Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কংগ্রেস এখন জলসাঘরের ভগ্ন জমিদারবাড়ি!‌ দলের অস্তিত্বই বিপন্ন!‌ কে প্রার্থী হল, কে হল না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও উৎসাহ নেই

RK NEWZ হাওড়ার শিবপুরের কংগ্রেস প্রার্থী শ্রাবন্তী সিং। দুই হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে লড়ছেন। শাসকদলের প্রার্থী বালির বিধায়ক রানা চ্যাটার্জ্জী ও বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা রুদ্রনীল চ্যাটার্জ্জী। সেই সময় ভোটের আগে প্রার্থী মনোনয়ন ছিল একটা মস্ত বড় ব্যাপার। এখন যেরকম কংগ্রেস দলের অস্তিত্বই বিপন্ন।‌ কে প্রার্থী হল, কে হল না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও উৎসাহ নেই। তখন গোটা দেশে ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস তখনও দাপটে রাজত্ব করছে। ‘জলসাঘর’-এর ছবি বিশ্বাসের মতো ‘কংগ্রেস’ নামক জমিদারবাড়িটি তখনও এই ভগ্নদশায় পৌঁছয়নি। তখনও ভোটের সময় কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা-কল্পনা, টানাপোড়েন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এমনকী, বেশিরভাগ সময়ই লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি হত নয়াদিল্লিতে। পশ্চিমবঙ্গে আজকের প্রজন্ম যে কংগ্রেস দলকে দেখছে, সেই রাজ্য কংগ্রেস যেন এক ধ্বংসাবশেষ। টিমটিম করে জ্বলছে এক খণ্ডহরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রদীপ। কিন্তু যখন আমরা সাংবাদিকতায় যোগ দিয়েছিলাম গোটা দেশে ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস তখনও দাপটে রাজত্ব করছে। ‘জলসাঘর’-এর ছবি বিশ্বাসের মতো ‘কংগ্রেস’ নামক জমিদারবাড়িটি তখনও এই ভগ্নদশায় পৌঁছয়নি। তখনও ভোটের সময় কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা-কল্পনা, টানাপোড়েন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এমনকী, বেশিরভাগ সময়ই লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি হত নয়াদিল্লিতে। কারণ কংগ্রেস একটি সর্বভারতীয় দল। সেই কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব তখনও ছিল যথেষ্ট। সুতরাং, লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাজীব গান্ধীর ভূমিকা থাকত। লোকসভা নির্বাচন মানে পার্লামেন্টের ভোট। যাঁরা জিতবেন, তাঁরা সংসদীয় দলে আসবেন। প্রধানমন্ত্রীকে আর দলের সভাপতিকে নিয়েই তাঁদের কাজ করতে হবে। প্রণব মুখোপাধ্যায় যেমন সেসময় নেহরু-গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেভাবেই পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের আরেক নেতা ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ। আজকের প্রজন্মের অনেকেই সেই মানুষটিকে ভুলে গিয়েছেন।‌ তবুও প্রণব মুখোপাধ্যায় দিল্লিতে থেকে গিয়েছেন।‌ রাজ্য-রাজনীতিতে সেভাবে অংশ নেননি। শেষ জীবনে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। তার ফলে এখনও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে মানুষ স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণববাবুর নামে লাইব্রেরি, এমনকী, একটি রাস্তাও আছে। কিন্তু বরকত গণি খান চৌধুরীকে হয়তো মালদার কিছু প্রবীণ মানুষ এখনও স্মরণ করেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের সময় অথবা সাধারণ সময়েও বরকত গণি খান চৌধুরী খুব একটা আলোচ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন না। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। দিল্লিতে কংগ্রেস সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক হচ্ছে।‌ সেই বৈঠকে সব রাজ্যের দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত হবে।‌ সেটাই ছিল তখন কংগ্রেসের রীতি। পশ্চিমবঙ্গ‌ থেকে সংসদীয় বোর্ডের সদস্য তিনজন। প্রণব মুখোপাধ্যায়, বিধানসভায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা ছিলেন আবদুস সাত্তার আর ছিলেন বরকত গণি খান চৌধুরী।‌ তখন আমরা আবদুস সাত্তারের কাছেও যেতাম। সাত্তার সাহেব প্রণববাবুকে তেমন পছন্দ করতেন না। কিন্তু সোমেন মিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল মধুর।‌ সাত্তার সাহেব থাকতেন বিশপ লেফ্রয় রোডে, যে-বাড়িতে সত্যজিৎ রায় থাকতেন সেই বাড়িতেই। যাই হোক, বরকত গণি খান চৌধুরী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।‌ পরবর্তীকালে রাজীব গান্ধী তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বৈঠক হচ্ছে অনেক দেরিতে। অর্থাৎ, ডিনারের পর। তার ফলে বেশ রাত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ‘আমরা বাঙালি’ হয়নি। যেরকম ভাবে তেলুগু দেশম হয়েছে।‌ তার একটা মস্ত বড় কারণ হচ্ছে যে, এখানে কংগ্রেসের অবক্ষয়ের পর ’৭৭ সাল থেকে অ-কংগ্রেসি সরকার গঠন হয়েছে। সেটা কখনও সিপিএম কখনও তৃণমূল কংগ্রেস। তারাই আঞ্চলিক যে-পরিসর সেটাকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। তার ফলে আলাদা করে ‘আমরা বাঙালি’ বলে কোনও দল গড়ে ওঠেনি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস তারাই কিন্তু এই এলাকার আইডেনটিটি সেটাকে বহন করে চলেছে। ভোট মানে তো শুধু ভোটের দিনে বুথে গিয়ে ভোট দেওয়া নয়। ভোটপর্ব কিন্তু শুরু হয়ে যায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় থেকে। আমার এখনও মনে আছে, ’৮৮ লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই সমস্ত জেলাতে জেলা কমিটির বৈঠক হত। ’৮৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির বৈঠক হয়েছে। তারপর জেলাওয়ারি সমস্ত কমিটির বৈঠক হত। জেলা কমিটির বৈঠকে জেলার সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধরা কার্যত বিদ্রোহ‌ ঘোষণা করতেন। অনেক সময় বিক্ষুব্ধরা সভাপতির ধুতি খুলে দিতেন।‌ চড়-থাপ্পড়-ঘুসি চলত। অনেক সময় লাঠালাঠি পর্যন্ত হয়েছে। এই কংগ্রেসের যে‌-গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিন্তু অতীতেও ছিল। চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষচন্দ্র বসু, বিধান রায়ের আমলেও ছিল।

’৮০-র দশকে কংগ্রেসের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, তখন সেই জেলা কংগ্রেসের বৈঠকের গোষ্ঠী‌ কোন্দল আমাদের খুব মুখরোচক খবর হত বটে। কিন্তু ভোটের ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, মারামারি ভোটে প্রভাব ফেলত না। অর্থাৎ ভোটটা সাধারণত হয় রাজনৈতিক দলের সিম্বলে।‌ যেখানে কংগ্রেস নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আমজনতার‌ ভোটারদের ভোটে প্রভাব ফেলে না। প্রণব মুখোপাধ্যায়, বরকত গণি খান চৌধুরী দিল্লির নেতা। আর রাজ্যে সোমেন মিত্র আমহার্স্ট স্ট্রিটে থাকতেন।‌ আর সুব্রত মুখোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার সুরেন ঠাকুর রোডে। আর প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ভবানীপুরের কাছে রানি রাসমণি রোডে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেল। একদিকে প্রিয়-সুব্রত, অন্যদিকে সোমেন মিত্র। সোমেন মিত্র বিক্ষুব্ধ নেতা। সোমেন মিত্র চিরকালের বিক্ষুব্ধ নেতা। বিক্ষুব্ধ লগ্নে তাঁর জন্ম। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সিকে রাজীব গান্ধী পছন্দ করলেন। অশোক সেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রদেশ সভাপতি হলেন।‌ সেই সময় কংগ্রেসের যে কালচার ছিল, ‘হাইকমান্ড’ নামক একটা শক্তি দিল্লিতে থাকলেও রাজ্যস্তরে কিন্তু অনেক নেতা, তাঁদের অনেক গোষ্ঠী, তাঁদের অনেক সুপারিশ। সে একটা গোষ্ঠী-রাজনীতির‌ গণতন্ত্র ছিল।‌ এখন সেই ভোটের রাজনীতিটাই ভোটের আগে বদলে গিয়েছে। প্রার্থী হওয়ার জন্য কংগ্রেসের নেত্রী শংকরী দিল্লি চলে এসেছিলেন। তখন হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবেন‌ ঠিক হল। সেই সময় ভোটের আগে প্রার্থী মনোনয়ন ছিল একটা মস্ত বড় ব্যাপার। এখন যেরকম কংগ্রেস দলের অস্তিত্বই বিপন্ন।‌ বিধানসভায় এবার একটা বিধায়ক। ফলে তাদের কে প্রার্থী হল, আর কে হল না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও উৎসাহ নেই। আর কংগ্রেসেরও সেই কারণে স্বাভাবিকভাবে‌ই মানুষের উৎসাহ কমে যাওয়ায় তাঁদের ক্ষমতায় কমে গিয়েছে। মিডিয়ার উৎসাহও নেই।‌ কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস‌ এখন শাসকদল। প্রবল পরাক্রান্ত দল। জেলায় জেলায় তাঁদের অনেক নেতা। কে সেখানে বিধায়ক হবে, কে মন্ত্রী হবে – ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সেই কংগ্রেসের সংস্কৃতি এখন তৃণমূলেও নেই। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস আঞ্চলিক দল। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই ন্যস্ত করা আছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles