পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের প্রচার সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী। পশ্চিমবঙ্গের জনসভাগুলিতে জনসমাগম দেখে আপ্লুত মোদী জানিয়েছেন, গুজরাতেও এমন সভা তিনি করতে পারবেন না। কাঠফাটা রোদে জনতার এই উচ্ছ্বাসই বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। মোদী বলেন, ‘‘বাংলার মাটি শিল্পের মাটি। এখানে কত শিল্পী! কত রকমের ছবি এঁকে এনেছেন! কেউ তো মোদীকে নেপালি বানিয়ে দিয়েছেন। ছবির পিছনে আপনাদের ঠিকানা লেখা থাকলে আমি ধন্যবাদপত্র পাঠাব। আপনারা এত ভালবাসেন, আবার বিরক্তও করেন! বাংলার মানুষ আমাকে এত আশীর্বাদ করছেন। আমিও কথা দিলেন, আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। আপনাদের জন্যেই বাঁচব।তৃণমূলের ১৫ বছরের কাজকর্ম আপনারা দেখেছেন। এত তরুণ-তরুণীকে দেখছি। ১৫ বছর আগে আপনারা হয়তো প্রথম শ্রেণীতে প়ড়তেন। এখন আপনারা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যাবেন। তৃণমূল কোনও কাজ করেনি। শুধু দুর্নীতিই করেছে।উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছা করে পিছিয়ে রেখেছে তৃণমূল। কাজ করেনি। কাজ হতে দেয়নি। কেন্দ্রের টাকা ব্যবহার করেনি। নির্মম এই সরকার মাদ্রাসার জন্য ৬ হাজার কোটির বাজেট বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এত বড় উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করেনি। নিজেদের বিশেষ ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতেই ওরা ব্যস্ত। যখন এখানে এত বৃষ্টি হল, চারদিকে হাহাকার, তখন তৃণমূলের সরকার কলকাতায় উৎসব পালন করছিল। তৃণমূল উত্তরবঙ্গ বিরোধী, আদিবাসীবিরোধী, চা-বাগানবিরোধী, মহিলা আর যুববিরোধী দল। তাই পশ্চিমবঙ্গে এ বার পরিবর্তন দরকার।উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের নীতি শুধু উপেক্ষা করা আর ভয় দেখানো। ৪ মে-র পর নতুন সরকার আসবে। সব বদলে যাবে। অনেক হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আর সহ্য করবে না। আর নয়, ভয় নয়। ভরসা চাই। এটাই বিজেপির মন্ত্র।দেশে একটা টুকরে টুকরে গ্যাং আছে। সেই গ্যাং শিলিগুড়ি করিডরকে কাটার হুমকি দিয়েছিল। উত্তর-পূর্বকে দেশ থেকে আলাদা করতে চেয়েছিল। তেমন লোকজনকে তৃণমূল রাস্তা থেকে সংসদ পর্যন্ত সমর্থন করে। এটাই ওদের আসল চেহারা। বিজেপির জন্য শিলিগুড়ি করিডর দেশের সুরক্ষা আর সমৃদ্ধির করিডর। আমরা তার উন্নয়নের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছি।আপনাদের প্রধান সেবক বাংলার উন্নয়নের জন্য সবরকম চেষ্টা করছে। কিন্তু তৃণমূল কেন্দ্রের সব কাজে বাধা দিচ্ছে। পোরবন্দর থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম করিডরের কাজও এই কারণেই এখনও পূর্ণ হয়নি। বিজেপি সরকার এলে দ্বিগুণ গতিতে পশ্চিমবঙ্গের বিকাশ হবে। আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য অনেক ঘোষণা করেছি। ক্যানসার হাসপাতাল, ফ্যাশন ইনস্টিটিউট, আইআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠান এখানে তৈরি করা হবে।চা-বাগানের উন্নতিতে নজর দেয়নি তৃণমূল। প্রতিবেশী অসমকে দেখুন চা বাগানে বিজেপি কত সাহায্য করেছে। ভূমির পাট্টাও দিয়েছে। আপনাদের এখানকার চায়ের স্বাদ আমার চেয়ে ভাল আর কে জানবে! উত্তরবঙ্গের মেয়ে রিচা ঘোষ এত লম্বা লম্বা ছক্কা মেরেছিল। আমি ওর আত্মবিশ্বাসে অনুপ্রাণিত। বিজেপি এই রাজ্যের প্রত্যেক মেয়ের মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস দেখতে চায়। মেয়েদের তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। এই টাকা আপনাদের থেকে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আদিবাসীদের জন্য অনেক কাজ করছে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের সরকার তাতেও বাধা দিচ্ছে। আদিবাসী গ্রামে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে কেন্দ্র। বিহারে কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই রাজ্যে ২৫ শতাংশ কাজও শেষ করা যায়নি। গরিব আর আদিবাসী পরিবারের উপর এমন অত্যাচার করে চলেছে তৃণমূল। ভয়ের সাম্রাজ্য তৈরি করে রেখেছে ওরা। এটা সরাতে হবে। একমাত্র বিজেপিই এই কাজ করতে পারে। সব গুন্ডা মাফিয়াদের জেলে পাঠাবে বিজেপি সরকার। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য উত্তরবঙ্গে সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয়েরা কাজ হারাচ্ছেন। এখনই এটাকে আটকাতে হবে। পদ্ম ফোটান। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ান। দিন বদলে যাবে।বামেদের সুযোগ দিয়েছেন। তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছেন। মোদীকে একটা সুযোগ দিন। নারীদের সুরক্ষার জন্য, কর্মসংস্থানের জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, গরিবকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য, বাংলার সংস্কৃতিকে তুষ্টিকরণ থেকে বাঁচানোর জন্য একটা সুযোগ মোদীকে দিন।’’





