Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হেলিকপ্টারে হুমায়ুন! চর্চা! ভোটপ্রচারে টাকা কি ‘গৌরী সেন’ দিলেন?

হুমায়ুন জানান, অন্তত ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে ২০টি জায়গায় তাঁর সঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে ওয়েইসির। জোট করলে হেলিকপ্টারে প্রচারের সুযোগ মিলবে বলে জানিয়ে বাম-কংগ্রেসকে টোপ দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। বাম-কংগ্রেস অবশ্য তাতে সাড়া দেয়নি। কিন্তু তাতে আকাশপথে প্রচার আটকাল না! মঙ্গলবার সেই হেলিকপ্টারে চড়েই ভোটের প্রচারে বেরোলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন। জানিয়েও দিলেন, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি এ ভাবেই জনসভায় যাবেন। প্রচারে তাঁর সঙ্গীও হবেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। বেলডাঙার খাগরুপাড়ায় সাদা-সবুজ রংয়ের একটি ছোট হেলিকপ্টার নামতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল এলাকায়। তা চাক্ষুষ করতে সেখানে ভিড় জমান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির শ’য়ে শ’য়ে কর্মী-সমর্থক। ছবি তুলতে হুড়োহুড়িও পড়ে যায়। হুমায়ুনকে দেখে ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগানও তোলেন কেউ কেউ। হুমায়ুনও হাত মেলাতে এগিয়ে যান সেই ভিড়ের দিকে। তার পর কপ্টারে চেপে তিনি রওনা দেন ডোমকলের উদ্দেশে। হুমায়ুন জানান, অন্তত ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে ২০টি জায়গায় তাঁর সঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে ওয়াইসির। সেই কারণে ২৫ দিনের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করেছেন হুমায়ুন। ডোমকলের সভায় যাওয়ার পথে তিনি বলেন, ‘আমি আজ প্রথম বার হেলিকপ্টারে চেপেছি। ডোমকলে প্রচারে যাচ্ছি। আগামিকাল সেই অর্থে কর্মসূচি নেই। এর পর ৯ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত টানা দলের প্রচারে যেতে হবে।’ মঙ্গলবার ডোমকলের সভা সেরে কপ্টারে চেপে তিনি রেজিনজরেও সভা করতে গিয়েছিলেন। হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, যে কপ্টারে চেপে তিনি প্রচারে বেরোচ্ছেন, সেটি দিল্লি থেকে এসেছে। এর আগে অসমের গুয়াহাটির মহম্মদ নিজাম নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে হেলিকপ্টার নিয়ে চুক্তি হয়েছিল তাঁর। কিন্তু শেষমেশ নিজামের হেলিকপ্টার আর নেননি হুমায়ুন। এই সময় অনলাইন গুয়াহাটির সেই ব্যবসায়ী নিজামের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার রোটর হাব নামে একটি সংস্থা রয়েছে। আমার দুটি হেলিকপ্টার। এই সময়ে অসমেও ভোট। উনি (হুমায়ুন) আমার কাছে হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম দিতে পারব। এক মাসের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু দিন তিনেক আগে উনি ফোন করে বললেন, আমার হেলিকপ্টার লাগবে না। উনি অন্য জায়গা থেকে হেলিকপ্টার পেয়ে গিয়েছেন।’ দিল্লি থেকে যে হেলিকপ্টারটি আনিয়েছেন হুমায়ুন, সেটি কার, সে ব্যাপারে এখনও কোনও তথ্য মেলেনি। সেটি ভাড়া করা, নাকি কেউ তাঁকে নিখরচায় ব্যবহার করতে দিয়েছেন, তা-ও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, এই ধরনের হেলিকপ্টারের এক ঘণ্টার ভাড়া সাধারণত তিন লাখ টাকা। এ ব্যাপারে হুমায়ুনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। হেলিকপ্টার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এত কৌতূহল কীসের?’ তার পরেই ফোন কেটে দেন। গত বছর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় হুমায়ুনের। সেই সময়ে মসজিদ-বিতর্কের মধ্যেই বহরমপুরে মুখ্য়মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সভা করেছিলেন। সেই সভার আগে হুমায়ুনকে দল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করে তৃণমূল। তার কিছু দিন পরেই, ৬ ডিসেম্বর (ঘটনাচক্রে এই দিনে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়) বেলডাঙায় হুমায়ুন প্রস্তাবিত মসজিদের শিলান্যাস হয়। পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়, মসজিদ নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা অনুদানও এসেছে। দানবাক্সের টাকা গোনার জন্য আনা হয়েছিল বিশেষ যন্ত্রও। প্রত্যাশিত ভাবে সেই সব অনুদানের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু হুমায়ুন তা নিয়ে কখনওই আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানাননি। মসজিদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গত ডিসেম্বরে নতুন দল ঘোষণা করেন হুমায়ুন। চেয়েছিলেন বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোটও করতে। সেই সূত্রেই হেলিকপ্টারের টোপ দিয়েছিলেন। ওই সময়ে হুমায়ুনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হেলিকপ্টারের বিপুল ভাড়া কে মেটাবে? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘টাকা লাগে, দেবে গৌরী সেন!’ সেই হুমায়ুন হেলিকপ্টারে চাপলেন। কিন্তু গৌরী সেন রহস্যের জট কাটল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles