‘স্টেশনের পাশে এগরোল বিক্রি করতেন সুজিত বসু’ সেখান থেকে আজ তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী, এই ইতিহাস ফাঁস করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। যখন সিপিএমে ছিলেন তখন এগ রোলের দোকান ছিল। আর এখন কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার মালিক সুজিত বসু। সুজিতের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৫৭ লক্ষ, ৩৭ লক্ষ, সাড়ে ৫ লক্ষ, ১৮ লক্ষ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে ১ কোটি টাকার বেশি রয়েছে ব্যাঙ্কে। স্ত্রী ব্যাঙ্কে জমা করেছেন প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ রয়েছে। সুজিতদের সম্পত্তির পরিমাণ ৮ কোটি ৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা। বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর হাতে এখন নগদের পরিমাণ ২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। স্ত্রী স্বর্ণালী বসুর হাতে রয়েছে ৩ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। হলফনামায় সুজিত জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে একটি স্করপিও গাড়ি কেনেন। দাম পড়েছিল ২৩ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর একটি আট লাখি বালেনো গাড়ি আছে। ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সোনার অলঙ্কার রয়েছে সুজিতেরই। হিরের অলঙ্কার রয়েছে ৩ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার। সব মিলিয়ে ৯ কোটি ৮৯ হাজার টাকার গয়না আছে তৃণমূলের এই প্রার্থীর। ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার সোনার গয়না রয়েছে স্ত্রী স্বর্ণালীর। ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার হিরের অলঙ্কার। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রী গয়নাগাটির বর্তমান বাজারমূল্য ২২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। সুজিতের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লক্ষ ৪১ হাজার ১৯৮ টাকা। ৫৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩১ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে স্বর্ণালীর। স্বামী-স্ত্রীর মিলিত অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার বেশি। সুজিত জানিয়েছেন, তাঁর বা তাঁর স্ত্রী, কারও নামে কৃষি বা অকৃষিজমি নেই। লেক টাউনে একটি দোকান আছে মন্ত্রীর। ৩১৫ স্কোয়্যারফুটের দোকানটি ৩ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন। সেটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩৩ লক্ষ টাকার বেশি। শ্রীভূমি এলাকাতেই দুটো বাসভবন রয়েছে সস্ত্রীক সুজিতের। ৭৫০ এবং ১০২৩৩ স্কোয়্যারফুটের দু’টি বাসভবনের প্রথমটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। দ্বিতীয়টি তাঁদের কেনা। সব মিলিয়ে দু’টি বাড়ির বর্তমান বাজারদর আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। সুজিতের নামে ধারদেনা রয়েছে ১ কোটি ১৪ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। স্ত্রীর ধারদেনার পরিমাণ ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে সুজিতদের সম্পত্তির পরিমাণ ৮ কোটি ৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা।
মদন এবং স্ত্রী অর্চনা মিত্রের সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন কমিশনকে। বিদায়ী বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন তাঁর হাতে রয়েছে নগদ ৪৫ হাজার টাকা। মদনের স্ত্রী বাড়ি সামলান। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১৫ হাজার ৮৫০ টাকা। স্ত্রীর ব্যাঙ্ক ব্যালান্স ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। মদনের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। সাড়ে সাত লক্ষ টাকার একটি জীবনবিমা রয়েছে মদনের। টিয়া রঙের মারুতি জিম্মির সামনে-পিছনে লেখা ‘এমএম’, অর্থাৎ মদন মিত্র। গাড়িটির মূল্য প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। মদন জানিয়েছেন, ওই একটিই গাড়ি তাঁর। স্ত্রী অর্চনার নামে একটি স্করপিও আছে। সেটির দাম ৭ লক্ষ টাকা। তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, সোনা-রুপো এবং রত্নসামগ্রী মিলিয়ে তাঁর গয়নার মূল্য ১০ লক্ষ ১২ হাজার টাকা। ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকার গয়না রয়েছে স্ত্রীর। সব মিলিয়ে মদনের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৪ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। ধীরেন্দ্রনাথ বোস রোডে মদনের একটি বাড়ি আছে। ৯০০ স্কোয়্যারফুটের। কলকাতার ডিএইচ রোডে ৫৭০ স্কোয়্যারফুটের একটি বাড়ি আছে। প্রথমটি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। দ্বিতীয়টি নিজের কেনা। স্ত্রীর নামে ১৪৮২ স্কোয়্যারফুটের একটি বাড়ি রয়েছে। মদনের মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। স্ত্রীর বাড়িটির মূল্য আনুমানিক ৫৫ লক্ষ টাকা। এসবিআই থেকে ১ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন মদন। ব্যক্তিগত ঋণ ১৩ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ১৪ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ঋণ মদনের। স্ত্রীর নামে ঋণ রয়েছে ১০ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। ২০০৬ সালে বিষ্ণুপুর পূর্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মদন। তখন তাঁর সম্পত্তি ছিল ১২ লক্ষ টাকার সামান্য বেশি। ২০১১ সালে ‘পরিবর্তনের নির্বাচনে’ কামারহাটি থেকে লড়েন তৃণমূলের মদন। তখন তাঁর সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। ২০১৪ সালে সারদা চিট ফান্ড-কাণ্ডে গ্রেফতার হন মদন। সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল। প্রায় ২১ মাস জেলে থাকার পরে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জামিন পান তিনি। ফের কামারহাটি থেকে প্রার্থী হন। তখন মদনের সম্পত্তি ছিল দেড় কোটির আশপাশে। ২০১৯ সালে ভাটপাড়া উপনির্বাচনে তাঁকে আবার প্রার্থী করে তৃণমূল। তখন নির্বাচনী হলফনামায় মদন জানিয়েছিলেন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বেশি। ভাটপাড়ায় অর্জুন সিংহের পুত্র পবন সিংহের কাছে পরাজিত হন মদন। এর পর গত বিধানসভা নির্বাচনে আবার কামারহাটি থেকে প্রার্থী হন তিনি। সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা এবং দেনা ছিল ১৬ লক্ষ টাকার বেশি। মদন জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে ইডির দায়ের করা একটি মামলা এখনও চলছে। ইডি-সিবিআই থেকে থানা-পুলিশ, সব মিলিয়ে ছ’টি বিচারাধীন মামলা রয়েছে।
হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৮০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সেই আয় কিছুটা কমে হয় ১০ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৯০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থীর আয় অনেকটাই বাড়ে। ওই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কুণালের আয় ছিল ১৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৬০ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৪০ টাকা। হলফনামায় তাঁর স্ত্রী শর্মিতা ঘোষের গত পাঁচ অর্থবর্ষের আয়ও উল্লেখ করেছেন কুণাল। জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর স্ত্রীর আয় ছিল ৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪৭০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৭০ টাকা। আবার ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কুণালের স্ত্রীর আয় ছিল ১০ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে শর্মিতার আয় ছিল ১১ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০০ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কুণালের স্ত্রীর আয় বেড়ে হয় ১৭ লক্ষ ১০ হাজার ৩৪০ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে শর্মিতা ঘোষের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিতে গিয়ে কুণাল হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নগদ ২১ হাজার টাকা রয়েছে। আর তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে নগদ ১৫ হাজার টাকা। কুণাল ও তাঁর স্ত্রীর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে কুণালের নামে একটি অ্যাকাউন্টেই রয়েছে ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ১১৬ টাকা। স্ত্রীর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১ লক্ষ ২৮ হাজার ৬১৭ টাকা। কুণালের দশটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। স্ত্রীর নামেও স্থায়ী আমানত রয়েছে। তাঁদের দু’জনেরই জীবনবিমা পলিসি রয়েছে। হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, তিনি ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছেন। নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই বলে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন। তবে স্ত্রীর নামে একটি গাড়ি রয়েছে। ২০১৯ সালে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়িটি কেনা হয়। কুণাল জানিয়েছেন, তাঁর কাছে মাত্র ৫ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৩৫ গ্রাম সোনার গয়না। যার বেশিরভাগটাই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন শর্মিতা। তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা গয়নার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯১৩ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৪ টাকার। হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, তাঁদের নামে কোনও কৃষিজমি নেই। যে বাড়িতে তিনি থাকেন, তা তাঁর নামে নয় বলে হলফনামায় জানিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যেটি এখনও অসম্পূর্ণ। তবে খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। স্ত্রীর নামে থাকা ওই অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান মূল্য ৬৫ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে কুণালের হলফনামা বলছে, বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি-গাড়ি কিছু নেই। অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। আর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯১৩ টাকার। সারদা মামলায় গ্রেফতার হয়ে একসময় প্রায় তিন বছর জেলে ছিলেন কুণাল। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে জানিয়েছেন, ৯টি মামলা বিচারাধীন। আর একটি মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন।





