Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মহমেডানকে ৭ গোলে হারাল ইস্টবেঙ্গল!‌ বিষ্ণু-আনোয়ারদের দাপটে লন্ডভণ্ড সাদা কালো শিবির

ইস্টবেঙ্গল ৭ (আনোয়ার ২, এজেজারি ২, ক্রেসপো, বিষ্ণু, নন্দকুমার)
মহমেডান ০

যুবভারতীতে মহমেডান স্পোর্টিংকে ৭-০ হারিয়ে আইএসএলে জয়ে ফিরল লাল-হলুদ। আইএসএলে জয়ে ফিরল লাল-হলুদ। জোড়া গোল করলেন আনোয়ার আলি এবং ইউসেফ এজেজারি। পয়েন্ট তালিকায় চারে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। আইএসএলের ইতিহাসে বৃহত্তম জয়ের নিরিখেও এটি যুগ্ম ভাবে শীর্ষে। ২০১৫-য় মুম্বই সিটিকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল এফসি গোয়া। আইএসএলে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট হল ইস্টবেঙ্গলের। পয়েন্ট তালিকায় তারা উঠে এল চার নম্বরে। চলতি প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গোল হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের। ৭টি ম্যাচে ১৬টি গোল করল তারা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোহনবাগান (১৪)। পাশাপাশি, এ দিনের ম্যাচে ২০টি কর্নার পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মহমেডান একটিও পায়নি। ফলে দু’দলের পার্থক্য বোঝা গিয়েছে এই একটি পরিসংখ্যানেই।

ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়োকে নিঃসন্দেহে চিন্তায় রাখবে দলের গোল নষ্টের প্রবণতা। এজেজারি প্রতিটি ম্যাচেই যে ভাবে সহজ সব গোল মিস‌্‌ করছেন তা চোখে দেখা যাচ্ছে না। এ দিনও শুরুতেই তিনি সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেন। গোটা ম্যাচে ডেভিড লালানসাঙ্গা, পিভি বিষ্ণুরা একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে গেলেন। না হলে আইএসএলের ইতিহাসে সেরা ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত ইস্টবেঙ্গল। ব্রুজ়োকে মনে রাখতে হবে, সব ম্যাচে দল এত সুযোগ পাবে না। তখনও এ ভাবেই নষ্ট করলে তার খেসারত দিতে হবে দলকে। ইস্টবেঙ্গল কী মনোভাব নিয়ে নেমেছে তা বোঝা গিয়েছিল প্রথম মিনিট থেকেই। শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় লাল-হলুদ। গোলের সামনে পদম ছেত্রীকে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি এজেজারি। ছ’মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন আনোয়ার। দূর থেকে গড়ানো শট গোলে ঢোকে। তবে পদম এ ক্ষেত্রে অনেক ভাল ভূমিকা নিতে পারতেন। তিনি বল বার করতে চেয়েছিলেন তালু দিয়ে। তা না করে আর একটু এগোলে বল ধরে ফেলতে পারতেন। ১২ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বক্সে। সাউল ক্রেসপোর বদলে এজেজারি পেনাল্টি মারতে যান এবং গোলও করেন। ধন্যবাদ জানান ক্রেসপোকে। চার মিনিট পর আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন এজেজারি। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা বিষ্ণুর ক্রসে ঠিক করে পা ছোঁয়াতেই পারেননি। কিছু ক্ষণ পর সুযোগ নষ্ট করেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। পদমকে সামনে একা পেয়েও সরাসরি তাঁর গায়েই মারেন।

৩৪ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। এডমুন্ডকে পিছন থেকে টেনে ফেলে দিয়েছিলেন জোসেফ আদজেই। কিছু ক্ষণ আগেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। এই ঘটনার পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। ফলে ৩৪ মিনিটেই দশ জনে হয়ে যায় মহমেডান। এ বার পেনাল্টি থেকে গোল করেন ক্রেসপো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এডমুন্ডকে তুলে নাওরেম মহেশকে নামান ব্রুজ়ো। তাতে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গলের দাপট ছিল আগের মতোই। তবে একের পর এক কর্নার পেলেও তারা কোনওটিই কাজে লাগাতে পারছিল না। ৫৩ মিনিটে তৃতীয় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। এ বার পদম বক্সে ফেলে দেন মিগুয়েলকে। পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এজেজারি। চতুর্থ গোলের পরেই মহমেডান হাল ছেড়ে দেয়। তাদের শরীরীভাষা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল ম্যাচ খেলার ইচ্ছেটাই নেই। দশ জনে হয়ে যাওয়ায় আরও ক্লান্ত দেখাচ্ছিল গোটা দলকে। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ কোনও মতে সামলাচ্ছিল তারা। একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছিল না ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের পঞ্চম গোল হয় ৭৪ মিনিটে। এ বার ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস বুক দিয়ে ঠেলে গোলে ঢোকান বিষ্ণু। ষষ্ঠ গোল করেন আনোয়ার। মহেশের নিচু কর্নার ঠিক করে ক্লিয়ার করতে পারেনি মহমেডান। চলতি বলে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন আনোয়ার। ৮৫ মিনিটের মাথায় ডান দিক থেকে দারুণ একটি দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন নন্দকুমার। বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। নন্দই ইস্টবেঙ্গলের সপ্তম গোল করেন, যা মনে পড়িয়ে দেয় বছর কয়েক আগে ডুরান্ড কাপে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তাঁর করা গোলের কথা। ডান দিক থেকে বল নিয়ে এগোতে এগোতে আচমকাই কাট করে ভেতরে ঢুকে এসে বাঁ পায়ের মাপা শটে গোল করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles