Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘এখানেই বসে থাকব, দেখা কার কী করার আছে…’ উন্মত্ত তাণ্ডব!‌ প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশে! অভিষেকের সভাস্থলে চেয়ার ছোড়াছুড়ি?‌

প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের! চলল চেয়ার ছোড়াছুড়িও। নওদায় অভিষেকের সভায় চরম বিশৃঙ্খলা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চের সামনেই প্রবল বিক্ষোভ, চলছে চেয়ার ভাঙচুর। টিকিট না পাওয়ায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান শেখের অনুগামীদের বিক্ষোভ। মঞ্চের সামনেই কর্মীদের একাংশ চলে আসেন। চেয়ার ছুড়ে একে অপরের দিকে মারতে থাকেন। বহু চেয়ার ভেঙে গিয়েছে। সভাস্থলের একাংশ লণ্ডভণ্ড অবস্থা। তার মধ্যেই এক যুবক, পরনে সারা টি শার্ট, তিনি সামনে এসে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মূলত বিধানসভা নির্বাচনে পছন্দের নেতার টিকিট না পাওয়া নিয়েই ক্ষোভ। মঞ্চ থেকে নেতৃত্ব তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকেন। অভিষেক আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে উঠবেন। তার আগে চেয়ারগুলো ঠিক করে রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু দৃশ্যত, তাঁর কথার কেউ কোনও পরোনা না করেই তাণ্ডব চালাতে থাকেন। দেখা যায়, ব্লক সভাপতির অনুগামীরা মিছিল করে মঞ্চের সামনে আসেন। তাঁরা দর্শক আসনের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে ব্লক সভাপতি যখন ভিতরে ঢোকেন, তখনই কিছু কারণে সংঘর্ষ বাধে। চেয়ার ছুড়ে একে অপরের দিকে মারতে উদ্যত হন। আগে থেকে যাঁরা বসেছিলেন, তাঁদের তুলে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিষেক সভাস্থলে পৌঁছোনোর আগে এক তৃণমূল সমর্থক মঞ্চের একেবারে সামনে পৌঁছে যান। তিনি অভিযোগ করতে থাকেন, তাঁকে আসন থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও পৌঁছোননি। তার আগেই বিশৃঙ্খলা ছড়াল তৃণমূলের সভাস্থলে। উঠল মারধরের অভিযোগ। হল চেয়ার ছোড়াছুড়িও। নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভও প্রকাশ্যে এল। নওদায় তৃণমূলের সংগঠন মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় দুই গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে। একটি বিদায়ী বিধায়ক তথা এ বারের প্রার্থী সাহিনা মমতাজের গোষ্ঠী। অপরটি স্থানীয় সাংসদ আবু তাহের খান এবং তাঁর ভাগ্নে সফিউজ্জামান হাবিবের। নওদায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হাবিব। রবিবার দুপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সভাস্থলে পৌঁছোনোর আগে থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করেছিল। সেই সময়ে সামনের দিকে কোন গোষ্ঠীর কর্মী-সমর্থকেরা বসবেন, তা নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এক তৃণমূল সমর্থক মঞ্চের একেবারে সামনে পৌঁছে যান। সেখানেই বসে তিনি অভিযোগ করতে থাকেন, তাঁকে আসন থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা বসেছিলাম। চেয়ার দিয়ে মারধর করল কেন?” ওই যুবকের দাবি, অপর পক্ষ জায়গা পাচ্ছিল না বলেই তাঁকে জোর করে তুলে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই যুবক সাহিনা-গোষ্ঠীর। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সময়ে সভাস্থলের সামনে চেয়ার ছোড়াছুড়িও হয়। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তিনি যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন ওই বিশৃঙ্খলা মিটে গিয়েছিল। তবে মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “যাঁরা জার্সি পরে আছেন, যে জার্সি পরে আছেন, সেই জার্সি পরে, সেই দলের হয়ে খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে, এক মাস পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে করে দেবে। বাকি জীবনটা আর মাঠে ঢুকতে পারবেন না।” তৃণমূল আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেই নওদায় সফিউজ্জামানের নামে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছিল কিছু জায়গায়। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, সাহিনাকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তা নিয়ে বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভও হয়। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সফিউজ্জামানের গোষ্ঠীও দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামে। রবিবার অভিষেকের সভাস্থলে ফের দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। মঞ্চ থেকে নেমে আসেন সফিউজ্জামানও। তাঁর বক্তব্য, “দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, আমরা সকলেই তাঁকে সমর্থন করব। কিছু মানুষ হয়তো আবেগে এ সব করছেন। তাঁদের বোঝাতে হবে।” অন্য দিকে, সাহিনার বক্তব্য, “পরিকল্পিত ভাবে দলের বিরুদ্ধে যাঁরা অবস্থান করছেন, দল তাঁদের বিচার করবে।” ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান শেখ এবার টিকিট পাননি, নওদায় টিকিট পেয়েছেন শাহিনা মমতাজ। তাতেই ব্লক সভাপতির অনুগামীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

‘ভাষা’ শোধরাতে গিয়ে মমতার ধমক খেলেন তৃণমূলের নেতা! অলচিকি ‘ভাষা’ নয়, লিপি। ভুল শোধরাতে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমক খেলেন পুরুলিয়ার দলীয় নেতা! সেই ঘটনার ভিডিয়ো পোস্ট করে এ বার আসরে নামল বিজেপি। মমতাকে আদিবাসী বিরোধী, সাঁওতাল বিরোধী বলে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপির অমিত মালবীয়। দিন কয়েক আগে রাজ্যে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়িতে তাঁর অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে অপমানের অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। দ্রৌপদী নিজে আদিবাসী সমাজের মানুষ। তাই তৃণমূলকে আদিবাসী-তিরে বিদ্ধ করে বিজেপি। এ বার মমতার অলচিকি ‘ভুলকে’ হাতিয়ার করে সরব। পুরুলিয়ার কাশীপুরে তৃণমূল প্রার্থী নির্মল টুডুর সমর্থনে জনসভা করেছিলেন মমতা। সেই সভায় মমতার আগে বক্তৃতা করেন নির্মল। তাঁর বক্তৃতার বড় অংশ ছিল সাঁওতালি ভাষায়। তার পরে মঞ্চে উঠে মমতা বলেন, ‘‘আমার আদিবাসী ভাই নির্মল টুডু এত সুন্দর করে অলচিকি ভাষায় তাঁর কথা বলে গেলেন। অলচিকি ভাষাটা একটু শক্ত আছে। আমি বুঝি, কিন্তু সবটা হয়তো বুঝতে পারি না। তবে অনেকটাই বুঝি। অলচিকি ভাষাতে এখন তো অভিধান বেরিয়ে গিয়েছে।’’ ঠিক তার পরই ছন্দপতন ঘটে। মঞ্চে থাকা স্থানীয় তৃণমূল নেতা হংসেশ্বর মাহাতো মমতার কাছে এগিয়ে আসেন। এবং কিছু বলার চেষ্টা করেন। অনেকের দাবি, তিনি মমতার ‘ভুল’ শুধরে দিতে চেয়েছিলেন। অলচিকি ভাষা নয়, লিপি — সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বক্তৃতার মাঝে থামাতে যাওয়ায় ‘রেগে’ যান মমতা। কিছুটা পিছনে হটে ওই তৃণমূল নেতার উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘কথা বলবেন না, আমি যখন বলব। আমি জানি, আপনি বসুন, অলচিকি লিপি!’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles