Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সক্রিয় অপরাধীদের তালিকায় কেন নাম নেই সোনা পাপ্পুর? চিহ্নিত করতে হবে তাঁদের, যাঁরা আগের নির্বাচনে অপরাধে জড়িত ছিলেন

চিহ্নিত করতে হবে তাঁদের, যাঁরা আগের নির্বাচনে অপরাধে জড়িত ছিলেন। কমিশন জানিয়েছিল, থানার ওসি বা এসএইচও-দের মাধ্যমে সব বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে পুলিশকে। সক্রিয় অপরাধীদের তালিকায় কেন নাম নেই সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের? এই প্রশ্ন তুলে কসবা থানার ওসি-কে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করল নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশকে পলাতক, ঘোষিত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সকল থানার ওসিদেরও এই নিয়ে কিছু দায়িত্ব দিয়েছিল। এ বার সেই নির্দেশ পালন না-করার অভিযোগে কসবা থানার ওসি-কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। কমিশন নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল, যত জামিন অযোগ্য পরোয়ানা ছিল, সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এসডিপিও-দের। তাদের নির্দেশ, অবিলম্বে পলাতক অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তালিকা তৈরি করতে হবে ঘোষিত অপরাধীদেরও। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে লুকআউট সার্কুলার জারি করতে হবে পুলিশকে। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান করতে হবে। কমিশন আরও জানিয়েছিল, থানার ওসি বা এসএইচও-দের মাধ্যমে সব বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে সেই সব ‘গুন্ডা ও দুষ্কৃতীদের’, যাঁরা আগের নির্বাচনে অপরাধে জড়িত ছিলেন। এই নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। থানাগুলির উদ্দেশে ১৬টি নির্দেশ জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। আগের নির্বাচনের সময় হওয়া সব অপরাধের তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সব জামিন অযোগ্য পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। পলাতক আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের সময় শান্তি বজায় রাখতে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। রবীন্দ্র সরোবরে গন্ডগোলের ঘটনায় নাম জড়ায় পাপ্পুর। এই ঘটনায় এখনও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাঁর বাড়িতে বুধবার তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ ছাড়াও সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি দামি গাড়ি এবং বেশ কিছু সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, সোনা পাপ্পুর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, কসবা, বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন সোনা পাপ্পু।

নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে অশান্তির জেরে বন্ধ করে দেওয়া হল মিলেনিয়াম পার্ক এবং শিপিং জেটি। সিইও দফতরের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি ছিল। তবে সম্প্রতি দফতরের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির জেরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সেই সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। কলকাতায় নির্বাচনপর্বকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত সিইও দফতরের বাইরে সব ধরনের জমায়েত আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা, যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল। এই নির্দেশের জেরে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মধ্য কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র মিলেনিয়াম পার্ক। পাশাপাশি পার্ক সংলগ্ন শিপিং জেটিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। প্রশাসন সূত্রের খবর, আগে সিইও দফতরের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি ছিল। তবে সম্প্রতি দফতরের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির জেরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সেই সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে। এমনকি হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার একাংশও এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বড় যানবাহনের চলাচল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতর ডালহৌসির পুরনো ভবন থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল শপিং কর্পোরেশন বিল্ডিং-এর বহুতল ভবনে কাজ শুরু করেছে। নতুন দফতরের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছিল। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় প্রশাসনের মধ্যে। মিলেনিয়াম পার্ক এলাকায় প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। সেই ভিড় সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ-প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। নির্বাচনী আবহে অতিরিক্ত ভিড় ও বিক্ষোভের আশঙ্কাজনিত ঝুঁকি এড়াতেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় পার্ক ও জেটি পরিষেবা চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্ব স্তরের পুলিশকে একগুচ্ছ নির্দেশ! জামিনঅযোগ্য ধারায় অভিযুক্তদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে বলল কমিশন ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ কমিশনের। জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দিল তারা। জানিয়ে দিল, যাঁদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। আগের নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলি দ্রুত শেষ করতেও বলল। পাশাপাশি জানিয়ে দিল, ভোটের সময় রাজ্যের সকল সরকারি কর্মচারী আদতে কমিশনের অধীনেই কাজ করে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবে কমিশন। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে জানাল কমিশন। আগের নির্বাচনের সময় রাজ্যে যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। তারা জানাল, ওই মামলায় শীঘ্রই চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এসডিপিও-দের নির্দেশ

যত জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা ছিল, সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এসডিপিও-দের। কমিশনের নির্দেশ, অবিলম্বে পলাতক অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তালিকা তৈরি করতে হবে ঘোষিত অপরাধীদেরও। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে লুকআউট সার্কুলার জারি করতে হবে পুলিশকে। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান করতে হবে।

ওসিদের দায়িত্ব

থানার ওসি বা এসএইচও-দের মাধ্যমে সব বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে সেই সব ‘গুন্ডা ও দুষ্কৃতীদের’, যাঁরা আগের নির্বাচনে অপরাধে জড়িত ছিলেন। এই নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

থানাগুলির জন্য নির্দেশ

থানাগুলির উদ্দেশে ১৬টি নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন। আগের নির্বাচনের সময় হওয়া সব অপরাধের তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সব জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। পলাতক আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের সময় শান্তি বজায় রাখতে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঝামেলার ইতিহাস দেখে সম্ভাব্য গোলমালকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলার মধ্যে বেআইনি কাজ বন্ধ করতে তথ্য আদানপ্রদান করতে হবে। প্রার্থীদের মিটিং, মিছিল, সভায় নিরাপত্তা নিয়মিত নিশ্চিত করতে হবে। ‘ওজনদার’ বা ভিআইপি বা হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে হবে। হোটেল, লজ, ধর্মশালায় নিয়মিত চেকিং করতে হবে। পর্যবেক্ষক, নির্বাচন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। জেলা বা রাজ্যের সংযোগস্থলের নাকা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে। সব রাস্তা ও সংযোগ রাস্তাগুলিতে যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন রাখতে হবে। নাকা পয়েন্টে গাড়ি চেকিং জোরদার করতে হবে। নাকা পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা সব সময় চালু রয়েছে কি না দেখতে হবে। অপরাধপ্রবণ ও মাদক ব্যবসা রয়েছে এমন এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও টহল চালাতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles