২০২৪ সালের ৯ অগস্ট মেয়েকে হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। আবার ৯ তারিখেই তাঁর মেয়ের জন্মদিন। তাই লড়াইয়ের প্রতীকী দিন হিসাবে ৯ তারিখকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এই দিনটি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই দিনের মেয়ের জন্ম। আর এই দিনেই ওকে হারানোর মর্মান্তিক স্মৃতি।’ পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। বৃহস্পতিবার পানিহাটি থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল করে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামীও। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা পানিহাটির অমরাবতী এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। তার পর সেখান থেকে শুরু হয় মিছিল। সোদপুর ট্রাফিক মোড় হয়ে সেই মিছিল এগিয়ে যায় ব্যারাকপুরের দিকে। সেখানেই মনোনয়ন জমা দেন বিজেপি প্রার্থী। সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে একটি জনসভারও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজির ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি এবং বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। জনসভায় বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘জিতব আমিই। এই জয় হবে পানিহাটির মানুষের জয়। সারা বাংলার জয়। মেয়ের স্মৃতি আমাকে প্রতিনিয়ত শক্তি জোগায়। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’ পানিহাটির সাধারণ মানুষের উদ্দেশেও বার্তা দেন তিনি। বলেন, ‘ভোটে জিতে বিধায়ক হলে এলাকার সমস্যা কলকাতায় তুলে ধরব।’
আরজি কর হাসপাতালে ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল সারা রাজ্য। সেই নিহত ছাত্রীর মাকে এ বার প্রার্থী করেছে বিজেপি। পানিহাটিতে এ বার বিজেপির প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মা। তিনি মনোনয়ন জমাও দিয়েছেন। প্রার্থীর হাতে রয়েছে ২০ হাজার টাকা নগদ। ব্যাঙ্কে বেশ কয়েকটি ফিক্সড ডিপোজ়িট এবং সেভিংস অ্যাকাউন্টে আমানত রয়েছে তাঁর নামে। তাঁর স্বামীর হাতে রয়েছে ৪০ হাজার টাকা নগদ। স্বামীর নামেও বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁদের একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি গাড়িও হয়েছে স্বামী-স্ত্রীর নামে। হলফনামা অনুযায়ী, সেই গাড়িটি কিনেছিলেন তাঁদের মেয়ে। মেয়ের মৃত্যুর পরে সেটি তাঁদের নামে যুগ্মভাবে এসেছে। প্রার্থীর কাছে রয়েছে ৩০ গ্রাম সোনা। হলফনামা অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক, নগদ ও গাড়ির দাম মিলিয়ে পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর হাতে অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৯ লক্ষ ২৪৩২ টাকা। অন্যদিকে ব্যাঙ্ক, নগদ ও গাড়ির দাম মিলিয়ে তাঁর স্বামীর কাছে অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৩৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৪৯ টাকা। প্রার্থীর কাছে কোনও জমি বা বাড়ি নেই। তাঁর স্বামীর নামে যে জমি ও বাড়ি রয়েছে, সেটির বর্তমান মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। প্রার্থীর নামে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই, ঋণও নেই। প্রার্থীর আয়কর দাখিলের তথ্য নেই। তাঁর স্বামীর ২০২৫-২৬ সালে বার্ষিক আয়ের অঙ্ক ৭২১৯০ টাকা।





