শুক্রবার বিকেলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এসে পিচ পরীক্ষা করেন। তার পর আউটফিল্ড-সহ পুরো মাঠ ঢেকে দেওয়া হয়।রবিবার ইডেনে ভারতের ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ ম্যাচে রানের বন্যা, আশ্বাস পিচ নির্মাতার। উইকেট দেখে গেলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেমিফাইনালে যেতে গেলে ইডেন গার্ডেন্সে হারাতেই হবে ক্যারিবীয়দের। সেই ম্যাচে রানের বন্যা দেখা যেতে পারে। ইঙ্গিত দিয়েছেন পিচ নির্মাতা সুজন মুখোপাধ্যায়। বিশ্বকাপে ভারত প্রথম বার ইডেনে খেলতে নামছে। অন্য দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় গ্রুপ পর্বে দু’টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। দু’টিতেই জিতেছে। গ্রুপ পর্বের যে ম্যাচে ২০০ রান তুলেছিল স্কটল্যান্ড, সেই পিচেই ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ হবে বলে জানা গিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেনে দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল স্কটল্যান্ড এবং ইটালির মধ্যে। সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে স্কটল্যান্ড ২০৭/৪ তোলে। সেই পিচেই ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ হবে। সৌরভের সঙ্গে সুজন এবং বোর্ডের মুখ্য পিচ নির্মাতা আশিস ভৌমিকের কিছু ক্ষণ আলোচনা হয়। দুই প্রান্ত থেকে নিবিড় ভাবে পিচ পরীক্ষা করেন সৌরভ। পরে সংবাদ সংস্থাকে সুজন বলেন, “পিচের প্রস্তুতি নিয়ে সৌরভ খুশি। বিশ্বকাপে ইডেনে হওয়া দ্বিতীয় ম্যাচের পিচই ব্যবহার করা হচ্ছে। ইডেনের প্রথামাফিক পিচই তৈরি হচ্ছে। রানও যেমন দেখা যাবে, তেমনই বোলারদের জন্যও কিছু থাকবে।” ম্যাচে শিশিরের প্রভাব থাকবে ভাল মতোই। যদিও আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, রবিবার শিশির পড়ার সম্ভাবনা বিশেষ নেই। ফলে টস প্রভাব ফেলবে না। পিচে শুষ্কতা থাকায় স্পিনারেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। তবে অতীতে ইডেনের পিচে পেসারেরাও বাউন্সের সাহায্য পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের ম্যাচে দেখা গিয়েছিল, জফ্রা আর্চার পিচের সাহায্য নিয়ে ভাল বল করেছেন। ফলে ভারতের জসপ্রীত বুমরাহ এবং অর্শদীপ সিংহের কাছেও সুযোগ থাকছে পিচ কাজে লাগানোর।
শুক্রবারই কলকাতায় পৌঁছে গেল ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। রবিবার এই শহরেই সুপার এইটের ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা। ইডেনে সেই ম্যাচের উপরেই নির্ভর করবে, দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসাবে কারা সেমিফাইনালে উঠবে। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলই শুক্রবার কলকাতায় আসার কথা ছিল। আগে ভারতের আসার কথা ছিল। চেন্নাই থেকে বিমানে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কলকাতায় আসার কথা ছিল সূর্যকুমার যাদবদের। কিন্তু শুক্রবার বেলা ১.২২ মিনিট নাগাদ কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তার তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৫। সেই কারণে সূর্যদের বিমান অবতরণে দেরি হয়। ভূমিকম্পের কারণে বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আফটারশকের আশঙ্কা থাকায় তা কিছু ক্ষণ বন্ধ ছিল। আবার রানওয়ে খোলার পর বিমান অবতরণ শুরু হয়। যে বিমানে ভারতীয় দলের আসার কথা ছিল, তা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা দেরিতে নামে। অহমদাবাদ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দলও কলকাতায় এসেছে। তবে তাদের আশার কথা পরেই ছিল। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটারেরা যে বিমানে ছিলেন, তা নির্ধারিত সময়েই অবতরণ করেছে। দুই দলই বাইপাসের ধারের দু’টি হোটেলে রয়েছেন। শনিবার থেকে ইডেনে অনুশীলন করার কথা ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের। শুক্রবার কালীঘাট মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতীয় দলের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের। বিমান অবতরণে দেরি হওয়ায় সেই সূচিতেও বদল হয়েছে। শনিবার কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন গম্ভীর।
মাঠে সূর্যকুমার-অভিষেকদের ব্যাট থেকে রানের ফুলঝুরি দেখার জন্য মুখিয়ে ক্রিকেটভক্তরা। কিন্তু ইডেন কোনও ভাবেই খালি হাতে ফেরাবে না দর্শকদের। থাকছে লেজার শো। এছাড়া দেশাত্মবোধক গানও থাকছে। যার মধ্যে একটা বাংলা ভাষায়। বাজবে ‘ধুরন্ধর’-এর গান। এখানেই শেষ নয়। দর্শকদের উন্মাদনার জন্য স্লোগান উঠবে ‘বন্দে’। দর্শকরা উত্তর দেবেন ‘মাতরম’। এরপরও কি ‘জাগবেন’ না সূর্যকুমাররা? ক্রিকেটের নন্দনকানন যে সেদিন হাউসফুল থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। তার সঙ্গে চলছে টিকিটের দেদার কালোবাজারি। শুক্রবার লোয়ার টিয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। শনিবার টাকার অঙ্কটা ৫০ হাজারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। তাছাড়াও আপার টিয়ারের টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকায়। ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়। বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আরেকটা আশঙ্কা সেমিফাইনালে ইডেন কোন ম্যাচ পাবে কি না। তাই সুপার এইটের ম্যাচেই সুদে-আসলে ‘আনন্দ’ পুষিয়ে নিতে চাইছেন।





