লাউ না ঢেঁড়স, কোলেস্টেরল কমাতে কোনটা সবচেয়ে বেশি কাজ করে? নিঃশব্দ মহামারি-র মতো ছড়াচ্ছে উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডিসলিপিডেমিয়া। আগে যা বয়সের সঙ্গে আসত, এখন তা ধরা পড়ছে শহুরে তরুণদের মধ্যেও। স্ট্যাটিন এখনও চিকিৎসার মূল ভরসা হলেও, অনেকেই ঝুঁকছেন ঘরোয়া উপায়ে বিশেষ করে ঢেঁড়সের জল আর লাউয়ের রসের দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ‘হেলথ টনিকে’র কাজের ধরন একেবারেই আলাদা। ঢেঁড়সে থাকা জেলির মতো পদার্থ বা মিউসিলেজ আসলে এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ। খালি পেটে খেলে এই আঁশ পিত্তরসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে শরীরকে নতুন করে পিত্তরস তৈরি করতে রক্ত থেকে কোলেস্টেরল টানতে হয় এভাবেই কমে এলডিএল। ২০২৪ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকিউলার সায়েন্সেসে’ প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ঢেঁড়স টোটাল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি এইচডিএল বাড়ায়। এতে থাকা কোয়েরসেটিন ধমনীতে প্লাক জমা ঠেকাতেও ভূমিকা নেয়।
লাউয়ের রস কাজ করে স্যাপোনিন ও টারপেনয়েডসের মাধ্যমে। এগুলো কোলেস্টেরল তৈরির নির্দিষ্ট এনজাইম আটকে দেয়। ‘জার্নাল অব এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিনে’ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন ২০০ মিলি টাটকা লাউয়ের রস ৯০ দিন খেলে ট্রাইগ্লিসারাইড কমে এবং হৃদ্ঝুঁকির অনুপাত উন্নত হয়। লাউয়ের প্রাকৃতিক ডায়ুরেটিক গুণ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সতর্কতাও রয়েছে। ঢেঁড়সে অক্সালেট বেশি থাকায় কিডনি স্টোনের প্রবণতা আছে এমন মানুষজনকে সাবধানে থাকতে হবে। আর লাউয়ের রস তেতো লাগলে একেবারেই খাবেন না—কুকুরবিটাসিন নামের বিষাক্ত উপাদান ‘বটল গার্ড পয়জনিং’ ঘটাতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপকার পেতে হলে সঠিক মাত্রা, সময় ও শারীরিক সহনশীলতা বুঝে তবেই এই পানীয়গুলি খাওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় অবশ্যই পুষ্টিবিদ বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ জরুরি।
ভক্তি ভরে বিন্দুমাত্র জল না খাওয়া উপোস নয়। এ উপোস শরীরের স্বার্থে। আর করতে হবে জল খেয়ে। বা বলা ভাল শুধুমাত্র জল খেয়েই। এ হেন উপোসের পোশাকি নাম ‘ওয়াটার ফাস্টিং’। কেউ চাইলে চিনি, দুধ ছাড়া চা বা কফি খেতে পারেন অথবা প্রয়োজন পড়লে ইলেকট্রোলাইটস খাওয়া যেতে পারে। তার বাইরে কিছু নয়। ২৪ ঘণ্টা কাটবে ওই ভাবেই। শরীর নিজেকে ডিটক্স করার সুযোগ পেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। উপোস করলে খিদে পায় না তা নয়। সারা মাস পেটের উপর যে অত্যাচার চলে, তাকে ব্যালান্স করতেই এটা করা জরুরি। উপোস করলে অন্ত্র বিশ্রাম পায়। পাশাপাশি, অটোফ্যাজি নামে এক পরিস্থিতি কোষে জমে থাকা ময়লা পরি্ষ্কার করতে শুরু করে। এতে শরীরের কোষগুলি পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে। বার্ধক্যকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে। নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে অটোফ্যাজি শরীরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন সরাতে সাহায্য করে, বিপাকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে, বার্ধ্যককে দূরে রাখতেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ওই গবেষণাপত্রে এ কথাও বলা হয়েছে, খুব বেশি সক্রিয় হলে তা শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। চিকিৎসকেরও বক্তব্য, এই ধরনের উপোস অল্প সময়ের জন্য কিছু দিন করলে খানিকটা ওজন কমতে পারে। ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের ফলে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উপোস করলে ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। শরীরের নিজস্ব ডিটক্স বা বিষমুক্ত করার প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই এ ধরনের কোনও পদ্ধতি মানার বদলে অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করলে কাজ হবে বেশি।





