RK NEWZ ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোট মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই মিটেছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা আগামী ২৯ তারিখ। ওই দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। এই দফার অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ভাঙড় থেকে ক্যানিং, মিনাখাঁ থেকে বাসন্তী, এই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ১১ জন নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। আর সেই তালিকার পয়লা নম্বরেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের দোর্দণ্ডপ্রতাপ আইপিএস অজয় পাল শর্মা। চব্বিশের রণক্ষেত্রে এবার বড় চমক দিল নির্বাচন কমিশন। স্রেফ কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, এবার দুষ্কৃতীদের বুকে ত্রাস তৈরি করতে যোগীরাজ্য থেকে আনা হচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অফিসারকে। দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে আসছেন অজয় পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহলে যাঁর পরিচয় ‘সিংহম’ হিসেবে। তৃণমূলের দাবি, কমিশন কি মনে করছে যে এই জেলায় ভোটে এমন কিছু ঘটবে যার জন্য ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আনতে হবে? নাকি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ? নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট নিয়ে বরাবরই নালিশ জানায় বিরোধীরা। অভিযোগ ওঠে দেদার ছাপ্পা ও রিগিংয়ের। এবার অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারকে সেখানে পাঠানোর অর্থ হল, অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেই চরম ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা।
কে এই অজয় পাল শর্মা?
অজয় পালের প্রোফাইল ঘাঁটলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। তিনি ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তবে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল অন্যভাবে। লুধিয়ানার ভূমিপুত্র অজয় আসলে একজন ডাক্তার। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস পাশ করেন। কিন্তু সেই পেশা ছেড়ে তিনি তুলে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অপরাধী দমনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। কড়া মেজাজ আর নির্ভীক দাপটের জন্যই তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।





