Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পশ্চিমবঙ্গকে আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র গড়ে তুলব :‌ শাহ ! বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন,তৃণমূল পেয়েছে ১৫ বছর,পাঁচ বছর মোদীকে দিয়ে দেখুন :‌ মোদি

RK NEWZ সর্বমঙ্গলা ও ১০৮ শিবমন্দিরকে প্রণাম জানিয়ে বাংলায় ভাষণ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আপনাদের ভালবাসায় আমি আপ্লুত। প্রত্যেক বারই আপনারা ভিড়ের রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন। এটা শুধু ট্রেলার। তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির হিসাব নেব। তৃণমূলের ১৫ বছরের নির্মম শাসনের হিসাব হবে। এই জনজোয়ার বাংলায় পরিবর্তনের জন্য তৈরি। ভয় আউট, ভরসা ইন, বিজেপিকে ভোট দিন। বাংলার মানুষ বামেদের সরিয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে মা-মাটি-মানুষের কথা শুনে তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল তো বামেদের কার্বন কপি হয়ে গিয়েছে। সব গুন্ডা তৃণমূলে চলে এসেছে। বামেদের সব দুর্নীতি তৃণমূল নিয়ে নিয়েছে। এখন তারা আবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ওরা ভুলে যাচ্ছে, এটা নেতাজির মতো বীরের ভূমি। তৃণমূলের ভয়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে বিজেপির ভরসা। তাই এ বার তৃণমূলকে বার বার বাংলা বলছে, এই সব চলবে না। দক্ষিণ দিনাজপুরের পুণ্যভূমিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানাচ্ছি। সবার আগে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ, সভার যে প্ল্যানিং করা হয়েছে, যে প্যান্ডেল করা হয়েছে, তা খুব ছোট হয়ে গিয়েছে। যত জন ভিতরে আছেন, তার তিন গুণ বাইরে আছেন। তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। তবে সকলকে আশ্বস্ত করছি, এই পরিশ্রমকে বেকার হতে দেব না। এই ভালবাসা ১০০ গুণ করে ফেরত দেব। উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত দেব। এই তৃণমূলের মা-মাটি-মানুষের জন্য কত মিথ্যা বলে ভোটে জিতে ক্ষমতায় বসেছে। এখন দিনরাত আমাদের গালি দেন। মিথ্যা অভিযোগ করেন। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে কী করেছেন, মানুষকে বলুন না? গত ১৫ বছরে যখন কিচ্ছু করেনি, আরও ৫ বছরে কী করবে? কী উন্নয়ন হয়েছে? এরা ১৫ বছরের কথা বলে না। কারণ, দুর্নীতি, মিথ্যার সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে। একটাই মডেল গড়ে তুলেছে ১৫ বছরে। এখানে সিন্ডিকেটই সরকার, সরকারই সিন্ডিকেট। বাংলা ছাড়া কোথাও তৃণমূল নেই। অসম, ত্রিপুরা, গোয়ায় কেউ এদের ভোট দেয় না। কারণ, সেখানে ওদের গুন্ডামি চলে না। এরা একটি জায়গায় পিএইচডি করেছে। গুন্ডামি। ভয় দেখিয়ে ভোট লুট করার। গতকালই ঘোষণাপত্র দিয়েছে বিজেপি। এখানে মোদী কি গ্যারান্টি রয়েছে। বিজেপি সরকার ভয়কে খতম করে ভরসা জোগাবে। আইনের শাসনের উপর মানুষের আস্থা ফিরবে। আমরা তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি, দাঙ্গা, ধর্ষণ, খুনের মতো অত্যাচার সামনে আনার জন্য প্রমাণ দেব। পীড়িতদের ন্যায়বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা হবে। তৃণমূল ফুটবলকেও সিন্ডিকেটের কাছে দিয়ে দিয়েছে। মহাজঙ্গলরাজের দিশা দিয়েছে। আরও এক ঐতিহাসিক ছবি দেখেছি। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল জেতার জন্য লড়ে। কিন্তু যখন আরজি করে এক চিকিৎসককে খুন করা হয়েছিল, তখন সকলে রাস্তায় নেমেছিলেন। দুই ফুটবল ক্লাবও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ ভাবে আমাদের সবাইকে তৃণমূল সরকারকে সবক শেখাতে হবে। দিনাজপুরেও গত কয়েক বছরে মহিলাদের সঙ্গে অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সে সব ভুললে চলবে না। মেয়েদের জন্য মোদীর গ্যারান্টি— সমস্ত ধর্ষণের মামলার ফাইল খুলব। খুঁজে খুঁজে হিসাব নেব। কী ভাবে হবে, সেটা ঘোষণাপত্রে বলে দিয়েছে বিজেপি। মহিলা কল্যাণ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের সুরক্ষা, তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সচেষ্ট হব। এখানে মহিলারা যে ভাতা পান, তার ডবল দেব আমরা। সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন মহিলারা। দিনাজপুরের বিশ্ববিদ্যালয় তৃণমূলের দুর্নীতির বড় জায়গা। খবরকাগজে পড়েছি, এদের নিজের ক্যাম্পাস নেই। কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। স্থায়ী শিক্ষক নেই। অস্থায়ী শিক্ষকেরা দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা পান। এই ভাবে যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তৃণমূল। পড়ার সুযোগ নেই রাজ্যে। কাজের জন্যও বাইরে যেতে হয়। পড়াশোনা করে চাকরি করতে গেলে মন্ত্রীই চাকরি লুট করেন। দেখেছেন, মন্ত্রীর বাড়িতে টাকার পাহাড় উদ্ধার। এনাফ ইজ় এনাফ। আর নয়। এই অবস্থা বদলানোর জন্য বিজেপিকে সরকারে আনুন। বাংলার রাজবংশী সমাজ, সাঁওতাল সমাজের ভূমিকা রয়েছে ভারতের উন্নতিতে। অনেক নায়ক রয়েছেন। তাঁদের জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের নিরন্তর প্রয়াস, আদিবাসী সমাজের দ্রুত উন্নয়ন হোক। আগে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ছিলেন আদিবাসীরা। আমাদের সরকার মাওবাদী-মুক্ত সমাজ দিয়েছে। বন্দুক নামিয়ে ছেলে মায়ের কাছে ফিরেছেন। আমাদের মন্ত্রিসভায় আদিবাসী রয়েছেন। ওড়িশায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী মুখ, ঝাড়খণ্ডেও তা-ই। এটাই আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড। কিন্তু তৃণমূল সাঁওতাল সমাজকে অপমান করে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু এসেছিলেন কিছু দিন আগে। তৃণমূল সংবিধানের মর্যাদা দেয়নি। আদিবাসী সমাজকে অপমান করেছে। তৃণমূলকে সবক শেখানো দরকার। তৃণমূল কখনও আদিবাসী উন্নয়নের শরিক হয়নি। ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানে, সেখানেই উন্নয়ন। বাড়ি পর্যন্ত পানীয় জল যায়, সে জন্য দিল্লি থেকে টাকা এসেছে। কিন্তু তার মাঝেও টিএমসি ঢুকে পড়েছে। আপনারা বিজেপিকে আনুন। মোদী কি গ্যারান্টি। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছোবে। অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করা হবে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে আবার বৈভবশালী রাজ্য করবে। তাই আমাদের প্রার্থীদের এখানে হাজির করেছি। বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূলকে ১৫, ৫ বছর মোদীকে দিয়ে দেখুন।’’

অমিত শাহ জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে বলেন, “এখানে মহিলারা আতঙ্কিত। সন্দেশখালিতে তৃণমূলের অনুপ্রবেশকারী নেতা আমাদের মা-বোনেদের বছরের পর বছর ধরে শোষণ করে গিয়েছে। তিনি তৃণমূলের ছিলেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ধরেননি। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ-সহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। আর মমতা দিদি বলেন, রাত ৭টার পরে মহিলারা কেন বাইরে যাবেন? মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। বিজেপির সরকার আসছে। রাত ১২টার সময়েও ছোট ছোট মেয়েরা নির্ভয়ে ঘুরতে পারবে, সেই রকম শাসনব্যবস্থা চালু করব। বিজেপির সরকার ভয়ের নয়, ভরসার সরকার হবে। বিএসএফ-এর জমি দরকার কাঁটাতার বসানোর জন্য। ১৫ বছর ধরে তিনি জমি দিচ্ছেন না। বিজেপি স্থির করেছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া হবে। অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কুড়মি এবং সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষ করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গঠন করুন। মহান কুড়মি ভাষাকে আমরা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব। আমাদের জঙ্গলের জমি অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করতে হবে কি হবে না? ভাইপো এটা করতে পারবে? মমতা দিদি করতে পারবে? ওরাই তো এনে রেখেছে। ওদের তো ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার আসবে। পুরো রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াব। তরুণদের উপার্জনের জন্য ভিন্‌রাজ্যে যেতে হয়। পশ্চিমবঙ্গে ৭০০০ কারখানা বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব কারখানা বাইরে চলে গিয়েছে। আমাদের আদিবাসী, কুড়মি ভাইয়েরা উপার্জন করতে পারেন না। এখান থেকে বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদ, দিল্লি, মুম্বই যেতে হয়। বিজেপির সরকার গঠন করুন। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্পূর্ণ চেষ্টা করব। তত দিন পর্যন্ত সকল বেকারকে মাসে তিন হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে।পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক মহিলাকে প্রত্যেক মাসে ৩০০০ টাকা করে দেব। প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদেরও মাসে ২০০০ টাকা করে দেব। কৃষকদেরও প্রতি বছরে ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।বিজেপির যে সরকার তৈরি হবে, তা কাটমানি এবং সিন্ডিকেট থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুক্ত করবে। সিমেন্ট, বালি, ইট কিনতে গেলে কাটমানি দিতে হয়। চিন্তা করবেন না। বিজেপির সরকার গড়ে দিন। কংসাবতী, সুবর্ণরেখার মতো পবিত্র নদী থাকার পরেও পুরো এলাকায় সাঁওতালি এবং কুড়মি সমাজকে জলের কষ্টে ভুগতে হয়। আমরা ২৫০ কোটি টাকা খরচ করে পুরুলিয়া এবং আশপাশের এলাকায় প্রত্যেক বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেব। মমতা দিদির গুন্ডারা অনুপ্রবেশকারীদের এতটাই তোষণ করে যে কোথাও কোথাও সরস্বতী পুজোও আটকানোর চেষ্টা হয়েছে। আমি বলে যাচ্ছি, মমতার সব গুন্ডারা কান খুলে শুনে নিক— ৫ তারিখের পর বিজেপির সরকার আসবে। রামনবমী হোক বা সরস্বতী পুজো, যেই সমস্যা তৈরি করবে, তারা রেহাই পাবে না।নির্বাচন কমিশন এসআইআর করছে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আর মমতা দিদির সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা তো সবে শুরু হয়েছে। এখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সরকার গড়ুন, আমরা ওদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়াব।মমতা দিদি ১৫ বছর ধরে নিজের ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার রাস্তা প্রশস্ত করা ছাড়া আর কিছুই করেননি। আমি আজ মমতা দিদিকে বলছি, ভাইপো কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রী হবে না। আপনাদের সময় শেষ। পশ্চিমবঙ্গও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিকাশের পথে এগোচ্ছে। বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণ হবে না। সময় এসেছে পশ্চিমবঙ্গকে বিকশিত করার।আমাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে আমরা বলেছি— ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে তাড়াব। এখানে অভিন্ন দেওয়ানবিধি চালু করব। প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা দেব।বিজেপির ৩০০ কর্মীকে খুন করা হয়েছে। ওরা ভাবছে এ ভাবেই ভোট জিতে নেবে। আমি বলে যাচ্ছি, এ বারের ভোটে মমতার গুন্ডাদের ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই। নির্বাচন কমিশন সঠিক ভাবে ভোটের সব ব্যবস্থা করেছে। যারা রিগিং করে, তাদের আমি বলে যাচ্ছি, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বিজেপি সরকার গঠনের পর তারা কেউ ছাড় পাবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles