেকে পার্টিতে শুধু নয়, শরিকদের মধ্যেও বিমান বসুর জনপ্রিয়তার ধারেকাছে কেউ নেই। তাই তিনিই যেন ৮৬ বছরের ‘তরুণ’ বিমান এখনও বামফ্রন্টের ‘তারকা’ প্রচারক।

প্রচার ফেলে হাসপাতালে, রক্তদান করে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচালেন সিপিএম প্রার্থী! বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। উত্তরবঙ্গে জোরকদমে প্রচার করছে রাজনৈতিক দলগুলি। সভা, মিছিলও চলছে। সেই আবহে বাম প্রার্থীর মানবিকতার ছবি ধরা পড়ল। প্রচারের বেরিয়ে খবর পেয়েছিলেন, হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজন। এদিকে রক্তের সংকট রয়েছে। বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। উত্তরবঙ্গে জোরকদমে প্রচার করছে রাজনৈতিক দলগুলি। সভা, মিছিলও চলছে। সেই আবহে বামপ্রার্থীর মানবিকতার ছবি ধরা পড়ল। প্রচারে বেরিয়ে খবর পেয়েছিলেন, হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজন। এদিকে রক্তের সংকট রয়েছে, ডোনার ছাড়া রক্ত দেওয়া যাবে না। এমন কথাই হাসপাতালের তরফে রোগীর পরিজনদের বলা হয়েছিল। সে কথা শুনে আর কালবিলম্ব না করে প্রচার না করেই হাসপাতালে ছুটলেন বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী। রক্তদান করে ওই রোগীর জীবন বাঁচালেন তিনি। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে।

গঙ্গারামপুর কেন্দ্রে এবার সিপিএমের প্রার্থী বিপ্লব বর্মন। এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচারের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে জনসংযোগও করছেন তিনি। রবিবার সকালেও কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। গঙ্গারামপুরের ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চলছিল। সেসময় খবর আসে, গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর দ্রুত রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু সেই রক্ত মিলছে না। রক্তদাতারও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ডোনার না পাওয়া গেলে ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়, সে কথা জানানো হয়েছিল। সেই কথা শোনার পরই প্রচার ফেলে সিপিএম প্রার্থী বিপ্লব বর্মন সোজা হাসপাতালের ব্লাডব্যাঙ্ক চলে যান। রক্ত দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। কিছু প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁর রক্ত নেন। সময় মতো রক্ত না পেলে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে যেত। এমনই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে সিপিআইএম প্রার্থী বিপ্লব বর্মন জানিয়েছেন, তিনি ১৮ বছর বয়স থেকে রক্ত দিয়ে আসছেন। রক্তদান মানে জীবন দান, সেই বিশ্বাসেই প্রচার ফেলে এসে রক্ত দেওয়া।





