RK NEWZ সমীক্ষা অনুযায়ী,
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) জিততে পারে ১০০–১১৫টি আসন।
বিজেপি (BJP) ১৫৫–১৭০টি আসনে জিততে পারে।
অন্যান্যরা জিততে পারে ৫–৯টি আসন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ (West Bengal Election 2026) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবাসরীয় বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, এবার রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হবে দু’দফায়। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল। সব দফার ভোট গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। এই ঘোষণার পরই পরই এদিন প্রকাশ হয়েছে নতুন জনমত সমীক্ষা (West Bengal Opinion Poll 2026)। RK NEWZ সমীক্ষা বলছে, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে এগিয়ে থাকলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে ব্যবধান খুব বেশি নয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী তৃণমূল ফের সরকার গঠন থেকে বিরত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে লড়াই জমিয়ে টেক্কা দিতে পারে। ভোট শতাংশে ব্যবধান আরও কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে জনমত সমীক্ষায়। দেখা যাচ্ছে, দুই প্রধান শক্তির মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। তৃণমূল পেতে পারে ৪১–৪৩ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেতে পারে ৪৩–৪৫ শতাংশ ভোট। অন্যান্যরা ১৩–১৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে। অর্থাৎ ভোটের শতাংশে লড়াই কার্যত হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা। জনমত সমীক্ষায় সব সময়ে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না। তুলনায় বুথ ফেরত সমীক্ষায় অনেক স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তা ছাড়া স্যাম্পেল সাইজ সহ বহু বিষয়ের উপর ফলাফল নির্ভরশীল।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসাব দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনে। খসড়া তালিকায় যে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে শুনানির জন্য চিহ্নিত হন প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটার। এর মধ্যে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। এই ভোটারেরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র তালিকায় শুনানিতে ডেকে পাঠায় কমিশন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়। তাঁদের মধ্যে ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে ইআরও এবং এইআরও-দের সঙ্গে সহমত হয় কমিশন। তারা জানায়, শুনানিতে বাছাই করে মোট ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়। তার পরে প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। তার মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিবেচনাধীন পর্যায়ে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করছেন বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছেন। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৭০০ জনের বেশি বিচারক ওই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা প্রকাশ করল কমিশন।
জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে তালিকা পৌঁছে গিয়েছে। রাতে নিষ্পত্তির দু’টি আলাদা তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। একটিতে রয়েছে কাদের নাম উঠল। এবং অন্যটিতে বাদ পড়াদের নাম রয়েছে। রাত থেকে অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অতিরিক্ত তালিকা দেখতে পাবেন ভোটারেরা। বিবেচনাধীন ভোটারেরা তাঁদের এপিক নম্বর দিয়ে তালিকায় নাম রয়েছে কি না জানতে পারবেন। শুক্রবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৪০ হাজার বুথের তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে সেই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। দু’টি উপায়ে ট্রাইবুনালে আপিল করা যাবে। এক, অনলাইনে। দুই, অফলাইনে। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন করা যাবে। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমাশাসকের কাছে অফলাইনেও আবেদন করা যাবে। এই ট্রাইবুনাল এখন থেকেই কাজ শুরু করতে পারবে। সব আপিল নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এই ট্রাইবুনাল আর থাকবে না।





