Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পেট্রল-ডিজেলের দাম কমছে? বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের!‌ জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ কাটিয়ে স্বস্তি পেতে চলেছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে জ্বালানি সংকট। পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়বে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে, এই আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রল-ডিজেলের দামে লাগাম টানতে সম্পূর্ণ আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিল সরকার। অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতদিন পেট্রোলে লিটার প্রতি ১৩ টাকা এক্সাইজ ডিউটি দিতে হত। ডিজেলে এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ১০ টাকা থেকে এক্সাইজ ডিউটি কমানো হল তিন টাকায়। গ্যাসের দাম বাড়লেও পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়েনি। সরকারের তরফে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। এই আবহে এবার পেট্রল-ডিজ়েল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রল-ডিজেলের দামে লাগাম টানতে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আবগারি শুল্ক কমলেই যে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমবে, তেমনটা নাও হতে পারে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন পেট্রল-ডিজ়েলের দামে একটা প্রভাব পড়তে চলেছে। এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টা এমন যে একদিকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে, আরেকদিকে আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে। হরেদরে বিষয়টা একই। তবে, পৃথিবীতে যে হারে তেলের দাম বাড়ছে, সেখানে যদি এখানে তেলের দাম এক থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়। সেদিক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত। তবে, কতদিন এটা সম্ভব হবে সেই বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, পেট্রল-ডিজ়েলে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বিমানের অন্তঃশুল্কও কমানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রল-ডিজেল দুইয়ের ওপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কমিয়েছে। লিটার প্রতি ১০ টাকা করে শুল্ক কমানো হয়েছে। এতদিন পেট্রলে লিটার প্রতি ১৩ টাকা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক দিতে হত। এবার ১০টাকা করে শুল্ক কমানোয় পেট্রলের ওপর শুল্ক কমে হয়েছে লিটার প্রতি ৩ টাকা। ডিজেলে প্রতি লিটার ১০টাকা করে শুল্ক দিতে হত। অতিরিক্ত শুল্ক কমানোয় এবার তাও দিতে হবে না। ডিজ়েলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক শূন্য। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পদক্ষেপের ফলে কি স্বস্তি পেতে চলেছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে ভারতে তেল এবং গ্যাস সরবরাহে সংকট শুরু হয়েছে। আতঙ্ক বাড়ছে আমজনতার মধ্যে। তবে এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হল, আগামী ৬০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার পরেও অন্তত ৪০টির বেশি জায়গা থেকে তেল আমদানি করছে ভারত। যুদ্ধের আগে থেকেই পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দেশের শোধনাগারগুলিতে, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে খবর ছড়াচ্ছে সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। আমজনতা যেন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অতিরিক্ত জ্বালানি কেনেন সেকারণে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সমস্ত পেট্রল পাম্পের পরিষেবা যথাযথ চলছে। আপাতত ৬০ দিন প্রত্যেক দেশবাসীর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তারপরেও জ্বালানি ভাণ্ডার পূর্ণ রাখতে নানা বিকল্পের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মন্ত্রকের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে কেনা হচ্ছে অশোধিত তেল। প্রাথমিকভাবে রান্নার গ্যাস কেনার মাত্রা খুব বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু আপাতত তা অনেকখানি কমেছে। পাইপ গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু আগামী দিনে এই পরিষেবা বাড়ানো উচিত বলেই মনে করছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জ্বালানি সংক্রান্ত ভুয়ো প্রচার চলছে সোশাল মিডিয়ায়। আমজনতা যেন ভুয়ো খবর থেকে সতর্ক থাকেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সংসদের উভয় কক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়েছিলেন, এখনই জ্বালানির অভাব প্রকট হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার সতর্কতা অবলম্বন করেছে। যাতে দেশে গ্যাস, জ্বালানি তেলের অভাবে জনতার সমস্যা না হয়, তার জন্য ইথানল উৎপাদনে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। যদিও বাস্তব খানিকটা আলাদা। এখনও ঘরে ঘরে এলপিজি সরবরাহ নিয়মিত হয়নি। ২৫ দিনের আগে গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না। যদিও কেন্দ্র বলছে, গ্যাস সরবরাহে আপাতত কোনও সমস্যা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles