খেলার মাঠ ছেড়ে এবার রাজনীতির আঙিনায় অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তৃণমূল পরিবারের সদস্য হতে চলেছেন জলপাইগুড়ির রাজবংশী পরিবারের মেয়ে স্বপ্না। আজ শুক্রবার, কলকাতায় তৃণমূল ভবনে দলের পতাকা হাতে নেন। ছিলেন গৌতম দেব, ব্রাত্য বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জয় করেছিলেন জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না বর্মণ। তারপরই জানিয়েছিলেন অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে আর নামবেন না বলেই ভাবছেন তিনি। কারণ, তাঁর পিঠের চোট। স্বপ্না এখন নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের কর্মী। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল রাজনীতির ময়দানে দেখা যাবে তাঁকে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি। এসবের মাঝেই চলতি বছর জানুয়ারিতে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্জুন পুরষ্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মণকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই নতুন জল্পনা শুরু হয়। তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে জল্পনায় সিলমোহর। আজ, শুক্রবার তৃণমূলে যোগ দেন। কলকাতায় তৃণমূল ভবনে গৌতম দেব, ব্রাত্য বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে নেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। ওয়াকিবহল মহলের ধারণা, ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁকে টিকিটও দিতে পারে দল। প্রসঙ্গত, কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল বিজেপিতে যোগ দেবেন স্বপ্না। প্রার্থীও হবেন সেই গুঞ্জনও ছিল। যদিও এবিষয়টি কোনওদিনই খোলসা করেনি পদ্মশিবির।
ভোটের বাদ্যি কার্যত বেজে গিয়েছে! খুব জোর ১ মাস। তারপরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মহিলা ভোট ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল। সেই লক্ষ্যেই দোলের দিন থেকেই নানা কর্মসূচি নিল রাজ্যের শাসক দল। ‘বসন্ত আজ বঙ্গে, মহিলাদের সঙ্গে’–নাম দিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তৃণমূল। এই ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার সর্বস্তরের মহিলাদের জন্য কী কী করেছে, তা নিয়ে প্রচার চালানো হবে। তবে তৃণমূলের দাবি, এই কর্মসূচি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। মার্চ মাসের ৩ তারিখ দোল পূর্ণিমা। সেই দিনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবীর খেলে জনসংযোগ সাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪ তারিখ হোলির দিন রক্তদান শিবির করা হবে। জেলা সদরে এই কর্মসূচি নেওয়া হবে। তারপর থেকে মহিলাদের উন্নয়নে রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প কী কী সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সেই কথা তুলে ধরে প্রচার চালানো হবে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস। মহিলা দিবসকে সামনে রেখে দুই দিন কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। ৭ তারিখ জেলা সদরগুলিতে মিছিল করা হবে। ‘ন্যায়, সম্মান সঙ্গে শান্তি, তার সঙ্গে আশা, নারী ক্ষমতায়নে দিদিই ভরসা’, এই ব্যানারে মিছিল করা হবে। কলকাতায় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করা হবে। অন্যদিকে ৮ মার্চ ‘লক্ষ্য ঘরে লক্ষ্মীরা’, কর্মসূচি তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ৩ হাজার ৩৫৪টি অঞ্চলে ২০টি বাড়িতে ও ও ১২৮টি পুরসভার মধ্যে ২ হাজার ৯৯৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি বাড়িতে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেখানে মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের গ্রহণ করা বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী-সহ একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এটা এমন নয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে। অনেকে বলছে ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। মানুষের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য এই কর্মসূচি।”





