Monday, April 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘বেঁচে ছিলেন রাহুল, প্রথমে ডাক্তার পাওয়া যায়নি’! মর্মান্তিক ঘটনার ৩ দিন পর মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। এক বিস্তৃত বিবৃতিতে সংস্থা জানিয়েছে, এই অকাল প্রয়াণে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং গোটা টিম এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিবৃতির শুরুতেই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের-কে “সহকর্মী ও বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থা জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই কাস্ট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়েছে। অধিকাংশই ট্রমার মধ্যে থাকায়, তাদের বক্তব্য নিরপেক্ষ ও সুসংগঠিতভাবে সংগ্রহ করতে আরও কিছু সময় চাওয়া হয়েছে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল রিপোর্ট তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছে। রাহুলের পরিবার, বন্ধু বা আর্টিস্ট ফোরাম -এর পক্ষ থেকে মনোনীত একজন প্রতিনিধি পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর ফলে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে বলে মনে করছে সংস্থা।

ঘটনার দিন সংস্থার ডিরেক্টর শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুম্বইয়ে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত কলকাতায় ফিরে এসে রাহুলের বাড়িতেও যান, যদিও তখন পরিবারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বিবৃতির মাধ্যমে পরিবারকে আশ্বস্ত করে সংস্থা জানিয়েছে, তাদের যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা প্রস্তুত এবং কোনও সম্ভাব্য গাফিলতিও খতিয়ে দেখা হবে। শুটিংয়ের অনুমতি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সংস্থা। সমস্ত নথি ও অনুমতিপত্র তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে শুটিং ফুটেজ, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ডও শেয়ার করা হবে। রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে আরেকটি বড় জল্পনা ছিল—তিনি দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে ছিলেন কি না। কিছু প্রতিবেদনে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময়ের কথা বলা হলেও, সংস্থার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী তা সঠিক নয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার করার সময় রাহুল জীবিত ছিলেন এবং কিছু বলতে চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে দ্রুত জল থেকে তুলে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করা হয় এবং একটি নিকটবর্তী ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কোনও চিকিৎসক না থাকায় পরে তাঁকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়, যেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংস্থার মতে, প্রথম পর্যায়েই যদি যথাযথ চিকিৎসা মিলত, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। বিবৃতিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে প্রযোজনা সংস্থা। জনসমক্ষে সংস্থাটিকে প্রায়শই শুধুমাত্র লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, তারা জানিয়েছে লীনা মূলত লেখক ও ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবেই যুক্ত। তিনি প্রোমোটার বা অপারেশনাল দায়িত্বে নেই। এমনকি তদন্তে কোনও পক্ষপাতের অভিযোগ এড়াতে তিনি প্রয়োজনে, মহিলা কমিশ-এর চেয়ারপার্সনের পদ থেকেও সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles