Monday, April 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দাগি নেতারা কি এখনও নিরাপত্তা পাচ্ছেন? নজিরবিহীন নির্দেশ কমিশনের!‌ ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ‘অপ্রয়োজনীয়’ নিরাপত্তা মধ্যরাতের মধ্যে তুলে নিতে হবে

জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, ‘অপ্রয়োজনীয়’ নিরাপত্তা মধ্যরাতের মধ্যে তুলে নিতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, এবার সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন। নির্দেশ জারি হয়েছিল আগেই, এবার তার বাস্তবায়ন নিয়েই কড়া নজর রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। দাগি বা অপরাধমূলক মামলায় জড়িত নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ আদৌ মানা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইল নির্বাচন কমিশন। জামিন বা প্যারোলে জেলের বাইরে থাকা, কিংবা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, এমন নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে বিস্তারিত স্টেটাস রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারের কাছে। কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুপুর ১২টার মধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, ‘অপ্রয়োজনীয়’ নিরাপত্তা মধ্যরাতের মধ্যে তুলে নিতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, এবার সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন। শুধু তাই নয়, যাঁরা বর্তমান পরিস্থিতিতে পদমর্যাদা বা হুমকির নিরিখে আর নিরাপত্তার দাবিদার নন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আরও কড়া পদক্ষেপ হিসেবে, জামিনঅযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত অথচ এখনও গ্রেফতার হননি, এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। এর আগে চলতি সপ্তাহেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি হয়েছিল। থানার ওসি বা এসএইচও-দের মাধ্যমে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি, আগের নির্বাচনে অপরাধে জড়িত ‘দুষ্কৃতী’দের তালিকা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে ধারাবাহিক এই পদক্ষেপে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়ছে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোটের আগে কমিশনের বড় পদক্ষেপ! অভিযুক্ত বা জামিনে থাকা ব্যক্তিদের সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা ভোটের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যাঁরা জামিনে মুক্ত এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের এই বিষয়ে জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে, অথবা যাঁরা বর্তমানে জামিনে বা প্যারোলে রয়েছেন, তাঁদের আর কোনও বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।

কী বলা হয়েছে নির্দেশে?
২ এপ্রিল রাতে পাঠানো ওই নির্দেশে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যাঁরা নিরাপত্তা পাচ্ছেন, তাঁদের তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ও পুলিশ জেলার ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে—
অভিযুক্ত বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা তুলে নিতে হবে। যাঁরা পদমর্যাদা বা প্রকৃত হুমকির ভিত্তিতে নিরাপত্তার যোগ্য নন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে দ্রুত, এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কাজ “বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের মধ্যেই” সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদের দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে আপডেটেড স্ট্যাটাস রিপোর্ট পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনও আপস করা হবে না। যাঁরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বা অন্য কোনওভাবে নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা হতে পারে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে, কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।
বস্তুত কমিশন যে পদক্ষেপ করেছে তার নেপথ্যে রয়েছে কালিয়াচকের ঘটনা। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন চাইছে, নিরাপত্তা শুধুমাত্র প্রকৃত ঝুঁকির ভিত্তিতেই দেওয়া হোক—কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে নয়। ভোটের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই বড়সড় রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন ফেলতে পারে। এখন নজর থাকবে—কত দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর হয় এবং তার প্রভাব নির্বাচনী পরিবেশে কতটা পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles