RK NEWZ ভোটের ঠিক আগে তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক কর্তা বিনেশের গ্রেফতারি। নয়াদিল্লিতে গ্রেফতার আইপ্যাক কর্তা! বিধানসভা ভোটের মুখেই কয়লাচুরি মামলায় সক্রিয় ইডি। বিপাকে তৃণমূল-সহযোগী সংস্থা। কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আবার আইপ্যাক-কর্তার ঠিকানায় হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ বার তাদের নিশানায় ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। তাঁকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক কর্তা বিনেশের গ্রেফতারি নিয়ে সোমবার রাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এটি গণতন্ত্র নয়—ভীতিপ্রদর্শন।’’ ইডির সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, দিল্লিতে ‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন’ (পিএমএলএ)-এ চান্দেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ২ এপ্রিল ইডি দিল্লিতে চান্দেলের বাসভবন ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংহের এবং মুম্বইয়ে আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রাক্তন যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় নায়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি। ৮ জানুয়ারি এই মামলায় আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার আর এক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে ঢোকায় বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ইডির আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার অনির্দিষ্ট কালের জন্য তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত।

পশ্চিম বর্ধমানের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর তিনটি খনি সম্পর্কিত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরি কেলেঙ্কারির ওই অভিযোগে ইসিএলের কয়েক জন প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সে সময়। ইডির দাবি, কয়লা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটর আইপ্যাক-‘ঘনিষ্ঠ’ সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন। কয়লা চুরি থেকে পাওয়া প্রায় ২০ কোটি টাকার হাওয়ালা তহবিল আইপ্যাকের কাছে পৌঁছেছিল বলেও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে। ইডি সূত্রে আরও দাবি, ওই হাওয়ালা তহবিল যে সংস্থার মাধ্যমে আইপ্যাকের কাছে এসেছিল, সেই সংস্থাটি দিল্লির তথাকথিত আবগারি দুর্নীতির টাকা পাচারেও যুক্ত। ইডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক ‘হাওলা’ অপারেটর আই-প্যাকের নিবন্ধিত সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন সহজতর করেছিল। আইপ্যাকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতার অফিসে এখনও কোনও বিধিনিষেধ জারি হয়নি। তৃণমূলের পাশাপাশি, তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-র হয়েও কাজ করছে আইপ্যাক। দুই রাজ্যের আইপ্যাক ইউনিটের দায়িত্ব বণ্টন স্থির করতে মঙ্গলবার সকালে ভিডিয়ো কনফারেন্স হতে পারে। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের সঙ্গে তামিলনাড়ুর ২৩৯টি বিধানসভা আসনের সব ক’টিতেই ভোটগ্রহণ হবে।

এর পরেই ‘অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষমতার পরিকাঠামো’র উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা— ‘‘৪ এবং ৫ মে বাংলায় থাকুন। জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনারা যে সব সংস্থা ব্যবহার করেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে আসুন। বাংলা ভয় পাবে না, চুপ থাকবে না এবং মাথা নত করবে না। এটি এমন এক ভূমি, যা চাপের জবাব দেয় প্রতিরোধে। সেটির অর্থ কী, তা আপনাদের স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া হবে।’’ প্রসঙ্গত, কয়লাচুরি মামলায় ইডির এই তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর নভেম্বর ২০২০-এর একটি এফআইআর সম্পর্কিত। সেই এফআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের আশেপাশের কুনুস্টোরিয়া ও কাজোড়া এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের খনির সঙ্গে যুক্ত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরির কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সক্রিয় ইডি! ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল গ্রেপ্তার। কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে খবর। দিল্লিতেই এই গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটেছে। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ২ তারিখে ইডির আধিকারিকরা ভিনেশ চান্ডেলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন। এরপর আজ, সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই চালাচ্ছে। এবার সেই কয়লা পাচার মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হল ভিনেশ চান্ডেলকে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রসঙ্গত, ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে চান্দেলকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী কাল মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে। আগামী পরশু, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি আছে। সেই শুনানির আগে এই গ্রেপ্তারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রসঙ্গত, এর আগে এই ভোটকুশলী সংস্থার আরও দুই ডিরেক্টর প্রতীক জৈন ও ঋষি রায় সিংকে ইডি তলব করেছিল। সামনেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেসজন্য ভোটের পরেই ওই হাজিরা দেওয়ার জন্য প্রতীক-ঋষি আদালতে আবেদন করেছেন। দিল্লি হাই কোর্টে ওই আবেদন করা হয়েছে বলে খবর। ইডির অভিযোগ, বাংলায় কয়লা পাচারে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছিল। চলতি বছর, জানুয়ারি মাসে আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের অফিসে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তল্লাশিতে বাধা দেওয়া ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ইডি আইপ্যাকের অফিস থেকে নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করেছে।





