১ মার্চ ইডেন গার্ডেন্সে মুখোমুখি ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনার পারদ। খেলা দেখে যাতে বাড়ি ফিরতে সমস্যায় না পড়তে হয়, তার ব্যবস্থা করল কলকাতা মেট্রো রেল। ম্যাচের পরও মিলবে মেট্রো পরিষেবা। গ্রুপ পর্বে ভারতের কোনও ম্যাচ পায়নি কলকাতা। সেমিফাইনাল ফাইনালেও অন্য রাজ্যে। ইডেনে সূর্যকুমারদের দেখার একটাই সুযোগ ক্রিকেটভক্তদের কাছে। তা হল, সুপার এইটে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে। যে ম্যাচ শুরু হবে রবিবার সন্ধে ৭টায়। অর্থাৎ খেলা শেষ হতে হতে সাড়ে ১০টা বাজবে। কিন্তু স্টেডিয়াম থেকে গন্তব্য ফিরতে সমস্যা হবে না মেট্রো যাত্রীদের। ব্লু লাইনে চলবে অতিরিক্ত মেট্রো। এসপ্ল্যানেড একটি মেট্রো রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাবে দক্ষিণেশ্বর। একই সময় অন্য মেট্রোটি এসপ্ল্যানেড থেকে যাত্রীদের পৌঁছে দেবে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত। মাঝের প্রতিটি স্টেশনেই দাঁড়াবে ওই মেট্রো। এসপ্ল্যানেড স্টেশনের টিকিট কাউন্টারও খোলা থাকবে সেই সময়। এমনিতে ইডেনে আইপিএলের ম্যাচ থাকলে, সেই সমস্ত দিন অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা পাওয়া যায়। এবার ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিনও মিলবে পরিষেবা। ইডেনেই নিশ্চিত হবে যে আদৌ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত পৌঁছবে কি না। রবিবারের খেলা দুই দলের কাছেই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে দল জিতবে, সে সেমিতে। অন্য দল টুর্নামেন্টকে বিদায় জানাবে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে চাঙ্গা হার্দিকরা। এবার ক্যারিবিয়ান বধের লক্ষ্যে ইডেনের ২২ গজে নামবেন তাঁরা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের খেলা দেখতে মুখিয়ে দর্শক। ক্রিকেটের নন্দনকানন যে সেদিন হাউসফুল থাকবে, বলাই বাহুল্য।
টো ম্যাচের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে ভারত। রবিবার ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সূর্যকুমার যাদবদের ম্যাচটা একপ্রকার কোয়ার্টার ফাইনাল। আর সে ম্যাচ খেলতে শুক্রবার শহরে এসেই কালীঘাট মন্দিরে ছুটতে চলেছেন দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। পাশাপাশি এবার দলবল নিয়ে নিজের পয়া হোটেলে থাকতে চলেছেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটে নাগাদ চেন্নাই থেকে শহরে আসছে টিম ইন্ডিয়া। আহমেদাবাদ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসবে তারও ঘটা দেড়েক পর। বিকালে শহরে এসেই সন্ধ্যায় কালীঘাটে পুজো দিতে যাওয়ার কথা রয়েছে গম্ভীরের। এমনিতে দলের সঙ্গে ভারতের যে শহরেই যান না কেন, সেখানে পরিচিত মন্দিরে ঢুঁ মেরে আসেন তিনি। আর কেকেআরে খেলার সময় থেকেই নিয়মিতভাবে কালীঘাটে যান গম্ভীর। কিছুদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট খেলতে কলকাতা এসেও তিনি পুজো দিয়েছেন সেখানে। সায়েন্স সিটির উল্টোদিকের হোটেলের সঙ্গেও গম্ভীরের সম্পর্ক দেড় দশকের পুরনো। কেকেআরে খেলার সময় থেকেই সেখানে থাকেন তিনি। অধিনায়ক ও মেন্টর হিসেবে যে তিনটে আইপিএল গম্ভীর জিতেছেন, সব ওই হোটেলে থেকে। ফলে কার্যত নকআউট ম্যাচ খেলতে এসে সেখানেই ঠাঁই নিচ্ছেন তিনি। সঙ্গে পুরো দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য থাকছে পাশেই সেই হোটেলের নবনির্মিত বিভাগে। ভারতীয় দলও অতীতে এসে থেকেছে সেই নতুন হোটেলে। কিন্তু এবার ‘পয়া’ হোটেলেই ভরসা রাখছেন গম্ভীর। প্রোটিয়ারা জিতে যাওয়ায় আর কোনও কঠিন সমীকরণ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা চলে গিয়েছে সেমিফাইনালে। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসাবে কে উঠবে শেষ চারে, সেটা ১ মার্চই ঠিক হবে। ইডেনে সেদিন ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ ম্যাচ। যে জিতবে, সে সেমিতে। অন্য দল ফিরবে বাড়ি। নকআউট ম্যাচের আগে মন্দির-পয়া হোটেল সমস্ত কিছুতেই আস্থা রাখছেন গুরু গম্ভীর।





