এবার আইপিএল বয়কটের পথে হাঁটছেন ক্রিকেটাররা! শোনা যাচ্ছে, আইপিএলে বিরাট অর্থের হাতছানি থাকা সত্ত্বেও এবছরের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অন্তত তিনজন ইংরেজ ক্রিকেটার। শাস্তির ভয়ও পাচ্ছেন না তাঁরা। বরং গুরুত্ব দিচ্ছেন জাতীয় দলকে। শুরু হচ্ছে ১৯তম আইপিএল। সেখানে ইংল্যান্ডের অন্তত ১২ জন ক্রিকেটার খেলবেন নানা দলের হয়ে। কিন্তু একই সঙ্গে নজরে পড়ছে ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের ভিন্ন চিন্তাধারা। আইপিএলে নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা মেগা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। চলতি বছরের আইপিএলের জন্য ২ কোটি টাকায় বেন ডাকেটকে কিনেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর দিনকয়েক নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি। স্বভাবতই এই সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে অক্ষর প্যাটেলদের। কোটি টাকার লিগে খেলার হাতছানি কেন উপেক্ষা করলেন ডাকেট? জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার দিকেই মন দিতে চান। আইপিএলের পরেই ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড, সেদিকে মন দিতে চান। নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ রয়েছে ইংল্যান্ডের। ডাকেটের মতে, শারীরিক এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকার জন্যই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন আইপিএল থেকে। আপাতত কাউন্টি খেলে প্রস্তুতি নেবেন আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য। তবে নিলামে দল পাওয়ার পরে এইভাবে সরে দাঁড়ানোর মাশুল দিতে হবে ডাকেটকে। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি হওয়ার পরে যদি কোনও ক্রিকেটার সরে দাঁড়ান তাহলে পরের দুটি অকশন থেকে তাঁকে নির্বাসিত করা হবে। অর্থাৎ পরপর তিনটি আইপিএলে খেলতে পারবেন না ডাকেট। নিলামে নিজের নাম নথিভুক্ত করাতে পারবেন না। একা ডাকেট নন, এবছরের আইপিএল থেকে আগ্রহ হারিয়েছেন ইংল্যান্ডের আরও দুই ক্রিকেটার জেমি স্মিথ এবং জশ টাং। গত বছর আইপিএলের নিলামে দল পাননি দু’জনেই। তাঁদের বেস প্রাইস ছিল যথাক্রমে ২ কোটি এবং ১ কোটি টাকা। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতে পরিবর্ত হিসাবে এই দুই ইংরেজ তারকাকে সই করাতে চেয়েছিল কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু দু’জনের কেউই রাজি হননি। সূত্রের খবর, জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার জন্য নিজেদের ফিট রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই পদক্ষেপের ফলে তাঁদের শাস্তি পেতে হবে না। স্রেফ ২০২৬ নয়, গত বছরও আইপিএল থেকে নাম তুলে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের দুই তারকা বেন স্টোকস এবং হ্যারি ব্রুক। গতবছর মেগা নিলামে ৬.২৫ কোটি দাম পেয়েছিলেন ব্রুক। তাঁকে কিনেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইপিএল খেলেননি। ইংল্যান্ডের টি-২০ এবং ওয়ানডে অধিনায়ক হিসাবে জাতীয় দলকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত, এই যুক্তি দেখিয়ে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ান ব্রুক। আপাতত আইপিএলের দুই মরশুম থেকে তিনি নির্বাসিত। তিনবছর পর মেগা অকশনে ফের তাঁকে দেখা যেতে পারে। ২০২৪ সালে আইপিএলের মেগা অকশনে নাম লেখাননি বেন স্টোকস। শাস্তিস্বরূপ আগামী দু’টি আইপিএলে দল পাবেন না তিনি। তবুও স্টোকস জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলতেই বেশি আগ্রহী তিনি। যদিও চলতি বছরের আইপিএলে দেখা যাবে ইংল্যান্ডের একঝাঁক তারকাকে। প্রশ্ন উঠছে, আইপিএলের প্রতি কি অনীহা বাড়ছে বিদেশি ক্রিকেটারদের? সত্যিই কি তাঁরা জাতীয় দলকে প্রাধান্য দেন? নাকি আইপিএলের প্রবল চাপ থেকে অব্যাহতি পেতে চান তাঁরা? আইপিএলে বিপুল অর্থের হাতছানিকেও তাঁরা অস্বীকার করছেন কেন? উত্তর অধরাই।





